আবারো আলোচনায় জামায়াত

0
49
Print Friendly, PDF & Email

আলোচনা আর সমালোচনা। দুটি যেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জনম সঙ্গী। হঠাৎ শীতল রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ানো শুরু করেছে জামায়াত। এতে জামায়াতের নিজের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও আলোচনা ডাল পালা মেলছে জামায়াতকে নিয়েই।
টকশোর আলোচনায় বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেন, “গুঞ্জণ শোনা যাচ্ছে ভেতরে ভেতরে আ’লীগের সাথে জামায়াতের একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং হচ্ছে”।

নাট্যাভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী তো বলেই ফেললেন- জামায়াত কঠিন কোনো নাশকতার পরিকল্পনা করছে।

উপজেলা নির্বাচনে বিস্ময়কর সাফল্যের পর খোদ বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মাই টিভির এক টকশোতে বলেন, কোথাও কোথাও জামায়াত-আ’লীগের সমঝোতা হয়েছে।

গণজাগরণ মঞ্চের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতির অভিযোগ- গণজাগরণ মঞ্চ গোপনে জামায়াতের কাছ থেকে টাকা নেয়।

এদিকে ইনকিলাবসহ আরও দুয়েকটি পত্রিকা জামায়াতের সাথে বিএনপির টানাপোড়েন চলছে- মর্মে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। জামায়াত নেতা অধ্যাপক মজিবুর রহমান অবশ্য এর প্রতিবাদ করে বলেছেন, বিএনপি সাথে জামায়াতের জোট আছে এবং থাকবে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে কয়েক ভলিয়্যুম অভিযোগনামা দাখিল করা হয়েছে।

জামায়াত কি খুব শিগগিরই নিষিদ্ধ হচ্ছে? নিষিদ্ধ হলে জামায়াতের ভবিষ্যত কী? এসব আলোচনা ও এখন টেলিভিশন চ্যানেল, কাগুজে পত্রিকা আর অনলাইনে প্রাধান্য পাচ্ছে। কোনো কোনো পত্রিকার জামায়াত প্রসঙ্গে গতকালের প্রতিবেদনের সাথে আজকের প্রতিবেদনে ফুটে উঠে বৈপরিত্য। একটি পত্রিকা আজ রিপোর্ট করলো নিষিদ্ধ হলে নতুন নামে আসবে জামায়াত। পরদিন সেই পত্রিকাই রিপোর্ট করলো নিষিদ্ধ হলে এনজিও হবে জামায়াত।
এক পত্রিকা লিখছে- নিষিদ্ধ হলে জামায়াতের প্রস্ততি নেওয়া আছে। অন্য পত্রিকা লিখছে, বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে এখনও ভাবেনি জামায়াত।

জামায়াত নেতাদের সাথে কথা বলে দেখা গেছে তারা এই “তুমুল আলোচনার” বিষয়টিকে খুব এনজয় করছেন তারা। শিবিরের এক সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি যিনি একটি মহানগরীর অন্যতম শীর্ষ নেতা, তিনি সহাস্যে বললেন- “আমরা মিডিয়ার কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ তাদের আলোচনা আর সমালোচনা থেকেই আমরা পরিকল্পনার অনেক রসদ পেয়ে যাই।

ঢাকা মহানগরীর আরেক নেতা, যিনি ছাত্রজীবনে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন, তিনি মজা করে বললেন, আমাদের প্রচার বিভাগকে কয়েক মাসের জন্য ছুটি দিয়ে দিব। তাদের কাজ তো অন্যরাই (মিডিয়া) করে দিচ্ছে।

তবে মুখে স্বীকার না করলেও জামায়াত নেতারা যে চাপের মধ্যে আছেন তা বুঝিয়ে দেন বিভিন্নভাবেই। কিন্তু এ চাপের কাছে যে তারা সহজে নতি স্বীকার করবেন না তাও বলতে দ্বিধা করেন না তারা।
সামনে বাজেট অধিবেশন, এখন চলছে দলের জনশক্তি (সমর্থক-কমী) বৃদ্ধির কাজ। অন্য দলের মতো তাদের কোনো কমিটি কখনও মেয়াদ উত্তীর্ণ থাকেনা। ফলে সবসময় নেতা কর্মীদের ডাকলেই পাওয়া যায়। তাই যে কোনো প্রয়োজনে বিশেষ করে আগামী বাজেট অধিবেশনের পর আবার রাজপথকেন্দ্রিক তৎপরতা শুরু করতে পারে দলটি। এমনকি খোদ রাজধানীতে মহাসমাবেশের মতো কর্মসূচী, নির্বাচিত উপজেলা প্রতিনিধিদের জাতীয় গণসংবর্ধনার মতো কর্মসূচীও আসতে পারে জামায়াতের পক্ষ থেকে।
আর এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলেও আলোচনায় থাকবে জামায়াত, সরকার বাধা দিলেও আলোচনায় থাকবে জামায়াত।

শেয়ার করুন