কালো টাকা বাড়ছে: মুহিত

0
64
Print Friendly, PDF & Email

সোমবার রাতে দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “দেশে ব্ল্যাক ইকনোমিক আছে এবং তা বাড়ছে। আমাদের সরকারের দ্বিতীয় বছরে এই ব্ল্যাক মানি নিয়ে একটা স্ট্যাডি (গবেষণা) শুরু করবো। ফলাফল পেতে পেতে তৃতীয় বছর হয়ে যাবে।”

পাঁচ বছর আগে ‘কালো টাকা’ নিয়ে একটা স্ট্যাডি হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “এখন আবার একটা করবো।”

আগের গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী এর আগে বেশ কয়েকবার বলেছিলেন, দেশের অর্থনীতির ৪৮ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কালো টাকা আছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) চেয়রারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রেহমান সোবহান, অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, সাবেক অর্থসচিব মহিতুল ইসলাম, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ফাহমিদা হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থসচিব ফজলে কবীর, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসলাম আলম উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মা সেতুতে রেমিটেন্স
‘প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স পদ্মা সেতুতে কিভাবে নিয়ে আসা যায় তার একটা ভালো প্রদ্ধতি সরকার খুঁজছে’ জানিয়ে মুহিত বলেন, “দেশের অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাতে অর্থনীতিবিদরা সমর্থন ও স্বাগত জানিয়েছে। তারাও চান দেশের টাকায় পদ্মা সেতু হোক।

“আমরা নিজেরাই পদ্মা সেতু করব। তবে সমস্যা হচ্ছে বন্ড ইস্যু করে দেশের মানুষের কাছ থেকে নিলে খরচ (সুদ) অনেক বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে আমাদের প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। অর্থনীতিবিদরাও সে পরামর্শই দিয়েছেন।

“রেমিটেন্সকে পদ্মা সেতুতে কিভাবে ব্যবহার করা যায়, কিভাবে একটি তহবিল গঠন করা যায়- সেটা নিয়ে কোন একটা ভালো পদ্ধতি বের করতে হবে। সেটা নিয়েই আমরা কাছ করছি।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন (এক হাজার ৪৪৬ কোটি) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা দেশের মোট জাতীয় আয়ের ১০ শতাংশের বেশি।

আর চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রথম নয় মাসে(জুলাই-মার্চ) পাঠিয়েছেন ১০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স।

আর এই রেমিটেন্সের ওপর ভর করেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন মাইলফলকে পৌঁছেছে। সোমবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার, যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

পুঁজি পাচার হচ্ছে

‘পুঁজি পাচার হচ্ছে’ স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “পুঁজি পাচার হচ্ছে- এটা সকলেই জানে। এর শ্রেষ্ঠ প্রমাণ বিনিয়োগের চেয়ে সঞ্চয় বেশি। এখন আমাদের বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ২৬ শতাংশ। আর সঞ্চয় ২৯ শতাংশ।

“বিনিয়োগ বাড়াতে আমরা নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। কিভাবে তা আরো বাড়ানো যায়- সেটা নিয়েই এখন আমরা বেশি ভাবছি।”

বেসিক ব্যাংক

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসিক ব্যাংকের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

“উই আর টেকিং অ্যাকশন।”

কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, “অপেক্ষা করেন দেখতে পাবেন।”

পুঁজিবাজার

অর্থমন্ত্রী বলেন, আলোচনায় অর্থনীতিবিদরা পুঁজিবাজার নিয়েও মতামত দিয়েছেন। তারা শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে থাকতে হলে ব্যক্তিগতভাবে ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারনের ‘বাধ্যবাধকতা’ কমাতে বলেছেন।

“আমি তাদের বলেছি। পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে এই নিয়ম করা হয়েছিল। এখন বাজার স্থিতিশীল হয়েছে। সার্বিক বিষয় পর‌্যালোচনা করে পর‌্যায়ক্রমে এই বাধ্যবাধকতা কমিয়ে আনা হবে।”

গুরুত্ব দারিদ্র্য বিমোচনে

দারিদ্র্য বিমোচনে নতুন বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানো হবে। সুইপারসহ সুবিধা বঞ্চিত এ ধরনের মানুষকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে আসা হবে।

“শিক্ষার মান উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে সবক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়াতেও বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হবে।”

আগামী ৫ জুন বর্তমান সরকারের প্রথম এবং নিজের অষ্টম বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী।

সেই বাজেটের বিষয়ে মতামত নিতে প্রতিবারের মত এবারো বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনার অংশ হিসেবেই সোমবার দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মুহিত।

শেয়ার করুন