বৃটেন এদেশে জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র দেখতে চায়: বৃটিশ হাইকমিশনার

0
229
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশে নিযুক্ত বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন বলেছেন, বৃটেন এদেশে জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র দেখতে চায়। জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় বিরোধীদল জরুরি। জরুরি স্বাধীন মিডিয়া। জবাবদিহিতা ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনা।

সোমবার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৃটেনসহ আন্তর্জাতিক মহল এ দেশে জনগণের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন চেয়েছিল। কিন্তু, সেটা না হওয়ায় অনেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

রবার্ট গিবসন বলেন, বৃটেন এদেশে জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র দেখতে চায়। এজন্য স্বাধীন মিডিয়া, পার্লামেন্টে শক্তিশালী বিরোধী দল এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা খুবই জরুরি।

অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক স্থানীয় সরকার নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বৃটিশ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী এ্যালান ডানকানের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃটেন-বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্ক ভবিষ্যতে কিভাবে আরো গভীর ও কার্যকর করা যায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

বৃটেনে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে অবহিত। বৃটিশ সরকার কারি ইন্ডাস্ট্রির সংকট কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। কারি ইন্ডাস্ট্রির সাথে সংশ্লিষ্টদের কিভাবে সহযোগিতা করা যায় আমরা সে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

বৃটেনে স্টুডেন্ট ভিসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৃটেন সব সময় মেধাবী ছাত্রদের স্বাগত জানায়। বৃটেনে শিক্ষার মান খুবই চমৎকার। কিন্তু, সাম্প্রতিককালে কিছু লোক স্টুডেন্ট ভিসায় বৃটেনে গিয়ে পড়ালেখা বাদ দিয়ে কাজের সাথে (লো স্কিল জব) যুক্ত হচ্ছে। তারা স্টুডেন্ট ভিসার অপব্যবহার করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রবার্ট গিবসন বলেন, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সোমবার প্রথম সিলেটে এসেছেন। বৃটেনের সাথে সিলেটের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটের বিপুল সংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। এজন্য বৃটিশ হাইকমিশনের কাছে সিলেটের গুরুত্ব অত্যধিক। সিলেটে প্রবাসীদের সমস্যাবলী নিয়ে আলোচনা করতে তিনি সিলেট সফর করছেন বলে জানান হাইকমিশনার।

এ সময় বৃটিশ হাইকমিশনের পলিটিক্যাল এনালিস্ট এজাজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব, সচিব মমতাজ বেগম, ভারপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার নূর আজিজুর রহমান ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুধাময় মজুমদার।

শেয়ার করুন