বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ বহিষ্কৃতদের

0
63
Print Friendly, PDF & Email

সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে দলের সমর্থন না পেয়ে প্রার্থী হিসেবে থেকে যাওয়াদের একটি অংশকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তবে কেন সবাইকে বহিষ্কার না করে কারও কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এই নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে দলের ভেতরে। জানা গেছে, প্রার্থী সমর্থন এবং ঘুষ না দিলে বহিষ্কারের মতো গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে। যদিও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা এসব অভিযোগ স্বীকার করতে চান না।
দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং স্বার্থবিরোধী তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত দুই মাসে বিএনপি বহিষ্কার করেছে ৬৫ জনেরও বেশি নেতা-কর্মীকে। দলের পক্ষ থেকে এর কারণ হিসেবে দলীয় ঐক্য ফিরিয়ে আনার কথা বলা হলেও বহিষ্কৃত নেতারা একে ‘টাকার বাণিজ্য’ বলে অভিযোগ করেছেন।
একজন বহিষ্কৃত নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে কেন্দ্র থেকে আমাকে সমর্থন দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রের কয়েকজন নেতা মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সমর্থন দিয়েছেন অন্য একজনকে। কিন্তু তাকে মানা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।’
আরেক বহিষ্কৃত নেতা বলেন, জেলা কমিটির নেতা-কর্মীরা এবং স্থানীয় জনগণ আমাদের সমর্থন দিলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি সমর্থন দেয়নি। তারা মোটা অঙ্কের টাকায় উপজেলা প্রার্থী বাছাই করেছেন। কেবল আমার উপজেলায় নয়, আশপাশের অন্য উপজেলাগুলোতেও একই ঘটনা ঘটেছে।’
প্রার্থী সমর্থন নিয়ে দলের মধ্যে বিরোধের প্রভাব দেখা গেছে বিভিন্ন উপজেলায়। নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা এবং বরিশালে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান আছে এমন বেশ কিছু উপজেলায় সরকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ উঠলেও বাধা দিতে পারেনি বিএনপি সমর্থকরা। অথচ যেসব এলাকায় জামায়াত সমর্থিতরা নির্বাচন করেছে সেসব এলাকায় একাট্টা থেকে তারা সরকার সমর্থিতদেরকে কারচুপির চেষ্টা করতে দেয়নি।
রাজশাহী জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বহিষ্কৃত নেতা ডি এম জিয়াউর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা অনেক প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রার্থী সমর্থন দিয়েছেন। আর আমি এই অন্যায় মানিনি বলে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একে বহিষ্কার না বলে ঘুষ বাণিজ্য বললেই ভালো হয়।’
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বিএনপি সমর্থন দেয় মাকসুদুর রহমানকে। তাকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে এই সমর্থন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ জিয়াউর রহমানের। আর এই সিদ্ধান্ত না মেনে নির্বাচনী লড়াইয়ে থেকে যান জিয়াউর রহমান। আর এই দুই প্রার্থীর ভোট ভাগাভাগিতে সেখানে জিতে যান আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী।
এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার সেলফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বহিষ্কৃত নেতা আলী আহমেদও ঢাকাটাইমসের কাছে ঘুষের বিনিময়ে প্রার্থী সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির অনেক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু সেই বহিষ্কার যে টাকার বিনিময়ে করা হয়েছে সেটা এখন না বলাই ভালো। কারণ উপজেলা নির্বাচন এখন শেষ হয়েছে। আর আমিও দলকে ভালোবাসি। তাই এই বিষয়ে এখন কিছু বলতে চাই না।’
বহিষ্কার এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি অবগত নই। এবং আমাকে দলের পক্ষ থেকেও কিছু জানানো হয়নি। তাই বহিষ্কার এবং অর্থ লেনদেন নিয়ে কিছু বলতে চাই না।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘জেলার নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন এবং সেই অভিযোগের বিচার বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। টাকা লেনদেনের বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট।’
যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে
সবচেয়ে বেশি বহিষ্কৃত হয়েছে ময়মনসিংহে, সব মিলিয়ে আটজন। এরা হলেন নান্দাইল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল খায়ের বাবুল, উত্তর জেলার পুরাকান্ডলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজিজুল হক, ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুর রশিদ মজনু, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম বাবুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল হক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান রুবেল, জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক শামসু এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা ইফতেখার আলম শামীম।
পাশের জেলা নেত্রকোনায় বহিষ্কার হয়েছেন তিনজন। এরা হলেন মদন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের আজাদ, অর্থ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ এবং খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীন।
ফরিদপুরে বহিষ্কার হয়েছেন পাঁচজন। এরা হলেন চরভদ্রাসন উপজেলা বিএনপির সদস্য বাদল আমিন, ছাত্রদল নেতা বোয়ালমারী উপজেলার খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, এ কে এম জামালউদ্দিন নান্নু মিয়া, শহীদুল হক মন্টু এবং রফিকুল ইসলাম লিটন।
মানিকগঞ্জে বহিষ্কার হয়েছেন দুইজন। এরা হলেন ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হাশেম বিশ্বাস দুদু মিয়া এবং সিংগাইর উপজেলা বিএনপির সদস্য আবিদুর রহমান খান রোমান।

শেয়ার করুন