ভিক্ষার চাল ডাস্টবিনের সবজিতে সংসার চলে রোকসানার

0
83
Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন ডাস্টবিনে খুঁটে খুঁটে উচ্ছিষ্ট নিয়ে বাড়ি ফেরেন রোকসানা। তবে এ জন্য কাউকেই কোনো মূল্য দিতে হয় না তার। জবাবদিহিতাও করতে হয় না কারো কাছে। শুধু ঝগড়া করে টিকে থাকতে পারলেই হয়!

রোকসানার এ ঝগড়াটা কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা বাজার মালিকের সঙ্গে নয়। ঝগড়া করতে হয় তার মতোই অসহায়দের সঙ্গে। যারা কি না তার মতই ডাস্টবিনে ফেলা উচ্ছিষ্ট কুড়িয়ে সংসার চালায়।

সন্ধ্যার পর রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজারের পাশে রাখা ছোট্ট ডাস্টবিনের চিত্র এটি। শুধু শান্তিনগরের ডাস্টবিনের পাশেই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার সংলগ্ন ডাস্টবিনেগুলোতে এমন চিত্রের দেখা মেলে এখন।

রোকসানার কাছে গিয়ে দেখা যায়, খুব মনোযোগের সঙ্গে ফেলে দেয়া আধপচা সবজি কুড়াচ্ছেন তিনি।

জানতে চাইলে বলেন, ‘স্বামী নাই। পোলাপাইনরে খাওয়ানোর লাইগ্যা প্রতিদিন বাজারের পাশের ডাসবিনে আসি। অনেক বাজার সন্দার পর শ্যাষ হয়। এরপর হেরা ডাসবিনে আধাপচা শাক-সবজি ফালাইয়া যায়। ওইগুলার মধ্যে থাইকা যা ভালো মনে হয় তাই নিয়া রাত্রে রান্না করি।’

তেল, লবণের টাকা কোথায় পান? রোকসানা বলেন, ‘দিনে বাড়ি-বাড়ি ভিক্ষা করি, পোলাপাইনরাও ভিক্ষা করে, কন ভিক্ষা না করলে খামু কি?’

ঝগড়া করেন ক্যান? ক্ষিপ্রতার সঙ্গে রোকসানা বলেন, ‘মুখ না চালাইলে খামু কী? ভিক্ষার ট্যাকায় সংসার চলে না। ওরা এহানে আহে ক্যান? অন্য ডাসবিনে যাইতে পারে না ? আমরা গরীব তো তাই মোগো চাপায়ও দোষ, হাঁটলেও দোষ।’

এভাবে কথা বলতে বলতে হাতে দুটি আধাপচা পেঁপে, কিছু পচা পেঁয়াজ আর কয়েকটি আলু নিয়ে গটগট করে মালিবাগের পথ ধরে হেঁটে গেলেন রোকসানা।

শেয়ার করুন