১৫ মাসে ৩৩২ অপহরণ

0
166
Print Friendly, PDF & Email

জানুয়ারি ২০১৩ থেকে মার্চ ২০১৪ পর্যšত্ম সময়ে দেশে ৩৩২টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৬৪ জন শিক্ষার্থী। ২১০ জন জেলে এবং ৫৮ জন ব্যবসায়ী, কৃষক বা অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ। ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’র একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপহরণের শিকার এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ শতাংশই মেয়ে। এর মধ্যে প্রতি দুই জনে একজন মেয়ে অপহৃত হয়েছে উত্যক্তকারীদের দ্বারা। মুক্তিপণ, পারিবারিক শত্রুতা, ধর্ষণ কিংবা জোরপূর্বক বিয়ে করার উদ্দেশ্যে এসব শিশুকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা।

এসব শিক্ষার্থীর ৪০ শতাংশ অপহরণের শিকার হয়েছে স্কুলে যাতায়াতের সময়। আর ২৫ শতাংশ তাদের নিজ বাড়ি থেকেই অপহৃত হয়েছে। অপহরণের পর শিক্ষার্থীদের জীবিত ফিরে আসার সম্ভাবনা ৫০ ভাগ। শিক্ষার্থীদের অপহরণের মুক্তিপণ হিসেবে ৪০ হাজার থেকে ১ কোটি টাকা দাবি করেছে অপহরণকারীরা। তবে মুক্তিপণের দাবি ৫ লাখ টাকার সংখ্যাই বেশি ছিল বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ৩৩২টি অপহরণের মধ্যে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে অপহরণ হয়েছে ২১০ জন জেলে। মোট ১২টি ঘটনায় এসব জেলে অপহরণের শিকার হয়েছে। আর ৬৪ জন শিক্ষার্থী এবং ৫৮ জন ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিকসহ অন্যান্য পেশাজীবীরা সবাই পৃথক ঘটনায় অপহরণের শিকার হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, অপরাধী কিংবা অপহরণকারী চক্রের চেয়ে নিকট আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী এবং পরিচিতজনদের দ্বারাই শিশুরা বেশি অপহরণের শিকার হয়েছে। তাদেরকে অপহরণ করা হয়েছে মুক্তিপণ, যৌনরানি এবং ধর্ষণের উদ্দেশ্যে। অপহরণের পর এসব শিশুদের জীবিত বা মৃত ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনার হার শতকরা ৫০-৫০, যেখানে বয়স্কদের ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনার হার ৬০-৪০ শতাংশ।

বন্ধু, নিকটাত্মীয় এবং পরিচিতজন কর্তৃক অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, পরিচিত বা বন্ধু বান্ধবের ক্ষেত্রে অপহরণের কাজটি সহজ হয়। তারা খুব সহজেই শিশুদের ভুলিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কারণ, শিশুরা অপহৃত হওয়ার সময় তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না। তাছাড়া মা-বাবা শিশুদের খুঁজে পেতে অনেক বেশি উদগ্রীব থাকে। তাই কোনো ধরনের ঝামেলায় না জড়িয়ে অপহরণকারীদের দাবি অনুযায়ী মুক্তিপণ দিতে প্রস্তুত থাকে। এসব কারণে অপহরণকারীরা শিশুদেরকেই বেশি টার্গেট করে।

শেয়ার করুন