নবাগতা কোনো অভিনেত্রী নন, যে অপুর ছবি দেখতে আপনি সিনেমা হলে যান, তিনিই ইনি। তবে, তাঁর মধ্যে যে পরিবর্তনটা দেখতে পাচ্ছেন, সেটা এমনি এমনি আসেনি। বহু পরিশ্রমের ফসল এটি। ওজন কমানো কি সহজ কথা!
ব্যাপারটা যে কঠিন, সেটা অপু বিশ্বাসও স্বীকার করলেন। অভিনয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতে কাটাতে কোন সময় যে শরীরে মেদ দৃশ্যমান হলো, সেটা বুঝতেই পারেননি। চলতে-ফিরতে প্রতিদিনই টের পেতে থাকলেন, অতিরিক্ত মেদ তাঁকে শ্রীহীন করে তুলছে। অতএব, শুরু হলো কঠিন সাধনা। ওজন কমানোর সাধনা। ২০১২ সালের মাঝামাঝি শুরু হলো মিশন।
প্রথমেই গেলেন একজন পুষ্টিবিদের কাছে। শুনলেন তাঁর কথা। মানলেন। বুঝলেন, খাওয়াদাওয়ার দিকে নজর রাখার পাশাপাশি জিমটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই, নিজের জন্য গড়ে নিলেন মিনি জিম।
যার প্রিয় খাবার বিরিয়ানি, কাবাব, কোপ্তা, তাঁকে এক দিনের নোটিশে নেমে আসতে হলো কর্নফ্লেক্স, স্যুপে—এ কি সহ্য করার মতো! জিবের তৃপ্তিকে নির্বাসনে পাঠানোর মতো কষ্ট আর কটা আছে?
বলে রাখা ভালো, অপু বলেছিলেন, তিনি ওজন কমিয়েছেন ২৫ কেজি। সে কথা মনে করিয়ে দিতেই বললেন, ‘কত কেজি ওজন কমল, সেটা নিয়ে মাথা ঘামাই না। ওজন কমিয়ে এখন স্বস্তি পাচ্ছি, সেটাই বড় কথা।’
এখন যেমন অপুএবার দেখা যাক, ওজন কমাতে কী কী করতে হয়েছে অপুকে। প্রায় অসাধ্য সাধনের জন্য প্রথমে লোভ সংবরণ করতে হয়েছে। চোখের সামনে সুস্বাদু সব খাবার। জিবে জল। কিন্তু না, চোখের লোভকে চোখেই থাকতে দেওয়া হয়েছে, জিব পর্যন্ত নেমে আসার কোনো সুযোগ নেই। তাই রইল পড়ে কোপ্তা-কাবাব। আশপাশের সবাই পেট পুরে আর মন ভরে খেয়ে নিল, কিন্তু অপুকে থাকতে হলো অভুক্ত। কারণ, যেই মনে হলো, বিরিয়ানি আর কোপ্তা খেলে ভালো লাগবে, অমনি কে যেন ভেতর থেকে বলে ওঠে, ‘অ্যাই, খাবি না।’ খেলেই ওজন বেড়ে যাবে। অগত্যা!
আচ্ছা, এই যখন অবস্থা, তখন তো জানতে ইচ্ছা করবেই, কী খেয়ে বেঁচে আছেন তিনি?
মেন্যুটা বেশ সরল। অপু বিশ্বাস বলে গেলেন, ‘প্রতিদিন সকালে দুধ আর কর্নফ্লেক্স। সারা দিন প্রচুর ফলমূল আর জুস। দুপুরে খুব কম জাউভাত। আর রাতে স্যুপ খাই। চা বলতে খাই গ্রিন টি। স্ন্যাকসও খাই।’
ব্যস, রসনা এটুকুতেই সীমাবদ্ধ।
আর কিছু?
আর কিছু তো বটেই। ওই যে পারিবারিক মিনি জিম! ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওখানেই থাকতে হয়েছে অপুকে। একজন প্রশিক্ষক বলে দিচ্ছেন কোন কোন ব্যায়াম করতে হবে, অপুও তা নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন। আর তাই বছর না ঘুরতেই ফল পেলেন হাতেনাতে। ওজন কমিয়ে একেবারে স্লিম! কে বিশ্বাস করবে, এই অপুই সেই অপু! দেড় বছরের অক্লান্ত চেষ্টায় যখন দেখলেন, নিজেকে আর ভারী বলে মনে হচ্ছে না, তখন আবার শুরু করলেন চলচ্চিত্রের কাজ। মাঝখানের সময়টা নিজেকে গড়ে নেওয়ার সময়। নতুন করে শুরু করার প্রস্তুতির সময়।
অপুর সঙ্গে কথা হচ্ছিল গুলশানের নিকেতন সোসাইটি পার্কে। হঠাৎ শরীর গঠনে মনোযোগী হলেন কেন, এমন একটি প্রশ্ন রাখা হলো অপুর কাছে। অপু বললেন, ‘শৈশব থেকেই আমি শাহরুখ খান আর কাজলের ভক্ত। এখন দীপিকা পাড়ুকোনকেও ভালো লাগে। তাঁদের দিকে তাকান! তাঁদের শারীরিক গঠন দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। শাহরুখ খানের অন্ধ ভক্ত আমি। শাহরুখের একটা ছবিও বাদ নেই। আমার স্বপ্নের মানুষের মধ্যে একজন শাহরুখ।’
এবার ‘স্বপ্নের মানুষ’ ব্যাপারটা বোঝাতে থাকেন, ‘দর্শক-শ্রোতার কাছে তারকারা হলেন স্বপ্নের মানুষ। দর্শক-শ্রোতার সামনে সেই স্বপ্নের মতোই হাজির হতে হয়। এ কারণেই যেমন ছিলেন অপু বিশ্বাসআমার নিজেকে স্লিম করার সাধনা। মুটিয়ে গিয়েছিলাম যখন, তখনো হয়তো দর্শকেরা আমাকে গ্রহণ করেছেন, কিন্তু আমার মনে হলো, এতে হয়তো আমি দর্শককে ঠকাচ্ছি। একজন অভিনেত্রীর অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি শারীরিক সৌন্দর্য থাকাটাও জরুরি। তাই ওজন কমানোর প্রতিজ্ঞা।’
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে অপু বিশ্বাস অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র ডেয়ারিং লাভার। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত এ ছবিটিতে অপু বিশ্বাস অভিনয় করেছেন শাকিব খানের বিপরীতে। এই ছবিতে দর্শকেরা নতুন এক অপুকে দেখতে পাবেন বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘এখানে আমাকে দেখে দর্শকেরা যদি নবাগতা কেউ বলে মনে করেন, তাহলে অবাক হবেন না, হি হি হি!
কথোপকথনের শেষ পর্যায়ে অপু বলেন, ‘ইন্টারনেটের এই যুগে দর্শকদের খাটো করে দেখার উপায় নেই। শারীরিক গঠন, খাবার, গেটআপ—সব দিক দিয়েই সচেতন হওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার এখন নিজস্ব পোশাক ডিজাইনারও আছেন। সেভাবেই ছবিতে চরিত্র অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করে থাকি। দর্শকেরাই আমার কাছে সবকিছু। তাঁরা আমাকে আপন মানুষের মতোই ভালোবাসেন। আর তাঁদের জন্যই নিজেকে নতুনভাবে তৈরি করেছি।’










