ডাকাতি করতে গিয়ে রামপুরা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার

0
205
Print Friendly, PDF & Email

ডাকাতি করতে গিয়ে ব্যাংকের সামনে থেকে গুলিভর্তি পিস্তলসহ জনতার হাতে ধরা পড়লেন ঢাকা মহানগর রামপুরা থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ। রাজধানীর মগবাজারস্থ পূবালী ব্যাংকের সামনে গতকাল রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আটকের পর গণধোলাইয়ে আহত ওই ছাত্রলীগ নেতাকে পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বেলাল নামে এক ব্যবসায়ী মগবাজারে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাচ্ছিলেন।  পুবালি ব্যাংকের প্রবেশমুখে মাসুদ ওই ব্যবসায়ীর বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে টানাটানি করেন। এ সময় ওই ব্যবসায়ীর চিৎকারে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় পথচারী ও ব্যাংকে আসা লোকজন। তারা তিন রাউন্ড গুলিভর্তি অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তলসহ মাসুদকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, ব্যাংকে যাওয়া ব্যবসায়ীর নাম বেলাল হোসেন। তিনি গাড়ির যন্ত্রাংশের ব্যবসা করেন। গ্রেফতারকৃত মাসুদ এক সময় ওই ব্যবসায়ীর দোকানে চাকরি করতেন। থানা ছাত্রলীগের পদ পাওয়ার পর ওই চাকরি ছেড়ে দেন। নেতা হওয়ার পর ব্যবসায়ীর কাছেই চাঁদা হিসেবে একটি মোটরসাইকেলও দাবি করে মাসুদ। এদিকে, মাসুদের দাবি, তার কাছ থেকে উদ্ধার করা পিস্তলটি তার বন্ধু সৌরভের। ঘটনার সময় সৌরভ তার সঙ্গেই ছিলেন। কিন্তু  মাসুদ ধরা পড়ার পর সৌরভ মোটরসাইকেলে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনা প্রসঙ্গে মাসুদ আরো জানান, তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর বেলাল এবং তার ব্যবসায়িক অংশীদার আজাদের কাছে একটি মোটরসাইকেল দাবি করেছিলেন। তারা দেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু মোটরসাইকেল দিতে দেরি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাজ করেন। ছাত্রলীগের রামপুরা থানা সংগঠনটি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার অন্তর্ভুক্ত। এব্যাপারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে মাসুদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত মাসুদের সহযোগীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

শেয়ার করুন