অপরাধীদের অভয়ারণ্য হাতিরঝিল

0
60
Print Friendly, PDF & Email

রাজধানীবাসীর বহু কাঙ্খিত হাতিরঝিলে নিরাপত্তার অভাবে বিপন্নবোধ করেন দর্শণার্থীরা। সন্ধ্যা হলেই ঝিল পাড়ের অন্ধকার স্থানে বসে মাদকসেবীদের আসর। আর অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয় রাতের গভীরতা বাড়ার সাথে সাথে। চলে ছিনতাই, ইভটিজিংসহ অসামাজিক কার্যকলাপ। প্রকল্প এলাকায় নিরপত্তা রক্ষণাবেক্ষনে পৃথক কোন কর্তৃপক্ষ তৈরি না করায় নির্মাণের শেষ পর্যায়ে অনেকটা অরক্ষিত থাকছে এই ঝিল।

এখানে এসে দেখা গেল কয়েকটি শিশু দৌড়ে হাতিরঝিল ব্রিজের কংক্রিটের সুউচ্চ রেলিংয়ের উপর উঠছে। এটা তাদের কাছে খেলা মনে হলেও যেকোন মুহুর্তেই ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। এর পাশাপাশি আছে ছিনতাই, বখাটেদের মাদকগ্রহণসহ নানা অসামাজিক কর্মকা-। হাতিরঝিলে আসা এক দর্শণার্থী বলেন, এখানে অনেকে গাজার ব্যবসা করেন, অনেকে এখানে এসে মদ খায়, মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করে।

সড়কের টার্নিং বিবেচনায় না নিয়ে এখানে বেপরোয়া গাড়ী চালান সবাই। আছে ঝুঁকিপূর্ণ কার ও বাইক রেসিং। রাস্তার উপর অবৈধ গাড়ী পার্কিং এবং শ্যুটিংও চলে। প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। কখনো ঘটছে প্রাণ হানি। তরুণ তরুণীদের আপত্তিকর আচরণে প্রতিনিয়তই বিব্রতকর আগত পথচারী ও ভ্রমনপিয়াসীরা। এমনকি বাদ যায় না আত্মহত্যার ঘটনাও। এক পথচারী বলেন, মাঝে মধ্যেই এখানে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

রাতে ১৮ কিলোমিটারের এই হাতিরঝিল আরো নিরাপত্তাহীন। কোথাও কোথাও নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। উৎপাতকারী দুষ্কৃতিকারীদের হাতে চলে যায় লেক এলাকা। সবই চলছে অবলিলায়। এখানে আসা অপর এক দর্শনার্থী বলেন, ছেলে মেয়েদের অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে এখানে ডানে বামে তাকানো যায় না। আশে পাশের বস্তিগুলো অপরাধ কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু।

প্রকল্প এলাকার সীমানায় ৫টি থানা থাকলেও এখানকার অপরাধ দমনে কার্যত নিরব থানাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

হাতির ঝিলের স্থাপত্য ও নৈসর্গিক উপদেষ্টা দলের প্রধান স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, হাতিরঝিল এলাকার আশেপাশে কয়েকটি থানা থাকলেও এখানে সংঘটিত অপরাধের দায় দায়িত্ব কেউ নিচ্ছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতি উত্তরণের পথ খুঁজতে এখনও চিন্তাভাবনার পর্যায়ে আছে নিরপত্তা ও তদারকি সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীর তেজগাঁও অঞ্চলের পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব সরকার বলেন, মাদক সেবন ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা এখানে সংঘটিত হচ্ছে। পুরো বিষয়গুলো এখনও আলাপ আলোচনা ও পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে।

হাতিরঝিলের প্রকল্প পরিচালক মেজর জেনারেল আবু সাইদ মো: মাসুদ বলেন, প্রকল্প এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি জোরালোভাবে দেখা হচ্ছে। রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: নূরুল হুদা বলেন, আমরা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে যেকোন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে আয় থেকে ব্যয় করে এটাকে নিরাপদ ও আরো সৌন্দর্যমন্ডিত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এই বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণের শেষ সময়ে অজ্ঞাত কারণে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট। তবে রাজধানীবাসী চান অবিলম্বে হাতিরঝিল প্রকল্পের অব্যস্থাপনাগুলো দূর করে এটাকে অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে দেখতে

শেয়ার করুন