বেকার হয়েছে ৫০ হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক

0
93
Print Friendly, PDF & Email

নতুন বর্ধিত মজুরির ভার সইতে না পেরে অনেক কারখানা আগে থেকেই শুরু করেছে শ্রমিক ছাঁটাই। এরমধ্যে যোগ হয়েছে কমপ্লায়েন্স ইস্যু। এ ইস্যুতে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কারখানা। ফলে এ পর্যন্ত ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে গেছে। আরো পাঁচ লাখ বেকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বেকার হওয়া এ শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ কিভাবে হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানার মালিকদের এ ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা থাকলেও অনেক ছোট উদ্যোক্তা তা পারবেন না বলে বিজিএমইএ মনে করছে। এছাড়া নতুন কোনো কারখানায় কর্মচ্যুত শ্রমিকরা নিয়োগও পাচ্ছেন না। কারণ সব উদ্যোক্তাই এখন সংস্কার কার্যক্রম আর বর্ধিত মজুরি দেয়া নিয়ে আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। ফলে বেকার হওয়া এসব শ্রমিকদের কেউ নতুন কর্মক্ষেত্র খুঁজে বেড়াচ্ছেন আবার কেউ গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এতে এক ধরনের সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি এ প্রসঙ্গে মানবকণ্ঠকে বলেন, এ খাতে যা কিছুই হয় শেষ পর্যন্ত তার ঘানি টানতে হয় শ্রমিকদের। রানা প্লাজা ও তাজরিন ফ্যাশন দুর্ঘটনায় শ্রমিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ইস্যুতে যখন গোটা খাতকে সংস্কার করার কাজ শুরু হয়েছে তখনো তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এই শ্রমিকরাই। তিনি বলেন, যেভাবে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাতে আমরা আশঙ্কা করছি, কয়েক মাসের মধ্যে পাঁচ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। তিনি বলে, বেকার হওয়া শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য আমরা অ্যাকর্ডের কাছে চিঠি দিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত তার জবাব পাইনি।
বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, যারা কর্মচ্যুত হচ্ছেন তাদের দ্রুত কর্মসংস্থানের জন্য বিজিএমইএ ও সরকারকে একযোগে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে বন্ধ কারখানাগুলোর সংস্কার ও স্থানান্তরে আর্থিক সহায়তা, ব্যাংক ঋণের সুবিধা, নতুন কারখানা করতে চাইলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, কারখানা হয়তো খুব বেশি বন্ধ হবে না। কিন্তু বড় সমস্যা হচ্ছে ক্রেতারা এ ইস্যুতে রফতানি আদেশ বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে মালিকরা আর্থিক চাপের মধ্যে পড়ছেন। কর্মচ্যুত শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের বেতন বড় উদ্যোক্তারা হয়তো দিতে পারছেন। কিন্তু ছোট উদ্যোক্তাদের রফতানি বন্ধ হয়ে গেলে তারা কিভাবে তা দেবেন? এ ক্ষেত্রে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জানা গেছে, কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে গত এক বছরে প্রায় ৫০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়েছে। সম্প্রতি বন্ধ হওয়া কারখানার মধ্যে আছে ঢাকার সফটেক্স, আউটরাইট, কোস্ট টু কোস্ট, বেঙ্গল, ফেম অ্যাপারেল ও লিবার্টি। বিজিএমইএর কাছে এ ধরনের ২০টি কারখানার তালিকা রয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে আরো ছয়টি কারখানার শ্রমিকদের দ্রুত সরিয়ে নিয়ে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ইউরোপীয় ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড। এ কারখানাগুলো হলো ফোর উইং লিমিটেড, টেরি প্রাইভেট লিমিটেড, অল ওয়েদার ফ্যাশন, এলিগেন্ট, লিবাস টেক্সটাইল এবং চট্টগ্রামের মেনস অ্যাপারেল। অ্যাকর্ডের প্রধান নির্বাহী রব ওয়েজ এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের সরকারি সংস্থার মহাপরিদর্শককে রিভিউ কমিটির সমন্বয়ে কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে। তবে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকদের পরিণতি কী হবে এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি অ্যাকর্ড প্রতিনিধি। তিনি জানান, অ্যাকর্ডের চুক্তির ধারা অনুযায়ী মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক বজায় থাকবে। আর এ দায়িত্ব মালিকের।
এ প্রসঙ্গে সরকার কিংবা বিজিএমইএর করণীয় প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, একদিকে কারখানাগুলো কমপ্লায়েন্ট করার যেমন কোনো বিকল্প নেই অন্যদিকে তেমনি শ্রমিকদেরও ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে ওঠা যায় তাও ভাবতে হবে। যেসব কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সেগুলোর শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে ক্রেতাদের এগিয়ে আসার ব্যাপারে মালিকদের যে দাবি তা যৌক্তিক। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স থেকে কিভাবে এ ক্ষতিপূরণ নেয়া যায় এ ব্যাপারে আলোচনার জন্য সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া যেসব ছোট উদ্যোক্তাকে কারখানা স্থানান্তর করতে হবে তাদের সরকার স্বল্প সুদে ঋণ দিতে পারে। যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্মচ্যুত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান করা যায়। এছাড়া কিভাবে ছোট উদ্যোক্তাদের পুনর্বাসন করা যায় সে বিষয়ে বিজিএমইএ একটি পরিকল্পনা তৈরি করে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে।

শেয়ার করুন