জয় দিয়ে শেষ চ্যাম্পিয়ন ঢাকার

0
277
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা শেষবার জাতীয় লীগের শিরোপা জিতেছিল ২০০৬-০৭ মৌসুমে। সাত বছর পর শিরোপা-সাফল্যে সিক্ত হল তারা। কক্সবাজারে দ্বিতীয় দিনেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। কাল খুলনাকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে মোহাম্মদ শরিফের দল শেষটা করল জয় দিয়ে। সেই সঙ্গে রাজশাহীর সমান পাঁচবার জাতীয় লীগ জেতার গৌরব অর্জন করল ঢাকা। এদিকে শেষদিনে সাব্বির রহমান ও ফরহাদ রেজার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ঢাকা মেট্রোর সঙ্গে চার উইকেটের জয় নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে রাজশাহী। অপর দুই ম্যাচে জয় দিয়ে আসর শেষ করেছে রংপুর ও চট্টগ্রাম।
ষষ্ঠ রাউন্ড শেষেই শিরোপা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিল ঢাকা। শেষ রাউন্ডে রাজশাহীর কঠিন হিসাব-নিকাশ কিছুটা অপেক্ষায় রেখেছিল ঢাকাকে। কিন্তু দ্বিতীয় দিনেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের। আর শেষদিনে জয়ের রঙে নিজেদের রাঙায় তারা। মঙ্গলবার শেষদিনে জয়ের জন্য ঢাকার প্রয়োজন ছিল ১২৮ রান। হাতে দ্বিতীয় ইনিংসের নয় উইকেট। রনি তালুকদারের ৯০ রানে পাঁচ উইকেট হাতে রেখে কেল্লা ফতে করে ঢাকা। খুলনা দশ বোলার ব্যবহার করেও ঢাকার জয় রুখতে পারেনি। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিতে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে ঢাকার নুরুল হাসানের হাতে।
চট্টগ্রামে তৃতীয় দিনে ছয় উইকেট নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দিয়েছিলেন ঢাকা মেট্রোর বোলাররা। তাতে শংকায় পড়ে যায় রাজশাহীর রানার্সআপ হওয়াটা। তবে শেষদিনে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় দিয়েই ম্যাচ শেষ করেছেন আগের দিনের রাজশাহীর দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান। চার উইকেট হাতে রেখে এদিন জয়ের জন্য মুশফিকুর রহিমের দলের প্রয়োজন ছিল আরও ১৫১ রান। সাব্বির রহমান রম্মান ও ফরহাদ রেজার নৈপুণ্যে কোনো সুযোগই পাননি ঢাকা মেট্রোর বোলাররা। ১৭ রান নিয়ে দিনটা শুরু করা রুম্মানের অপরাজিত ৮৫ ও ফরহাদের অপরাজিত ৮০ রানে চার উইকেটে জয় তুলে নেয় রাজশাহী।
ফতুল্লায় বরিশালকে শেষ ম্যাচে লজ্জায় ডুবিয়েছে রংপুর। প্রথম ইনিংসে ২৮৯ রানের পর বরিশালের দ্বিতীয় ইনিংস থামে মাত্র ২২৯ রানে। ১৩৩/২ স্কোর নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ২২৯/৯-এ গুটিয়ে যায় বরিশাল। চোটের কারণে ফজলে রাব্বি ব্যাট করতে পারেননি। রংপুর প্রথম ইনিংসে করে ৫৪৩ রান। ইনিংস ও ২৫ রানের বড় জয় পায় তারা। ১৪৯ রানের ইনিংসের সুবাদে রংপুরের ধীমান ঘোষের হাতে ওঠে ম্যাচসেরার পুরস্কার।
বিকেএসপিতে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে চট্টগ্রাম বিভাগও। সিলেট বিভাগের বিপক্ষে ২৫৮ রানের বড় জয় পায় ফয়সাল হোসেনের দল। নয় উইকেট হাতে রেখে ৩৭৪ রানে পিছিয়ে থেকে কাল ব্যাট করতে নেমে ইউনুস ও আলী আকবরের বোলিং তোপে টিকতে পারেননি সিলেটের ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ১৮০ রানে থামে তাদের দ্বিতীয় ইনিংস। ইউনুস পাঁচ ও আকবর তিন উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা বিভাগ ও খুলনা বিভাগ
খুলনা প্রথম ইনিংস ২৪৩ (নিজামউদ্দিন ৪৩, জিয়াউর
রহমান ৮০। মোঃ মাসুম ৩/৬৯)।
ঢাকা প্রথম ইনিংস ২৫২ (আবদুল মজিদ ৪২, রনি তালুকদার ৪২
নুরুল হাসান ১০১। আবদুর রাজ্জাক ৬/১০১)।
খুলনা দ্বিতীয় ইনিংস ২৩২ (এনামুল হক ১১৯, ইমরুল কায়েস ৩৮।
তৈয়বুর পারভেজ ৩/৪০)।
ঢাকা দ্বিতীয় ইনিংস ৫/২২৪ (রনি তালুকদার ৯০, তৈয়বুর পারভেজ ৩৯
আবদুল মজিদ ৩৪*। মিঠুন আলী ১/১২)।
ফল : ঢাকা ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : নুরুল হাসান (ঢাকা)।

শেয়ার করুন