খ্যাতনামা প্রকাশনী ‘অন্যপ্রকাশ’-এর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনলেন বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণ।কবির পাঁচটি বই প্রকাশ করে গত দশ বছরে কোনো রয়ালিটি প্রদান না করার অভিযোগ আনা হয়েছে অন্যপ্রকাশের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও তাকে না জানিয়ে বইয়ের নতুন সংস্করণ প্রকাশ হচ্ছে কী না– তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন এই কবি।
বৃহস্পতিবার রাতে নির্মলেন্দু গুণ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি জানান, পাঁচটি কবিতার বইয়ের জন্য ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত অন্যপ্রকাশ তাঁকে মাত্র ১ লক্ষ টাকা প্রদান করেছে। এরপর তারা আর কোনো টাকা কবিকে দেয়নি। এমনকি বইয়ের নতুন সংস্করণ প্রকাশ হয়েছে কী না– তাও কবি নির্মলেন্দু গুণ’কে জানানোর প্রয়োজন বোধ করেনি।”
যদিও নির্মলেন্দু গুণ জানান, এর মধ্যে একটি বইয়ের মূল্য ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হয়েছে।
এমতাবস্থায় নির্মলেন্দু গুণ অন্যপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী মজহারুল ইসলামকে একজন অসৎ প্রকাশক সম্বোধন করে ভবিষ্যতে তাঁর বই পুনরায় প্রকাশ না করার জন্য অন্যপ্রকাশের প্রতি আহবান জানান।
অভিযোগের বিষয়ে মজহারুল ইসলামের কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
পরিবর্তন পাঠকদের জন্য কবি নির্মলেন্দু গুণের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেয়া হল।
“অন্যপ্রকাশের বিরুদ্ধে
একনাগাড়ে ৫ বছর কাজ করার পর, ১৯৯৯ সালে বাংলাবাজার পত্রিকা থেকে ইসতফা দিয়ে আমি ‘আজকের আওয়াজ’ পত্রিকায় যোগদান করি। এই পত্রিকার অফিসটি ছিলো গ্রীন রোডে। মাস ছয়েকের মাথায় ঐ কাগজটি বন্ধ হয়ে গেলে আমি আর সংবাদপত্রে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেই এবং আমার লেখা বইয়ের রয়ালটি থেকে পাওয়া টাকায় জীবন ধারণের সংগ্রাম শুরু করি। তখনই আমার পরিচয় ঘটে গ্রীন রোডের কাছে, পান্থপথে অবস্থিত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘অন্যপ্রকাশ’-এর সঙ্গে। ঐ প্রকাশনীর মালিক মজহারুল ইসলামের সঙ্গে আমি একটি মৌখিক ভদ্রলোকের চুক্তিতে আবদ্ধ হই-, স্থির হয়- তারা আমাকে মাসে ১০,০০০ ( দশ হাজার টাকা) হাজার টাকা করে দেবে। বিনিময়ে আমি আমার পরবর্তী বইগুলো অন্যপ্রকাশকে দেবো। অতঃপর ঐ প্রকাশনী থেকে দুই বছরের মধ্যে আমার পাঁচটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
গ্রন্থগুলো হচ্ছে –
১। কাব্যসমগ্র ৩য় খণ্ড ( মূল্য : ৩৫০ টাকা)
২। নির্বাচিত ১০০ কবিতা ( মূল্য ১৫০ টাকা)
৩। ভ্রমি দেশে দেশে (মূল্য ২০০ টাকা)
৪। অণ্তর্জাল ও
৫। চিরঅনাবৃতা হে নগ্নতমা।
পরের দুটো বইয়ের দাম আমার মনে নেই। সাকুল্যে প্রায় এক লক্ষ টাকা রয়ালটি প্রদানের পর তারা আচমকা আমাকে টাকা দেয়া বন্ধ করে দিলে আমি অসম্মানিত বোধ করি এবং ওদের কাছে টাকা চাওয়া বন্ধ করে দেই। ভেবেছিলাম ওরা তাদের ভুল বুঝতে পারবে। কিন্তু আমার ভাবনা ভুল প্রমাণিত হয়। ২০০৪-২০১৪, দশ বছর গত হওয়ার পরও অন্যপ্রকাশ আজতক আমার কোনো গ্রন্থের সংস্করণ হয়েছে বলে স্বীকার করেনি। আমাকে আর একটি টাকাও দেয়নি। ইতিমধ্যে নির্বাচিত ১০০ কবিতার সংস্করণ দেখানো না হলেও বইটির মূল্য বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হয়েছে।
আমার বদ্ধমূল ধারণা- অন্যপ্রকাশ আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং করে চলেছে। আমার বই প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের মতো চলে না জানি-, কিন্তু আমার কোনো বই দশ বছরেও সংস্করণ হয়না, সেটা আমার জানা ছিলো না। শতাধিক বই প্রকাশিত হওয়ার পরও আমার অন্য কোনো প্রকাশকই আজতক আমাকে এরকম ধারণা দেননি। আপনাদের কী ধারণা? আমার বই কি এতোটাই কম চলে?
আপনার অবগতির জন্য বলি, কাকলী প্রকাশনী আমাকে গত দশ বছরে প্রায় সাত-আট লাখ টাকা রযালটি দিয়েছে। মাওলা ব্রাদার্স এবং বাংলাপ্রকাশ থেকেও আমি আনুমানিক কম করেও দুই লক্ষ টাকা করে চার লক্ষ টাকা রয়ালটি পেয়েছি।
সরি, মজহার। আমি অন্যপ্রকাশকে আমার বই প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানচ্ছি।
দশ বছর ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার পর, আজ বলি, আপনার ওপর আমার বিন্দুমাত্র বিশ্বাস নেই। বইমেলায় আপনি যত বড় ও দৃষ্টি-কাড়া স্টলই তৈরি করেন না কেন, আপনি একজন অসৎ প্রকাশক।”









