অভিযুক্তরাই তদন্ত করবে অভিযোগের

0
99
Print Friendly, PDF & Email

চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, নানা অপরাধ-অনিয়ম এবং ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী অনিয়মের সঙ্গে অনেক স্থানেই রিটার্নিং অফিসারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও তাদের বরাবরই গতকাল চিঠি দিয়েছে ইসি। চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে। অভিযুক্তরাই তদন্ত করবে অভিযোগের

যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আবদুল মোবারক গতকাল সমকালকে জানিয়েছেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকেই দিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সহিংসতা ও অনিয়ম সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ ও কমিশনে জমা দেওয়া প্রার্থীদের অভিযোগকে ভিত্তি ধরে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ তামাদি হয় না।

যারা নির্বাচনী অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় যেসব প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের ভোটকেন্দ্র দখলে সম্পৃৃক্ততা ছিল; তাদেরও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচিত ব্যক্তিসহ যে কারও বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হবে।

১৯৯১ সালের নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) ১৩ নং আইন অনুযায়ী গতকাল রোববার পত্রিকার ৮০টি প্রতিবেদনসহ দেড় শতাধিক অভিযোগ তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ইসি সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সদ্য সমাপ্ত ৫ ধাপের উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সহিংসতা, অনিয়ম, জাল ভোট প্রদান, আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করা, ভোটকেন্দ্র দখল করে প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল প্রদান, নির্বাচন-পরবর্তী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি হুমকি-ধমকি বিষয়ে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে অস্বস্তিতে আছে কমিশন।

গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ৪৫৮টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধেও রয়েছে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের আগের দিন ভোটকেন্দ্র দখলকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন্দ্র দখল ঠেকানো যায়নি। বরং উপজেলা নির্বাচনে প্রথম দু’ধাপের চেয়ে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপে বেশি কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের আঘাত পড়ে।

কমিশন বলছে, আইনের দুর্বলতা ও মাঠ কর্মকর্তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক সময়ে সঠিক তথ্য তারা কমিশনে পাঠাননি। এ কারণে অনেক অভিযোগ জানার পরও কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এ অবস্থায় কমিশন পত্রপত্রিকায় প্রকাশ্য সিল মারার যেসব ছবি প্রকাশ পেয়েছে এবং অনিয়ম প্রক্রিয়ায় জড়িতদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

গতকালই গণমাধ্যমের নাম উল্লেখের পাশাপাশি প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম যুক্ত করে পৃথক ৮০টি ঘটনা তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

কোনো কোনো চিঠিতে তিন দিনের মধ্যে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। আবার কোনো কোনো চিঠিতে ৭ দিনের সময়ও দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নয়, যেসব ভুক্তভোগী কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন, সেগুলোয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের চিঠির সংখ্যা অর্ধশতাধিক।যে আইনের আওতায় ব্যবস্থা

১৯৯১ সালের নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) ১৩ নং আইনের ৫-এর (১)-এ বলা আছে, ‘কোনো নির্বাচন-কর্মকর্তা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো ব্যাপারে প্রদত্ত কমিশন বা রিটার্নিং অফিসারের কোনো আদেশ বা নির্দেশ পালনে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হলে বা অস্বীকৃতি প্রকাশ করলে বা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো আইনের বিধান ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করলে বা কোনো অপরাধ করলে তিনি অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য হবে।

এমন অসদাচরণ তার চাকরিবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। (২)-এর উপ-ধারা (১)-এ বলা আছে, অসদাচরণ করলে তার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্ত করতে পারবে বা বাধ্যতামূলক অবসর দিতে পারবে বা তার পদাবনতি করতে পারবে বা তার পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখতে পারবে। (৩) ধারা অনুযায়ী দুই মাসের জন্য সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ দিতে পারবে।

আইনের ৬ ধারার (১) উপধারায় বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সর্বোচ্চ এক বছর কারাদ ে বা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা অর্থদ ে বা উভয়বিধ দ ে দ নীয় হবেন। ৫(৩)-এর অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ পালন বা কার্যকর না করলে বা ধারা ৫(৪)-এর বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদ ে বা সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা অর্থদ ে বা উভয়বিধ দ ে দ নীয় হবেন। কমিশন থেকে সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো আদালত এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করতে পারবেন না।

শেয়ার করুন