অংকুর (মৃত); বাপ্পী (নিখোঁজ); ইভান (মৃত); নোমান (নিখোঁজ); সাব্বির (নিখোঁজ); উদয় (নিখোঁজ)
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন সাগরে গোসল করতে নেমে আহছান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এখনো ইশতিয়াক বিন মাহমুদ, শাহরিয়ার ইসলাম নোমান, সাব্বির হাসান ও এস এম গোলাম রহিম নামের চারজন শিার্থী নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনীর সদস্যরা অব্যাহত রেখেছেন তাদের উদ্ধার অভিযান।
স্থানীয় লোকজন, প্রত্যদর্শী, পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঢাকার আহছান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪ জন শিার্থী ১৪ এপ্রিল টেকনাফ থেকে কুতুবদিয়া জাহাজে করে দুপুর ১২টায় সেন্টমার্টিনে পৌঁছেন। তারা সেখানে সেন্ট সৌর রিসোর্টে ওঠেন। বেলা ২টায় কয়েকজন শিার্থী দ্বীপের জেটি ঘাটের উত্তর-পূর্ব পাশে প্রিন্স হ্যাভেন পয়েন্ট দিয়ে সাগরে নামেন। এ সময় সমুদ্রসৈকতে ভাটার টানে কয়েকজন ছাত্র ডুবে যায়। সাথে সাথে ছাত্রদের মধ্যে হইচই শুরু হয়। স্থানীয় লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় পাঁচজন ছাত্রকে উদ্ধার করতে সম হলেও চারজন সমুদ্রে তলিয়ে যায়। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মিরপুরের মোক্তার হোসেনের ছেলে আসিফ (২৫), হাবিব উল্লাহর ছেলে ফয়সার হাবিব (২৪) ও কুমিল্লার সামশুল হকের ছেলে ফারহানুল হক (২৪)।
নেভাল কমডোর রাশেদ আলী জানান, নিখোঁজ ছাত্রদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ীণ। নৌবাহিনীর পেট্রোল জাহাজ ঘটনাস্থলে রয়েছে। নিখোঁজ ছাত্রদের খোঁজে নৌবাহিনীর ডুবুরি দল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড স্টেশনের কমান্ডার লে. শহিদ আল আহসান জানান, নিখোঁজ হওয়া চার ছাত্রকে উদ্ধারের জন্য নৌবাহিনীর ডুবুরি দল, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্নভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে। দু’টি টানা জাল, ১০টি স্পিডবোট ও ছয়টি ট্রলারের মাধ্যমে উদ্ধারকাজ চলছে। তবে ওই ছাত্রদের সন্ধান মেলেনি।
এর পাশাপাশি সেন্টমার্টিন ফিশিং বোর্ড মালিক সমিতি ও সেন্টমার্টিন বাজার কমিটির উদ্যোগে প্রায় ২০০ লোক উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
টেকনাফ কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার কাজী হারুনুর জানিয়েছেন, গত সোমবার বেলা ২টা থেকে সেন্টমার্টিন এবং আশপাশের এলাকায় নিখোঁজ ছাত্রদের উদ্ধারের জন্য ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছেন তারা। এ ছাড়া টেকনাফ উপকূলীয় এলাকায়ও নিখোঁজ ছাত্রদের লাশ ভেসে উঠছে কি না তারও খোঁজখবর নিচ্ছেন।
গত সোমবার (পয়লা বৈশাখের দিন) সেন্টমার্টিনে সাগরে গোসল করতে নামলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ দিকে নিহত মানফেজুল ইসলাম ইভান ও সাদ্দাম হোসেন অঙ্কুরের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে ১টায় কক্সবাজার থেকে তাদের লাশ ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, আর ক’টা দিন পর বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর অঙ্কুর এবং ইভান নববর্ষ উদযাপনে বন্ধুদের সাথে ছুটে যায় সাগর দ্বীপ সেন্টমার্টিনে। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর কষ্ট ধুয়ে মুছতে গা ভাসিয়ে দেয় সাগরে। তারপর হয়তো কর্মযজ্ঞে নিজেদের হেলে দিয়ে সাজাতো রঙিন স্বপ্ন। তা আর হয়ে ওঠেনি।
অঙ্কুর-ইভানদের মতো একই স্বপ্নে বলিয়ান ছিল উদয়, সাব্বির, বাপ্পি, নোমানও। তাদের যে সাগর ভাসিয়ে নিলো






