ন্যায্য হিস্যা না পেলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নয় : বিএনপি

0
271
Print Friendly, PDF & Email

তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না পেলে ভবিষ্যতে আরও কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। লংমার্চ শেষে গতকাল দুপুরে ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজের সামনে এক সমাবেশে দলের নেতারা বলেছেন, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় বাংলাদেশের ১০ হাজার কিউসেক পানির প্রয়োজন। এক লংমার্চে ৩ হাজার ৬ কিউসেক পানি বেড়ে গেছে। সম্পর্ক সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করতে চাইলে ভারতকে ১০ হাজার কিউসেক পানি দিতে হবে। আমরা ভিক্ষা চাই না, ন্যায্য হিস্যা চাই। ন্যায্য হিস্যা না দিলে ভারতের সঙ্গে কোনো সুসম্পর্ক নয়। তিস্তায় পানি যত বাড়বে সম্পর্ক তত উন্নতি হবে। পানি না দিলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সমাবেশের আগের দিন মঙ্গলবার শুকনো তিস্তা ব্যারাজে হঠাৎ পানিপ্রবাহ বেড়ে গেলেও গতকাল ছিল পুরনো চিত্র।

দুই দিনব্যাপী লংমার্চের শেষ দিন গতকাল নীলফামারীর তিস্তা ব্যারাজসংলগ্ন ডালিয়া পয়েন্টে সমাবেশে জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর), ইসলামী ঐক্যজোট ও জাগপার কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে দেখা গেলেও অন্য দলের নেতাদের দেখা যায়নি। এ ছাড়া লংমার্চে চরম সমন্বয়হীনতাও লক্ষ্য করা গেছে। শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেওয়ার সময় সমাবেশের মূল মাঠ অনেকাংশে ফাঁকা ছিল। অবশ্য প্রখর তাপদাহের মধ্যে সমাবেশস্থলের আশপাশে বিভিন্ন গাছের ছায়ায় নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করা যায়। বিএনপির সিনিয়র অনেক নেতাই ছিলেন অনুপস্থিত। সমাবেশ কেন্দ্র করে কর্মসূচিস্থলের আশপাশে বেশকিছু অস্থায়ী হোটেল ও খাবারের দোকান বসে। রংপুর ও রাজশাহীর ১৬টি জেলা থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। প্রখর রোদের মধ্যে সকাল ১০টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত সমাবেশ চলে। তবে সমাবেশের শেষের দিকে নেতা-কর্মীরা চলে যেতে থাকেন। নীলফামারী জেলা বিএনপি আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সরকার ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি করতে পারবে না। কারণ এ সরকার অনির্বাচিত ও অবৈধ। ভারতকে ধরে তারা (সরকার) ক্ষমতায় আছে। সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চাইলে ভারতকে ১০ হাজার কিউসেক পানি দিতে হবে। আমরা ন্যায্য হিস্যা না পেলে ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক থাকবে না। আওয়ামী লীগ সরকারের নতজানু নীতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা কখনো তিস্তা পানি চুক্তি করতে পারবে না। কারণ যাদের শক্তিতে তারা ক্ষমতায় আছে, তাদের তারা (আওয়ামী লীগ) অখুশি করতে চায় না। বিএনপি নেতারা বলেন, আমরা ভারতের কাছ থেকে বকশিশ বা ভিক্ষা চাই না। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই। আওয়ামী লীগ তাদের অবৈধ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে ভারতকে শুধু দিয়েই যাচ্ছে। সকাল ১০টার দিকে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির পথসভা থেকে লংমার্চের বিশাল গাড়িবহর ৯৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে দুপুর ১২টার দিকে ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় এসে পেঁৗছায়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডালিয়ার কাছ থেকে হেঁটে হাজার হাজার নেতা-কর্মী নিয়ে তিস্তা ব্যারাজের সামনে হেলিপ্যাড মাঠে সমাবেশস্থলে আসেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা ‘তিস্তা নদীর পানি দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’ ইতাদি স্লোগান দিয়ে পুরো এলাকা সরব করে রাখেন। সমাবেশে কয়েকজন নারী শিল্পী তিস্তাকে নিয়ে ভাওয়াইয়া গান গেয়ে সবার দৃষ্টি কাড়েন। তিস্তাপারে বসবাসকারী হতদরিদ্র কৃষক আসিম উদ্দিন পানির অভাবে তার দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে হৃদয়স্পর্শী বক্তব্য দেন। প্রখর রোদের মধ্যে বগুড়া, নীলফামারী, লালমনিহাট, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়সহ আশপাশ জেলার হাজার হাজার নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, হাফিজউদ্দিন আহমদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, ড. ওসমান ফারুক, শামসুজ্জামান দুদু, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আহমেদ আজম খান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ, আবদুস সালাম প্রমুখ বক্তব্য দেন। স্থানীয় নেতাদের মধ্যে রংপুরের মোজাফফর হোসেন, নীলফামারীর লুৎফর রহমান মিন্টু, আনিসুর আরেফিন চৌধুরী, লালমনিরহাটের হাফিজুর রহমান বাবলা প্রমুখ বক্তব্য দেন। এ ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হাসানাত আমিনী, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন বক্তব্য দেন। রাজশাহীর সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, শামীমুর রহমান শামীম, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর যোগদান : নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া জানান, বগুড়া থেকে বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ শতাধিক যানবাহনে করে জেলা বিএনপির কয়েক হাজার নেতা-কর্মী লংমার্চে যোগ দেন। জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে লংমার্চে রওনা হওয়ার আগে সকালে শহরের মাটিডালী বিমানমোড়ে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ভিপি সাইফুল বলেন, বিএনপি লংমার্চ শুরুর পরই ভারত তিস্তায় পানি বৃদ্ধি করেছে। পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য বর্তমানে নতজানু সরকার হটিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণের সরকার কায়েম করতে হবে।

শেয়ার করুন