হাজারো প্রশ্নের উত্তর নেই

0
148
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিক (এবি সিদ্দিক) উদ্ধার হয়েছেন। ৩৫ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর তিনি উদ্ধার পেলেও জনমনে হাজারো প্রশ্ন উঠেছে। অপহরণের ঘটনায় অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। এখন সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা। ঘটনাটি প্রকৃতই অপহরণ, নাকি কোনো নাটক? এর মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছেন খোদ তদন্ত-সংশ্লিষ্টসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাই। তবে প্রাপ্ত তথ্যগুলো আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা প্রশ্ন রেখে এ প্রতিবেদককে বলেন, বুধবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূঁইগড় থেকে এবি সিদ্দিক অপহরণের পর গাড়িচালক রিপনকে রিজওয়ানা হাসান নিজের জিম্মায় নিয়ে নিয়েছিলেন কেন? উদ্ধারের পর এবি সিদ্দিক নিজেও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকমের বক্তব্য দিয়েছেন। অনেক সময় রিজওয়ানা তার স্বামীর বক্তব্য কেড়ে নিয়ে নিজেই কথা বলেছেন। এসব বিষয় অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, রিজওয়ানার ওপর কোনো গোষ্ঠী ক্ষিপ্ত থাকলে তার স্বামীকে অপহরণ করবে কেন? আবার অপহরণ করার পর কোনো মুক্তিপণ না নিয়ে তাকে জীবিত ফেরত দেওয়া, সঙ্গে সিএনজি ভাড়া দেওয়ার বিষয়টিও রহস্যের জন্ম দিয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, অপহরণকারীরা কোনো নির্যাতন করেনি এবি সিদ্দিককে। তাহলে তার জামা ছিঁড়ল কীভাবে? এবি সিদ্দিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাত সাড়ে ১১টার দিকে অপহরণকারীরা তাকে মিরপুর আনসার ক্যাম্পের সামনে ছেড়ে দিয়েছিল। তবে রাত সোয়া একটা পর্যন্ত তিনি কোথায় ছিলেন? আবার আনসার ক্যাম্প থেকে তিনি নিজের ধানমন্ডিস্থ সেন্ট্রাল রোডের বাসার উল্টো পথে কাজীপাড়ার দিকে গিয়েছিলেন কেন?

সূত্র আরও জানায়, বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রিজওয়ানা ও তার প্রতিষ্ঠানের মামলাগুলোর অধিকাংশের রায় খুব শীঘ্রই হওয়ার কথা। রায়গুলো রিজওয়ানার পক্ষে যাওয়ারই সম্ভাবনা রয়েছে। এ নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন রিজওয়ানা ও তার পরিবারের সদস্যরা।

‘যে কোনো শর্তে আমি আমার পরিবারের সদস্যকে ফেরত চাই’ সংবাদ সম্মেলনে রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে অপর এক ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, ওই শর্তগুলো কী? তাহলে কি অপহরণকারীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে বা আগেই ছিল? এগুলো তিনি এখনও পরিষ্কার করেননি। আবার প্রায় এক যুগ ধরে বন্ধ পোশাক কারখানাটির মালিকানা হঠাৎ করেই কীভাবে গত তিন মাস আগে রিজওয়ানার পরিবার পেয়ে গেলেন? এর নেপথ্য কারণ কী? ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এবি সিদ্দিক অপহরণের পর বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের অতি উৎসাহও কিছুটা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। পরিবেশ নিয়ে সর্বদা তৎপরতা দেখালেও বিশেষ কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে রিজওয়ানা হাসানের নীরবতার রহস্য কি? অপহরণের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুুলিশের (ডিবি) যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, এবি সিদ্দিকের জবানবন্দি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কারা, কেন, কী উদ্দেশ্যে তাকে অপহরণ কমরছিল- এসব বিষয় জানতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অপহরণের ব্যাপারে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অপহরণের ঘটনাটি দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী সুনিপুণভাবে করা হয়েছে। অপহরণে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, অস্ত্র আলামত হিসেবে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে। তবে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের তৎপরতার কারণে দুর্বৃত্তরা এবি সিদ্দিককে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূঁইগড় থেকে এবি সিদ্দিক অপহৃত হন। এর ৩৫ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। এর আগে ফতুল্লা মডেল থানায় করা মামলার এজাহারে তার স্ত্রী রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, পেশাগত কারণে আমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করে আসছি, যা অনেকের অর্থনৈতিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করেছে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এসব মহল বিভিন্ন সময়ে আমার বিরুদ্ধে প্রচারমাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে এবং বিভিন্নভাবে আমাকে আমার কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে। আমার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে।

শেয়ার করুন