বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনা না করে ভারত ভাটিতে জলপাইগুড়ির গজলডোবায় বাঁধ দিয়েছে। এরকম পদক্ষেপ নদীসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ভারত এভাবে তাদের সেচের জন্য একতরফাভাবে তিস্তার পানি দখল করছে। তিস্তায় আগে প্রতিদিন ১৫ হাজার কিউসেক পানির প্রবাহ ছিল। কিন্তু ভারত বাঁধ নির্মাণের জন্য এই পানি প্রবাহ কমে এখন মাত্র ৫০০ কিউসেকে দাঁড়িয়েছে। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তাকে নদী হিসাবে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রতিদিন অন্তত ৫ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহ প্রয়োজন। অথচ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে আজ পানির প্রাপ্তি শূন্যের কোঠায় ঠেকেছে।
গতকাল শনিবার রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সিপিবি ও বাসদ আয়োজিত তিস্তা মার্চ ডালিয়া যাওয়ার আগে সমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন। তিস্তা মার্চটি রংপুর থেকে যাত্রা করে নগরের ধাপ মেডিকেল মোড়, পাগলাপীর, কিশোরগঞ্জ, টেংগনমারী, জলঢাকায় পৃথক পৃথক সমাবেশ করে। সব শেষে ডালিয়ার সাধুর বাজারে জনসভার মাধ্যমে শেষ হয় সিপিবি ও বাসদের তিস্তার মার্চ কর্মসূচি। সিপিবির রংপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক শাহিন রহমানের সভাতিত্বে অন্যদের মধ্যে এসময় বক্তব্য রাখেন সিপিবির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ প্রমুখ।
বক্তারা আরো বলেন, বিশ্বে একাধিক দেশের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বন্টন সমস্যা সংশিষ্ট দেশগুলি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেছে। যেমন নীল নদ, সিন্ধু নদ, মেকং ইত্যাদি নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়নি কোন ভাগীদার দেশ। তাই আনতর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তিস্তাসহ সব নদীর অর্ধেক পানির ন্যায্য অংশীদার। কিন্তু বাংলাদেশ তার কোন নদীরই ন্যায্য পাওনা পায়নি।








