সিদ্ধান্তহীনতায় বিএনপি

0
77
Print Friendly, PDF & Email

বর্তমানে দলীয় সাংগঠনিক দুর্বলতাই হল বিএনপির আন্দোলনের বড় বাধা। ঘর গোছানো থেকে শুরু করে সরকারবিরোধী আন্দোলন কর্মসূচি প্রণয়নে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে দলটি। বিভিন্ন সময় হাঁকডাক দিলেও অদৃশ্য কারণে আন্দোলনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না তারা। আগামী রোজার ঈদের আগে দলটির সরকারবিরোধী আন্দোলনের সম্ভাবনা ক্ষীণ।  দায়সারাভাবে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে চায় বলে জানা গেছে।
বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর জোরালো কোনও কর্মসূচি দিতে না পারায় হতাশ দলের নেতাকর্মীরা। ঘর গোছানো, কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা ও পুনরায় আন্দোলনের জন্য মাঠে নামতে কৌশলও ঠিক করতে পারছে না দলটি। উপরন্তু দলটির মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে  খালেদা জিয়া দল গুছিয়ে আবার আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন। এরপর গত ১ মার্চ রাজবাড়ীর জনসভাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, উপজেলা নির্বাচনের পরই আন্দোলন শুরু করবে তার দল। ৯ মার্চ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির নবনির্বাচিত আইনজীবীদের সংবর্ধনায় অনুষ্ঠনে একই কথা বলেন খালেদা জিয়া। গত ২৯ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেছিলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে বেশি দেরি করলে হয়তো দেশের আরও বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আন্দোলন আরও তীব্র হবে। তবে উপজেলা নির্বাচন শেষ হলেও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, বর্তমানে আন্দোলন করার কোনও পরিবেশ নেই। আন্দোলনের জন্য সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত নয় দলটি। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলনের ধকল এখনও পুরোপুরি কাটানো যায়নি। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী জেল খাটছেন। হাজার-হাজার নেতাকর্মী মামলার আসামি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও  স্থায়ী কমিটিসহ দলের প্রায় সব নেতাই বিভিন্ন মামলার আসামি। সরকার এখনও মারমুখী অবস্থানে। এই মুহূর্তে আন্দোলনে গেলে বিএনপির শক্তি আরও ক্ষয় হবে।
এদিকে এইচএসসি পরীক্ষা চলমান। ৩ এপ্রিল থেকে ৫ জুন পর্যন্ত তত্ত্বীয় বিষয় ও ৭ থেকে ১৬ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া জুন মাসজুড়ে রয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। যে কারণে আপাতত কঠোর কর্মসূচির বাইরে থাকছে বিএনপি। এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে কর্মসূচি দেওয়ার ব্যাপারে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ ইতোমধ্যে বলেছেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কর্মসূচি দেওয়া হবে না।
বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে রাজপথের আন্দোলন জোরদার করার চিন্তা করছে দলটি। এ সময়ের মধ্যে পুরোদমে দল গোছানোর কাজ শেষ করতে চান তারা। এবার আন্দোলনের কৌশল পরিবর্তনেরও চিন্তা করছেন খালেদা জিয়াসহ দলের সিনিয়র নেতারা। চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার আগে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় বিএনপি। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার ঢাকার বাইরে আরও কয়েকটি জনসভা করার কথা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, এখন আন্দোলন করার মতো কোনও পরিবেশ নেই। কথা বললেই সরকার সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার করছে। মামলা দিচ্ছে। তাই আপাতত বিএনপি রাজপথের আন্দোলনে যাচ্ছে না।
দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, আন্দোলনের চেয়ে দল পুনর্গঠনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে ঢাকা মহানগরসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর কাজও শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আন্দোলন কোনও দিনক্ষণ দিয়ে নির্ধারণ হয় না। এ সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ এমনিতেই ক্ষুব্ধ। –

শেয়ার করুন