শিক্ষামন্ত্রী উড়িয়ে দিলেও সত্যি হলো ‘অপপ্রচার’

0
232
Print Friendly, PDF & Email

প্রশ্নপ্রত্র ফাঁসের অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ ‘অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিলেও অবশেষে সেই অপপ্রচারই সত্যি হলো।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ঢাকা বোর্ডের বৃহস্পতিবারের এইচএসসি ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার রাতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

গত ৩ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে। কিন্তু ওই দিন পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ অমুলক, ভিত্তিহীন এবং অপপ্রচার।

পরীক্ষার আগের দিন ব্রাহ্মবাড়িয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী তখন বলেন, আওয়ামী লীগের বিগত পাঁচ বছরে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। এটা সম্পূর্ণ অমুলক।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে ব্রাহ্মবাড়িয়ায় ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র আর ওইদিনের প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখারও আহ্বান জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী তখন আরও বলেন, সারা দেশে একযোগে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এবার দেশের আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডর অধীনে ১১ লাখ ৪১ হাজার ৩৭৪ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৩ জন বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষা খাতে দুর্নীতির পরিমাণ ১৭% আর আমাদের দেশে ১২%। কিন্তু আমরা এটাকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই।

নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সরকার সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের প্রতি অনুরাগী এবং নোটবই থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য সারা দেশের প্রায় ৫ লক্ষ শিক্ষককে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদান ও পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন পরীক্ষায় অন্তত ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করবে এটাই প্রচলিত ধারণা। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমাদের ছেলে-মেয়েরা ভালোভাবে পড়াশোনা করেছে বিধায় পাসের হার ৯০ শতাংশের ওপরে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে।

তাহলে উচ্চশিক্ষায় তারা কেন ঝড়ে পড়ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বেও সবাই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়ালেখার সুযোগ পায় না। আমেরিকার হার্ভার্ড কিংবা ইংল্যন্ডের অক্সফোর্ডে যেমন মেধাবীরাই কেবল স্থান পায়। আমাদের দেশেও তেমনি সর্বোচ্চ মেধার ভিত্তিতে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠিানে শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেয়া হচ্ছে।

এ সময় শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশাসন থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ।

শেয়ার করুন