কেন্দ্র চাইলেও আন্দোলনে প্রস্তুত নয় বিএনপির তৃণমূল

0
41
Print Friendly, PDF & Email

উপজেলা নির্বাচনে কিছুটা আশাবাদী হলেও সরকারবিরোধী আন্দোলনে এখনো প্রস্তুত নয় বিএনপি। তাই সরকারবিরোধী আন্দোলনকে সফল করতে এখন তৃণমূল পর্যায় থেকে দলকে ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠটিত করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে কাজ করছেন বিএনপির নেতারা।

চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এখন কেন্দ্রীয় বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলন কর্মসূচি দিতে চাইলেও এ ধরনের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত নয় দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

বিএনপির নীতি নির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলন কর্মসূচির জন্য যতটুকু শক্তি ও আত্মবিশ্বাস থাকা দরকার, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মী-সংগঠকরা তা অর্জন করে ফেলেছেন।

অবশ্য বেশ কয়েকজন স্থানীয় পর্যায়ের নেতা জানিয়েছেন, প্রতিশোধপরায়ন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজনের হামলা ও পুলিশি হয়রানি বা গ্রেফতারের মতো কর্মকাণ্ডের কারণে এখনই এ ধরনের কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে অবশ্যই নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করবে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও কৌশল হিসেবে বিএনপির শীর্ষ নেতারা চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন এবং তাতে সাফল্যের দেখাও মিলেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “উপজেলা নির্বাচনে আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে একরকম পথ হারিয়ে ফেললেও উপজেলা নির্বাচনের পর আত্মবিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে হারানো পথ ফিরে পেয়েছে তৃণমূল বিএনপি।”

দলের কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করেন, ‘সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাস’-এর ঘটনা ঘটার পরেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা উপজেলা নির্বাচনে ভালো ফলাফল করেছে এবং এই ফলাফল তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় বিএপির মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ভীষণভাবে ব্যর্থ হওয়ার পরে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রায় থমকে গিয়েছিল।

দলের শীর্ষ নেতারা তাই এখন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে তৃণমূলকে ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে চান। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হয়রানির শিকার হওয়ার আতঙ্ক কাজ করছে তৃণমূল বিএনপিতে। এতে কেন্দ্রীয় বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর এই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপলাভ করবে না বলে মনে করেন তৃণমূল বিএনপি নেতারা। তারা মনে করেন, যেভাবে আওয়ামী লীগের লোকজন তৃণমূল বিএনপিকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে তারপরেও সদ্যসমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির এই ফলাফল নজিরবিহীন।

বিএনপির বিভিন্ন জেলা কমিটির ১৫ জন সভাপতি, আহ্বায়ক এবং সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংঘর্ষ ও সহিংসতা, পুলিশের ওপর হামলা এবং ভোট কারচুপির অভিযোগে জেলা-উপজেলার তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়েরকৃত ‘মিথ্যা’ মামলার কারণে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে তাদের অধিকাংশ নেতাই নিজ নিজ উপজেলায় উপস্থিত থাকতে পারেননি।

পটুয়াখালী বিএনপির সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, “ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের হামলায় আহত হওয়ার পাশাপাশি আমাদের অনেক নেতা-কর্মী বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আটক আছেন।”

গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দেয়ার জন্য পুলিশ সদস্যরা টাকা দাবি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব কারণে উপজেলা নির্বাচনের পর বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মনোবল বাড়ার বদলে উল্টো কমে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

সাতক্ষীরা বিএনপির সভাপতি রহমতুল্লাহ পলাশ, নোয়াখালী বিএনপির আহ্বায়ক মো. শাজাহান এবং ফেনী বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন মিস্টারের কণ্ঠেও শোনা গেছে একই প্রতিধ্বনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকটি জেলা বিএনপির সভাপতি জানান, তিনি এখনো নিজের এলাকায় বসবাস করতে পারছেন বলে নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করেন কারণ তার জেলার অধিকাংশ দলীয় নেতাই এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যেভাবে প্রতি মুহূর্তে আমাদের হয়রানি করছেন, তাতে এই মুহূর্তে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। আন্দোলনের বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে চিন্তা করা যাবে।

শেয়ার করুন