ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের এমডিসহ ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

0
271
Print Friendly, PDF & Email

ওরিয়েন্টাল ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় ওই ব্যাংকের এমডিসহ সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার বিকেলে মতিঝিল থানায় এ চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক সূত্র।

যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে তারা হলেন- ওরিয়েন্টাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রিন্সিপাল শাখার ব্যবস্থাপক শাহ মো. হারুন, একই শাখার সাবেক সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কিউ মাহমুদুল্ল্যাহ, সাবেক এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফজলুর রহমান, সাবেক এক্সিকিউটিভ অফিসার তারিকুল আলম, সাবেক এক্সিকিউটিভ অফিসার কামরুল ইসলাম এবং ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইমামুল হক।

দুদক সূত্র শীর্ষ নিউজকে জানায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে নিজেরা লাভবান হওয়ার আশায় রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে ‘মেসার্স সাইবার টেলিলিংক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। আর পেয়ার আহম্মেদ নামে এক দরিদ্র ব্যক্তিকে এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে নিযুক্ত করেন। পরে ২০০৫ সালের ২০ জুলাই সেই পেয়ার আহম্মেদের নামে ওরিয়েন্টাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রিন্সিপাল তথা মতিঝিল শাখায় ৫০০ টাকায় একটি হিসাব নম্বর খোলেন। পরে ২০০৫ সালের ২১ জুলাই ওই প্রতিষ্ঠানটির বিপরীতে ওই হিসাব নম্বরের মাধ্যমে ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল শাখায় এক কোটি টাকার ঋণের জন্য আবেদন করে। একই দিনে ব্যাংকটির প্রধান শাখা থেকে আবেদনটি মঞ্জুর হয়ে ঋণ প্রদানের জন্য প্রিন্সিপাল শাখায় ৯৫ লাখ টাকা পাঠানো হয়। পরে আসামিরা ওই অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানটির নামে এক কোটি ১০ লাখ টাকার মর্টগেজ দেখিয়ে এক কোটি টাকা উত্তোলন করেন।

এত অল্প সময়ের মধ্যে এতগুলো টাকা উত্তোলন করার ব্যাপারে সন্দেহাতীতভাবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দুদকে অভিযোগ করলে দুদক তার অনুসন্ধান শুরু করে।

পরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-২ এর সহাকারি পরিচালক মো. সামছুল আলমের অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। পেয়ার আহম্মেদকে এসব ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ওরিয়েন্টাল ব্যাংকে একটি হিসাব নম্বর খোলা ছাড়া এসবের কিছুই জানতেন না বলে জানান। তিনি মাত্র তিন হাজার টাকা বেতনে যাত্রাবাড়ির তাজসুপার মার্কেটের সিটিকম নামক একটি দোকানে কাজ করেন বলেন দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়।

সূত্রটি আরো জানায়, ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম বাদি হয়ে ২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর মতিঝিল থানায় একটি মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শেষে ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি এ মামলার চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয় কমিশন।

শেয়ার করুন