ভারতে সরকার পরিবর্তন চায় বিএনপি

0
252
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতের গান্ধী পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক। শেখ হাসিনার দলকে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিকভাবে সব সময় বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা করে কংগ্রেস। যার ফলে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় রয়েছে বিএনপি। এ জন্য লোকসভা ভোটে ভারতের সরকার পরিবর্তন চায় বাংলাদেশের বিরোধীরা। ভারতের চলমান লোকসভা ভোটকে তাই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার আসামের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক যুগশঙ্খ এ খবর দিয়েছে। যুগশঙ্খের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি মনে করে, গত ৫ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ‘বিতর্কিত’ ভোটের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতাসীন করার জন্য ভারতের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। বিএনপি মনে করে, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের ব্যক্তিগত পর্যায়ের সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অনেক বিষয়ে তারা সরাসরি হস্তক্ষেপ করে থাকে। তাই এখন বাংলাদেশের বিরোধীরা মনেপ্রাণে চাচ্ছে, ইউপিএ সরকারের পরিবর্তন। এ ক্ষেত্রে বিজেপিকে তারা সমর্থন করছে। যদিও গুজরাট দাঙ্গার সমালোচিত ও সামপ্রদায়িক দল হিসাবে অভিযুক্ত বিজেপিকে তেমন পছন্দ নয় বিএনপির। বিজেপির সাম্প্রদায়িক চরিত্র নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তারপরেও বিএনপির নেতারা মনে করছে, কংগ্রেসের সঙ্গে বিএনপির যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বিজেপি এলে নতুনভাবে সম্পর্ক করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত বিরোধিতার বিষয়টি বরাবরই সামনে নিয়ে আসে বিএনপি। সব সময়ই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভারতের কাছে দেশ ‘বিকিয়ে’ দেয়ার তোপ দাগায় তারা। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে এখন সেই বিএনপি চাচ্ছে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপিকে। তাই বিএনপির অনেক নেতাই লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে আছেন। যুগশঙ্খ জানায়, বিএনপি শীর্ষনেতা ড. ওসমান ফারুক সম্প্রতি গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, লোকসভা ভোটের মাধ্যমে ভারতে যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন তাদের স্বাগত জানাবে বিএনপি; কিন্তু ভারতের আগামী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির সম্ভাবনাই এখনো পর্যন্ত বেশি দেখা যাচ্ছে। গুজরাট দাঙ্গায় মুসলিম নিধনের ঘটনায় এরই মধ্যে বিতর্কিত হয়েছেন মোদি। নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হলে সেটিকে বিএনপি কিভাবে দেখবে?
ফারুক বলেছেন, ভারতে ৮২ কোটির বেশি মানুষ ভোট দেবে। সেখানে যদি নরেন্দ্র মোদি বিজয়ী হয়ে আসেন তাহলে তো আমাদের কিছু বলার থাকতে পারে না। আপনি যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন তাহলে জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে তাকে মেনে নিতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জনমত জরিপে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপিকে এই নির্বাচনে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্য যেসব দেশ বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে, প্রতিবেশী ভারত যে সেই তালিকার শীর্ষে সন্দেহ নেই।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ভারতে কোন দল ক্ষমতায় থাকবে তার ওপর বাংলাদেশের রাজনীতিও অনেকাংশে প্রভাবিত হবে। কংগ্রেসকে হটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিএনপি নেতারা। তাই বিএনপির চাওয়া ভারতে নতুন সরকার এলে তাদের সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে। যাতে নতুন সরকার কোনো একটি বিশেষ দলের প্রতি নয়, সম্পর্ক রাখবে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে।

শেয়ার করুন