আন্দোলনের ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে দেখছে বিএনপি

0
229
Print Friendly, PDF & Email

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ধকল কাটিয়ে গণ-আন্দোলনে নামার প্রাথমিক যাত্রা শুরু করছে বিএনপি। প্রথম ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে আগামীকাল তিস্তা অভিমুখে লংমার্চে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯-দলীয় জোট। দশম সংসদ নির্বাচনের পর এটিই তাদের রাজপথে গণসম্পৃক্ত প্রথম বড় কর্মসূচি। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এতে অংশ না নিলেও এই লংমার্চে ব্যাপক জনসমাগম ঘটাতে চায় বিএনপি জোট। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ যাত্রাপথের এলাকাগুলোতে বিএনপি ও জোট প্রস্তুতি সভা, লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বর্তমান সরকার নতজানু সরকার। এ সরকার ক্ষমতায় এসে ভারতকে ট্রানজিট, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করার চুক্তি ও রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো দেশস্বার্থবিরোধী বেশকিছু চুক্তি করেছে। কিন্তু তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার। এর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের তিন কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। যখন বিএনপি তাদের জন্য করছে, তখন সরকারের মন্ত্রীরা অযাচিত কটাক্ষ করছেন। তারা ভারতের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। জাতীয় এ ইস্যুতে আমরা লংমার্চ করছি।’ কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, লংমার্চে বাধা দিলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। জানা গেছে, পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে তিস্তা অভিমুখী লংমার্চে চারটি পথসভা ও দুটি জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। কাল সকাল ৮টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে শুরু হবে এ কর্মসূচি। এতে ১৯-দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরাও ঢাকা থেকে রওনা দেবেন একযোগে। লংমার্চে যাওয়ার পথে গাজীপুরের কালিয়াকৈর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় পথসভা হবে। টাঙ্গাইলে পথসভা শেষে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জে কড্ডার মোড়ে তৃতীয় পথসভা করবে জোট। পরে বগুড়ায় চতুর্থ পথসভা শেষে লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা রাতে রংপুরে অবস্থান করবেন। রংপুরে মঙ্গলবার বিকালের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশটি অনিবার্যকারণবশত বুধবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। পরে তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে বেলা ১১টায় ডালিয়া এলাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে লংমার্চ। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলায় সামগ্রিকভাবে কর্মসূচি সফল করতে জোর প্রস্তুতি নিয়েছে।

লংমার্চে বাধা দেওয়া হলে জনগণই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয় স্বার্থের কর্মসূচিতে যারা বাধা দেবে, তাদের মুখোশ জনগণের সামনে উন্মোচিত হবে। জনগণ তাদের বিচার করবে। তারা গণশত্রু। লংমার্চের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে শুরু হওয়া লংমার্চ যেসব জেলার ওপর দিয়ে যাবে, সেসব এলাকার নেতাদের সর্বোচ্চ নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তারাও নিচ্ছেন জোর প্রস্তুতি।’

শেয়ার করুন