এলাকায় ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা কুষ্টিয়া ইবি থানার উজানগ্রামে দুগ্রম্নপের সংঘর্ষের ঘটনায় বাড়ীসহ ব্যাপক ভাংচুর-লুটপাট \ তাঁত কারখানাসহ ফসলের ক্ষতি

0
131
Print Friendly, PDF & Email

আশরাফুল ইসলাম অনিক , কুষ্টিয়া \\
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার উজানগ্রামে দুগ্রম্নপের সংঘর্ষের ঘটনায় মহিলা মেম্বরের বাড়ীতে হামলাসহ শতাধিক বাড়ী ঘরে ব্যাপক ভাংচুর করেছে দুষকৃতকারীরা৷ তাঁত কারখানাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে তারা৷ বদরুল আলম আন্টু গ্রম্নপের লোকজন এ তান্ডবলীলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার লোকজন৷ প্রশাসনকে অবহিত করলেও থানায় মামলা না নিয়ে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করে৷ টান টান উত্তেজনায় সময় পার করছে সেখানকার লোকজন৷ যে কোন মুহুর্তে ফের রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে এলাকাবাসী৷
জানা যায়, দীর্ঘদিন উজানগ্রাম গ্রামে বদরম্নল আলম আন্টু গ্রম্নপ ও আক্কাচ আলী গ্রম্নপের মধ্যে পূর্বের শত্রম্নতার জের ধরে বিরোধ চলে আসছিল৷ সামপ্রতি উজানগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন ও উজানগ্রাম পশুহাট ডাকাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন উত্তেজনা বিরাজ করছিল৷ এরই জের ধরে গত সোমবার বদরুল আলম আন্টু গ্রম্নপের লোকজন আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকার লোকজন জড়ো করতে থাকে৷ এরই পরিপেক্ষিতে প্রতিপক্ষরাও সংঘবদ্ধ হতে থাকে৷ প্রায় ২ হাজার লোক দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হয়ে মাদ্রাসা পাড়া ও কারিগরপাড়ার আক্কাচ গ্রম্নপের লোকজনের উপর হামলা চালায়৷ এ সময় সেখানকার মহিলা মেম্বর খোদেজা বেগমের বাড়িতে হামলা করে বাড়ির লোকজনের স্বর্ণের চেইন ছিনতাইসহ প্রায় শতাধিক ঘর ও পেপে বাগান এবং বেশ কয়েকটি তাঁত কারখানা ভেঙ্গে ফেলে৷ বদরম্নল আলম আন্টু গ্রম্নপের লোকজন প্রতিপক্ষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ব্যাপক ভাংচুর-লুটপাট ও মহিলাদেরকে বেধড়ক মারপিট করে৷ এ ঘটনায় আহত হয় প্রায় ২০/৩০ জন৷ আক্কাচ গ্রম্নপের লোকজন থানায় মামলা করতে গেলে থানায় মামলা নেয়নি বলে জানায় এলাকাবাসী৷
এ বিষয়ে আওয়ামীলীগ নেতা আক্কাচ আলী জানায়, চক্রানত্মকারীদের হামলায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে৷ মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে৷
উজানগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর জানান, এলাকায় ব্যাপক তান্ডবলীলা চালিয়ে দুস্কৃতকারীরা ব্যাপক্ষ ক্ষতি করেছে৷ এখন মানুষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে৷ এ নিয়ে গত দু’দিন আগে সমঝোতা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও কেউ সেখানে যায়নি৷ কোন সমাধান হয়নি৷
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে৷ উভয় গ্রম্নপই এখন সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়েছে৷ ফের যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে এলাকাবাসী৷

এ ব্যাপারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতর্া মীর শরিফুল ইসলাম জানান, এলাকায় প্রশাসনিক ফোর্স মোতায়েন করে পরিস্থিতি শানত্ম করা হয়েছে৷ এলাকার লোকজন কেউ সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ না দেওয়ায় তেমন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছেনা৷ থানা মামলা না নেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা-ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবী করেন৷

শেয়ার করুন