পহেলা বৈশাখ -ইতিহাস কী বলে

0
134
Print Friendly, PDF & Email

বাংলা বছরে বারোটি মাস পালনের ধারাটি বেশ পুরনো। হিন্দু সৌর পঞ্জিকা অনুসারে এ ১২ মাসের আবির্ভাব। আর এই পঞ্জিকার শুরু ছিলো আরেক পঞ্জিকা থেকে।

বাংলা সৌর পঞ্জিকার শুরু হতো যে গ্রেগরীয় পঞ্জিকা অনুসারে, সে গ্রেগরীয় পঞ্জিকায় বছর শুরু হতো এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে।

হিন্দু সৌর পঞ্জিকার প্রথম দিনটাও ঘটা করে পালনের ইতিহাস পুরনো। আসাম, বঙ্গ, কেরল, মনিপুর, নেপাল, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব, তামিল নাড়ু আর ত্রিপুরা অঞ্চলে সংস্কৃতির খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পালন করা হতো পহেলা বৈশাখ।

তবে এখন যেমন নববর্ষ নতুন বছরের শুরুতে একটা সম্মিলিত আর সর্বজনীন অনুষ্ঠান তখন তা ছিল না। তখন পহেলা বৈশাখ ছিল ঋতুধর্মী এক উৎসব। যেহেতু তখন মানুষের প্রধান আর মুখ্য উপার্জন ছিল কৃষি নির্ভর; এবং তার পুরোটাই নির্ভর করতো ঋতু আর তার আবহাওয়ার ওপর। তাই এ উৎসবের গুরুত্ব কৃষিজীবীদের কাছেই বেশি ছিল।

ভারতবর্ষ যখন মুঘল রাজাদের শাসনে এলো তখন মুঘলরা কৃষি পণ্যের খাজনা আদায়ের জন্য হিজরি পঞ্জিকা অনুসরণ করতো। যেহেতু হিজরি সন চাঁদের ওঠা না ওঠার উর নির্ভরশীল তাই কৃষি ফলনের সাথে তা মেলানো যেত না। খাজনার দাবি করা হতো একেবারে অসময়ে। এ সমস্যার সমাধানে আর খাজনা আদায় সহজ করতে সম্রাট আকবর প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্করণের নির্দেশ দেন। সে সময়ে বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন আর আরবি হিজরি সনের ওপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের একটা পথ দেখান।

১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে ১০ মার্চ বা ১১ মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এ গণনা কার্যকর করা হয়েছিল অনেক আগেই। আকবরের সিংহাসন অধিকার করার সময়টা থেকেই (৫ নভেম্বর, ১৫৫৬)। প্রথমে এ সনের নাম ছিল ফসলি সন। পরে এটি বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।

পহেলা বৈশাখ যে ধর্ম বা জাতির নয় বরং বাঙালির নিজের উৎসব সে বিষয়ে ইতিহাস সন্দেহের কোনো জায়গা রাখে নি।

শেয়ার করুন