চাকরি প্রাথর্ীদের সাথে সমজোতায় এক সপ্তাহ পর সচল হলো ইবি

0
132
Print Friendly, PDF & Email

আশরাফুল ইসলাম অনিক , কুষ্টিয়া \\
টানা সাত দিন অচল থাকার পর চাকরি প্রাথর্ী ছাত্রলীগ কমর্ী ও বহিরাগতদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমজোতায় সচল হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়৷ রোববার মধ্যরাত ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান তার কার্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতা ও চাকরি প্রাথর্ীদের সাথে বৈঠকের পর পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে৷ সোমবার ক্যাম্পাস সচল হলেও ক্যাম্পাসে শিৰক-শিৰাথর্ীর তুলনামূলক কম উপস্থিতি দেখা গেছে৷

সূত্র মতে, চাকরির দাবিতে গত ১ এপ্রিল থেকে রোববার পর্যনত্ম চাকরি প্রত্যাশি ছাত্রলীগ কমর্ী ও বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ অবরোধ করে৷ এতে অচল হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম৷ চাকরি প্রাথর্ীরা ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার ও প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমানের কার্যলয় অবরম্নদ্ধ করে রাখলেও প্রশাসনকে তাদের বিরম্নদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি৷ এনিয়ে শিৰক-শিৰাথর্ীদের ৰোভের মাত্রা চরম পর্যায়ে পেঁৗছালে সমজোতার ভিত্তিতে ক্যাম্পাস সচলের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন৷

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চাকরি প্রাথর্ী ছাত্রলীগ নেতা বলেন-‘রোববার রাত ১২টায় প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমানের সাথে আমাদের বৈঠক হয়েছে৷ বৈঠকে তিনি দ্রম্নত চাকরি প্রদানের ব্যাপারে আশ্বাস দেয়ায় আমরা পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি৷’ তবে এনিয়ে কোন টালবাহানা হলে তারা আরো কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে বলেও হুশিয়ারী দিয়েছেন৷

জানা যায়, চাকরির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তোলা বহিরাগতদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির নেতা৷ ক্যাম্পাসে এ চাকরি প্রত্যাশী বহিরাগতদের বিরম্নদ্ধে শিৰক পেটানো, ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও, চাঁদাবাজি, ট্রেন্ডারবাজি, ভর্তিবাণিজ্য, ফাও খাওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে৷ চাকরি প্রাথর্ীদের মধ্যে ১০/১৫ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র থাকলেও তাদের সাথে থাকা অন্যরা ক্যাম্পাসের পাশর্্ববতর্ী এলাকার স্থানীয় সন্ত্রাসী হিসেবে নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে৷ তাছাড়া ২০১২ সালের ১৯ নভেম্বর ও ২০১৩ সালের ১২ জানুয়ারী শিৰকদের উপর দু’দফায় হামলা চালিয়ে অনত্মত: ৭০ জন শিৰক আহত করার ঘটনার সাথে চাকরি প্রাথর্ীদের অধিকাংশই প্রত্যৰ ভাবে জড়িত৷ সেসময়ে আহত ও লাঞ্ছিত শিৰকদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. আবুল আহসান চৌধুরী বর্তমানে শিৰক সমিতির সভাপতি এবং অন্যরা প্রশাসনের গুরম্নত্বপূর্ন পদে থাকার কারনে হামলায় অংশগ্রহণকারীদের চাকরি ঝুলে গেছে বলে জানা গেছে৷

এবিষয়ে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান বলেন-‘আলোচনার ভিত্তিতে ক্যাম্পাস স্বাভাবিক করা হয়েছে৷ তবে কাউকে চাকরি প্রদানের প্রতিশ্রম্নতি কিংবা আশ্বাস দেওয়া হয়নি৷ এর পর আর কেউ ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করতে চাইলে তাদের বিরম্নদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷

শেয়ার করুন