বিগত সরকারে জাতীয় পার্টি থেকে একমাত্র মন্ত্রী ছিলেন তিনি। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিগত জাতীয় নির্বাচন হঠাৎ করেই তাকে অনেকটা দূরে ঠেলে দিয়েছে রাজনীতি থেকে। দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় তিনি এমপি হতে পারেননি। যদিও তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হয়নি বলে নির্বাচন অফিস জানিয়েছিল। নির্বাচনের পর তার দল সরকার ও বিরোধী দলে অংশ নিয়েছে। দলের ভেতর চলছে নানা মেরুকরণ। কিন্তু কোথাও নেই জিএম কাদের। নির্বাচনের সময় পার্টি চেয়ারম্যান ও ভাই এরশাদের পাশে জোরালো অবস্থানে থাকলেও ক্রমে দৃশ্যপট থেকে সরে যেতে থাকেন তিনি। সম্প্রতি দলীয় কার্যক্রম থেকেও অনেকটা নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। বাসাই একান্তে সময় কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। রোববারের প্রেসিডিয়াম বৈঠকেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। যেন নির্বাসনে রয়েছেন উত্তরার ৩৩ নম্বর রোডের ৯/এ বাড়িতে। রহস্যময় এ নির্বাচনে সময় কাটছে বই পড়ে ও লেখালেখি করে। তার একান্ত সহকারী ও ঘনিষ্ঠরা এমনই তথ্য দিয়েছেন। এরশাদকে সিএমএইচ-এ নেয়ার পর জিএম কাদের ও রুহুল আমীন হাওলাদারকে দলের মুখপাত্র করা হয়। ববি হাজ্জাজকেও এরশাদ সিএমএইচ থেকে দলের মুখপাত্র করেন। দু-একদিন এরশাদের পক্ষে বক্তব্য দেয়ার পর তাকে জোরপূর্বক লন্ডনে পাঠিয়ে দেয় বলে ববির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এরশাদ সিএমএইচ-এ থাকাকালে জিএম কাদের ও রুহুল আমীন হাওলাদার তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। যদিও এক পর্যায়ে জিএম কাদেরও সিএমএইচ-এ এরশাদের সঙ্গে আর দেখা সাক্ষাৎ পাননি। তবে ভাইয়ের নির্দেশে নীলফামারী সদর আসন থেকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তবে অনেক নাটকীয়তার পর হয়ে যাওয়া নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন থেকে এমপি হিসেবে শপথ নেন এরশাদ। অংশ নেন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানেও। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়ে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার পর ১৩ই জানুয়ারি সন্ধ্যায় সিএমএইচ থেকে বাসায় ফেরেন তিনি। নির্বাচন বর্জন করলেও ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ৩৩ জন এমপি হয়েছেন। তবে এরশাদের পক্ষ নেয়া তার ভাই জিএম কাদের এমপি হতে পারেননি। এরশাদের নির্দেশে দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ সরকারকে কয়েকটি শর্ত দিয়েছিলেন এরশাদ। তার কিছু্ই হয়নি এ পর্যন্ত।
পরে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হওয়ার জন্য জিএম কাদেরের স্ত্রী শারিফা কাদের এরশাদের বনানী অফিসে এসে সাক্ষাৎকার দেন। এতেও কোন কাজ হয়নি রওশন এরশাদের বিরোধিতার কারণে। সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকেও ছিটকে পড়েন শারিফা। এ থেকে আরেক দফা মন ক্ষুণ্ন হন কাদের। সর্বশেষ তাকে দলীয় অফিসে নতুন মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলুর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক ঝলক দেখা গেলেও রোববারের প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। কেন জিএম কাদের আসেননি প্রেসিডিয়াম বৈঠকে? এ প্রশ্নে মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, হয়তো ব্যক্তিগত কোন কারণে তিনি আসতে পারেননি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, জিএম কাদেরের সময় কাটছে বই পড়ে ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লেখালেখি করে। কয়েকটি বই প্রকাশ করারও পরিকল্পনা রয়েছে তার। স্বাস্থ্য সচেতন জিএম কাদের প্রতিদিন ব্যায়াম করেন। তবে তার কোন সুনির্দিষ্ট সময় নেই। দিনের যে কোন একটি সময় বের করে তিনি ব্যায়াম করেন। এ কারণে চোখের সমস্যা ছাড়া শারীরিক অন্য কোন সমস্যা নেই তার। পাশাপাশি উত্তরা ও তার নির্বাচনী এলাকা উত্তরবঙ্গের লোকজন দেখা-সাক্ষাৎ করতে এলে তাদের কথা শোনেন জিএম কাদের। এরশাদের সঙ্গেও দেখা করতে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে মাঝেমধ্যে যান। তবে তা আগের থেকে কম। কৌশল হিসেবে এরশাদের পরামর্শেই সেখানে কম যান বলে জাতীয় পার্টির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন। দেখা-সাক্ষাৎ হলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে রাজনীতি বিষয়ে আলাপ করতে নারাজ জিএম কাদের।








