কিলিং মিশনে শিবির

0
65
Print Friendly, PDF & Email

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য কিলিং মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবির। কিলিং মিশনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হচ্ছে তাদের টার্গেট। রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যেই দুর্গ তৈরি করে ফেলেছে তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে তাদের পরবর্তী টার্গেট। কিলিং মিশন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শাখার ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রুস্তম আলী আকন্দকে নির্মমভাবে খুন করেছে জামায়াতÑশিবিরের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। শিবিরের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এ ধরনের আরও বড় কিলিং চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুর্গে পরিণত করার টার্গেট করে জামায়াত-শিবির। এর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারী কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ইতোমধ্যেই সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করে তৎপরতা চালাচ্ছে। বিগত এক যুগে গোপনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘাঁটি গেড়ে বিভিন্ন সময়ে রগ কাটা, হাত-পা কাটার রাজনীতি করেছে ছাত্র শিবির। এখন তারা অস্ত্র গোলাবারুদ ও বোমা-ককটেলের রাজনীতিতে ফিরে এসেছে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও বিচারের রায় ঘোষণার প্রতিবাদে দেশব্যাপী যে নারকীয় সহিংসতার তা-বলীলা চালানো হয়েছে তার নেতৃত্ব দিয়েছে জামায়াতের নির্দেশে তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবির।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায়কে সামনে রেখে জামায়াতের নির্দেশে আবারও ছাত্র শিবিরকে চাঙ্গা করার জন্য মাঠে নামানো হয়েছে। এরই পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিলিং মিশনের বাস্তবায়ন ঘটানো হয়েছে। ছাত্র শিবিরের অনেকেই এখন ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে নিজেদের আড়াল করে কিলিং মিশন বাস্তবায়ন করছে। ছাত্রলীগ ও ছাত্র দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের কাজে লাগিয়ে ছাত্র নেতাকর্মীদের হত্যা করে উদোরপি-ি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের মেধাবী ছাত্র নেতা রুস্তম আলী আকন্দকে হত্যার ঘটনায় যে ছাত্র শিবির জড়িত তা ফাঁস হয়ে গেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি আশরাফুল আলম ইমনের নেতৃত্বে শিবিরের কিলিং মিশন গ্র“প রুস্তম আলী আকন্দকে খুন করে তাদের কিলিং মিশন বাস্তবায়ন করেছে।

গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও সাবেক সভাপতি ডা. ফকরুল ইসলাম মানিক আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর গত বছর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার ঠেকানোর সহিংস ঘটনায় তারা বেশি তৎপর। জামায়াতের নির্দেশে শিবিরের নেতাকর্মীরা যুদ্ধাপরাধীর বিচার ঠেকাতে গিয়ে পুলিশ হত্যা ও পুলিশের ওপর আক্রমণ এবং সহিংস ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার ঠেকানো বা মাঠে আন্দোলন গড়ে তোলা কিংবা হরতালের ডাক দিয়ে তা সফল করার মতো শক্তি হারিয়ে ফেলেছে জামায়াত ও তার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির। তাই নানা কৌশলে যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও বিচারের রায় ঘোষণা বানচালের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির কার্যত এখন আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেছে। আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ঘাঁটি গেড়ে কিলিং মিশন বাস্তবায়নের তৎপরতা চালাচ্ছে। কারণ প্রকাশ্য তৎপরতায় খুব একটা বেশি সুবিধা করতে পারছে না শিবির। আশঙ্কা করা হচ্ছে, শিবির আরও বড় কোন কিলিং মিশন বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারে। শিবিরের ব্যাপারে আইনশক্সখলা বাহিনীকে নজরদারি ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। জনকণ্ঠ

শেয়ার করুন