টি-টোয়েন্টির ফাইনালই ওদের কাল

0
65
Print Friendly, PDF & Email

শাহিদা আক্তার (১৫) ও আব্দুর রহিম (২২)। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রাজিব বড় বাড়িতে ওদের বেড়ে ওঠা। ছোটবেলায় এরা দু’জনই বাবাকে হারিয়েছেন।

প্রায় সব কাজেই দক্ষতা ছিল আব্দুর রহিমের। কাজের ফাঁকে ফাঁকে গ্রামের ছেলেদের নিয়ে আনাচারী করাই যেন আব্দুর রহিমের কাজ।

অপরদিকে জীবিকার তাগিদে মাঝে কিছু দিন কুমিল্লায় ছিল শাহিদা। কুমিল্লা থেকে নিজের বাড়িতে এসে আব্দুর রহিমের সঙ্গে পরিচয় শাহিদার।

একদিন বন্ধুদের নিয়ে গ্রামে ঘুরতে বের হয়েছেন আব্দুর রহিম। এমন সময় আব্দুর রহিমের নজরে পড়ে শাহিদা আক্তার। এর পরে প্রেম। তিন মাস প্রেমের পর দুই পক্ষের জানাজানি। এর পরে চার মাসের মাথায় প্রেম থেকে পরিণয়।

জীনটা সুন্দর মতো সাজাতে ঢাকায় এসেছেন মাত্র ১০ দিন আগে। দুই জনই নারায়ণগঞ্জ কাঁচপুর সংলগ্ন নবাব আব্দুল মালেক জুট মিলে নাইট শিফটে কাজ করেন।

রোববার ভারত-শ্রীলঙ্কার মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা। শাহিদা আক্তার রান্নার কাজ শেষ করে স্বামী আব্দুর রহিমকে কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নিতে বলেন। কিন্তু আব্দুর রহিম চান ফাইনাল খেলা দেখে একেবারে রাত ১০টায় নাইট শিফটে ডিউটি করতে।

এই নিয়ে দুই জনের মধ্যে ঝগড়া। ফাইনাল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে আব্দুর রহিম শাহিদাকে মারধর করেন। আর তাতেই স্বামীর ওপর রাগ করে শাহিদা আক্তার গল‍ায় ফাঁস দেয়। রোববার রাত সাড়ে ১১টার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শাহিদা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।

ময়নাতদন্তের জন্য শাহিদা আক্তারের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অপরদিকে আব্দুর রহিমেকে রাখা হয়েছে ঢাকা মেডিকেলে পুলিশ হেফাজতে।

ননদ আতুয়ারা খাতুন বাংলানিউজকে বলেন, ওড়না ফাঁস দিয়ে মারা গেছে শাহিদা। ওদের সংসারে কোনো ঝগড়া ছিল না। কিন্তু ক্রিকেট দেখা নিয়ে ওদের ঝগড়া হয়।

শাহিদা ও আব্দুর রহিমের তিন মাসের সংসারে ঝগড়া হতো একে অন্যকে খেয়াল রাখাকে কেন্দ্র করে। দু’জনের মধ্যেই ছিলো গভীর ভালোবাসা। শাহিদা যদি দেরিতে খাবার খেতো অথবা দেরিতে গোসল করতো তবে আব্দুর রহিম ঝগড়া শুরু করতো।

অপর দিকে আব্দুর রহিম যদি কোনো দিন ধূমপান করতো তবে শাহিদা নিজের শরীর ব্লেড দিয়ে কেটে রক্তাক্ত করতো। এভাবে তিনবার নিজের শরীর রক্তাক্ত করেছে শাহিদা। মৃত্যুর আগেও স্বামীর প্রতি গভীর ভালোবাসা রেখে গেছে অভিমানী শাহিদা। কারণ স্বামী রাতে ডিউটি করে, খেলা না দেখে যদি ঘুমায় তবে ওর বিশ্রাম নেওয়া হবে এবং এতে তার রাতে ডিউটি করা সহজ হবে।

ঢাকা মেডিকলে পুলিশ হেফাজত থেকে আব্দুর রহিমকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্য এসআই ফজলুর রহমান।

আব্দুর রহিম বাংলানিউজকে বলেন, শাহিদা খেলা দেখা বাদ দিয়ে ঘুমাতে বলে। কিন্তু শেষ খেলা বলে আমি ঘুমাতে যাইনি। এতে করে রাগ করে আমার মোবাইলটা ভেঙে ফেলে শাহিদা। এর পরে আমি শাহিদাকে একটা চড় মারি। এর ফলে আমার স্ত্রী গলায় ফাঁস দেয়। ক্রিকেট খেলা দেখার জন্যই আমার স্ত্রীকে হারালাম।’

তিনি বলেন, আমার স্ত্রী আমাকে ‍অনেক ভালোবাসতো আমি সিগারেট খেলে ও নিজের শরীর ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলতো।

শেয়ার করুন