জনপ্রিয়তার ধ্বসে এখন আর ডিসিসি নির্বাচনে রাজি নয় আওয়ামী লীগ

0
73
Print Friendly, PDF & Email

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ‘জনপ্রিয়তা ধ্বসে’র কারণে এখন আর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দিতে আগ্রহী নয়। শনিবার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ বিষয় আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও আপাতত নির্বাচন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দলের একটি সূত্র।

সদ্য শেষ হওয়া উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল, বিতর্কিত একতরফা দশম জাতীয় নির্বাচন এবং তার আগে অনুষ্ঠিত ৫ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবিকেও নির্বাচন না দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।

ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হলেও শনিবারের বৈঠকে এই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা এবিষয়ে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনের সঙ্গে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এটা ঠিক যে এই নির্বাচন আমাদের ভাবিয়েছে।’

বিশেষ করে উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, ভোট ডাকাতি, প্রশাসনের যথেচ্ছ ব্যবহারের পর সারা দেশব্যাপী তুমুল সমালোচনার মুখে পরে ক্ষমতাসীনরা। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক অনিয়মে মুখ রক্ষার চেষ্টা করতে পারলেও রাজধানীতে তা সম্ভব না বলেই মনে করছেন দলের নীতি নির্ধারকরা। আর তাই এখন আর এনিয়ে আগানোর আর কোনো ইচ্ছে নেই।

এছাড়া উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা রকম বিভক্তি। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতা ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে দূরত্ব দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় রাজধানিতেও ক্ষমতাসীনদের ভরাডুবি এক প্রকার নিশ্চিত বলেই মনে করছেন তারা।

উল্লেখ্য ২০০২ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেয়র নির্বাচত হন বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা। প্রায় দশ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এরপর ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুভাগ করা হয়। নির্বাচন কমিশন ২০১২ সালের ২৪ মে দুই ডিসিসির নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করে তফসিলও ঘোষণা করে। তবে উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত হয়ে যায় তা।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১৩ মে উচ্চ আদালত নির্বাচনের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। আর আইনি বাধা দূর হওয়ার পর ২০১৩ সালের মে মাসে ডিসিসি নির্বাচনের জন্য আবারও উদ্যোগ গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। ২০১৩ সালের অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

কিন্তু ঢাকার সুলতানগঞ্জ ইউনিয়ন সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ডিসিসি উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচন অনুষ্ঠানে বিব্রত হয় নির্বাচন কমিশন।

এরপর সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তি করা হয়। তবে যতদিনে নির্বাচন কমিশন এ কাজটি সম্পন্ন করলেও নানা ছুতায় পিছইয়ে দেয় নির্বাচন।

এখন পর্যন্ত ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশন চলছে প্রশাসক দিয়ে। কবে হবে নির্বাচন তা কেউই বলতে পারছে না।

শেয়ার করুন