বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মত বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাসহ ৭ দফা দাবিতে তারা এ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া ইন্র্টাির্ণ চিকিৎসকরা আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে হাসাপাতাল ও কলেজ ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দাবিতে প্রতিক কর্মবিরতি পালন করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে কলেজের ছাত্রী নিবাসে চুরির ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা নিশ্চিত ও চুরির ঘটনায় দায়িদের গ্রেফতারসহ ৭ দফা দাবিতে শনিবার থেকে আন্দোলন শুরু করে। তারা ক্লাস বর্জন করে প্রথম দিন মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ করে। আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে ইন্টার্ণি চিকিৎসকরা ছাত্র ছাত্রীদের দাবি ও আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে সকাল ৯টা থেকে তিন ঘন্টার প্রতিক কর্মবিরতি পালন করেন। শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তাদের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহবান জানান। শিক্ষার্থীদের এই সমাবেশে ইন্টার্ণি চিকিৎসক পরিষদের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন। এর আগে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে ঢাকা-বগুড়া বাইপাস সড়কে কিছু সময় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রেস ব্রিফিংএ জানান, ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলের নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কিত। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে হাসপাতাল ও কলেজ ক্যাম্পাসের মাঝে নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান। ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনসহ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন।
অপর দিকে কলেজের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের মাঝে হাসাপাতালে আগতদের জন্য হাসপাতালের গেট খোলা রাখার দাবি ওঠে। কিন্তু হাসপাতালের কর্মচারিরা কলেজের সামনের গেটটি খোলা রাখার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। সার্বিক পরিস্থিতিতে দুপুরে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকালে মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক, বিএমএ বগুড়ার নেতৃবৃন্দ, হাসপাতালের প্রতিনিধি, স্টাফ ও ইন্টার্ণি চিকিৎসক পরিষদ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় এ খবর লেখা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ কলেজের চারিদিকে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আশ্বাস দেন। মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. রেজাউল আলম জুয়েল জানান, আজ থেকেই কাঁটা তারের বেড়া দেয়া শুরু হবে। এ কাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।









