ফেনীতে সাম্প্রতিক সময়ে গুম-খুন ও অপহরণ বেড়ে চলেছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এসবের শিকার হওয়ায় সর্বত্র আতংক বিরাজ করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার কারনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯ এপ্রিল কাজ শেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের মুহুরীগঞ্জ ইকবাল সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনের সামনে আসলে বাদশার নেতৃত্বে ৭-৮ জন যুবক যুবদল নেতা শাহীনুর আলম সুমনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মৃত ভেবে চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে দেয়। এঘটনায় জড়িত সন্দেহে গিয়াস উদ্দিন নামের একজন কে গ্রেফতারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
অপহরনের ১২ দিন পর ১৪ এপ্রিল সকালে দেওয়ানগঞ্জ রেল ক্রসিং সংলগ্ন স্থান থেকে শহীদুল ইসলাম নামের এক যুবলীগ কর্মীর তবিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকারীরা তার চোখ উৎপাটন ও পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেছে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বারাহিপুর এলাকার মকবুল আহমদ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত আসামী দেখিয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
১২ এপ্রিল ছাগলনাইয়ার রাধানগর ইউনিয়নের মধুগ্রামে ছালেহ আহম্মদের বাড়ীর একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে মো: ছিদ্দিকুর রহমান নামের এক দিনমজুরের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
১১ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফেনী শহরের পুরাতন রেজিষ্ট্রি অফিস সংলগ্ন ভূঞা বাড়ীর সামনে স্ত্রীর সামনে রামপুর নজির আহম্মদ সওদাগর বাড়ির অধ্যাপক এম এ খায়েরের ছেলে ও ব্যবসায়ী কায়সার মাহমুদকে ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া নিহতের স্ত্রী শাহনাজ নাদিয়া কারাগারে রয়েছেন।
১১ এপ্রিল দাগনভূঞা উপজেলার করমুল্লাপুর গ্রাম থেকে উদ্ধারকৃত মহিলার (৪০) লাশের পরিচয় এখনো মিলেনি। ময়না তদন্ত শেষে নিহতের লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে ফেনী পৌরসভার নিজস্ব কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এব্যপারে পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
৯ এপ্রিল দাগনভূঞার করমুল্লাহপুর গ্রামে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনীতে ওসমান গনি ও সাহাব উদ্দিন নামের দুই ব্যাক্তি নিহত হন।
৩ এপ্রিল ফেনী-মাইজদী সড়কের কাশিমপুরে প্রাইভেটকার ছিনতাই করতে চালক এনামুল হক স্বপনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
২৫ শে মার্চ লেমুয়ার যুবদল নেতা আবুল কালামের মস্তকবিহীন লাশ কালিদাস পাহালীয়া নদী থেকে উদ্ধার করে। ঘটনার প্রায় ১ মাস হতে চললেও মস্তক উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
অপরদিকে ২০ মার্চ রাত ৩ টার দিকে র্যাব পরিচয়ে অপহরন হওয়া ফেনী শহর যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান রিপন অপহরনের একমাস পার হলেও তার কোন হদিস মিলেনি। তাকে ফিরে পাওয়ার আশায় অপোর প্রহর গুনছে নিশাত ও ফারিয়া নামের দুই শিশু সন্তান, পরিবারের সদস্যসহ দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্খীরা। এছাড়া অপহরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, উল্লেখিত ঘটনায় জড়িতদের অনেককেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অপর আসামীদের ধরতে পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।






