মোদির বিরোধিতায় মমতা

0
48
Print Friendly, PDF & Email

ভারতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের পর সম্ভাব্য সরকার গঠনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের সমঝোতার সম্ভাবনার বিষয়ে খবর বেরিয়েছে। তবে গতকাল শুক্রবার মমতার মুখে শোনা গেল ভিন্ন সুর। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রশ্নে বিজেপির প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির তীব্র বিরোধিতা করেছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা পিটিআই প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গতকাল পশ্চিমবঙ্গে এক নির্বাচনী সমাবেশে কড়া ভাষায় মোদির সমালোচনা করেছেন মমতা।
বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মোদিকে উদ্দেশ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রচারণায় বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। দাঙ্গা সৃষ্টিকারী কোনো ব্যক্তি কখনো প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না।
কারও নাম উল্লেখ না করে মমতা বলেন, অর্থ ও টিভিতে উপস্থিত হয়ে ভোট পাওয়া যায় না। মানুষ যথেষ্ট জ্ঞানী। কাকে ভোট দিতে হবে, তা তাঁরা জানেন।
বিজেপিকে একটি সাম্প্রদায়িক দল হিসেবে অভিহিত করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে বিজেপি। আমরা পশ্চিমবঙ্গ দাঙ্গা হতে দেব না। আমরা শান্তিতে বাস করতে চাই। দাঙ্গা সৃষ্টিকারীদের আমরা প্রতিহত করব।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বিজেপির সাম্প্রদায়িকতাকে কংগ্রেস প্রতিরোধ করতে পারেনি। তবে তৃণমূল কংগ্রেস তা পারবে।
ভারতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের বিভিন্ন জরিপে প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয় পেতে যাচ্ছে বলে আভাস মিলছে। কিন্তু বিজেপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) কিংবা বিজেপি এককভাবে সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় আসন পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিজেপি সেই বিষয়টি মাথায় রেখে নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে। আর বিনিময়ে সরকার গঠনের পর বিজেপির কাছ থেকে মমতা পশ্চিমবঙ্গের জন্য আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ পেতে পারেন বলে খবর বেরিয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিজেপির সঙ্গে মমতার সমঝোতা হওয়ার ভালোই সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটা হতে পারে নির্বাচনের পর। মমতার দল বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএকে জোটকে। আর মমতার সমর্থন নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকার গঠন করতে পারলে বিনিময়ে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ দেবে, যেটা বিশাল ঋণের ভার থেকে মমতার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে রেহাই দেবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গুরুত্বপূর্ণ একজন রাজনীতিক বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন হবে। তার আগে রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙা করতে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। যেটা ওই নির্বাচনে নিজের পক্ষে সমর্থন বাড়াতে কাজে দেবে মমতার। আর কংগ্রেসের সঙ্গে বেশ কয়েক বছর ধরে মমতার একপ্রকার টানাপোড়েন চলছে। তাই কংগ্রেসকে সমর্থন দিলেও মমতার খুব একটা লাভ হবে না। এ কারণেই নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় মমতার সমর্থন বিজেপির পক্ষেই যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’
বিভিন্ন জরিপ ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এবার ২৫ থেকে ৩০টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। আর এটা হলে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ ও ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) পর এককভাবে সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল হতে পারে মমতার কংগ্রেসই। তখন সরকার গড়তে দুই পক্ষেরই প্রয়োজন হবে মমতাকে।
এখনই বিজেপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোটে না যাওয়ার কারণ হিসেবে সূত্রগুলো বলছে, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৫ শতাংশ মুসলিম ভোটার আছেন। নির্বাচনের আগে মোদির সঙ্গে হাত মেলালে সেই ভোট মমতার বাক্সে পড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসবে। মূলত এ কারণে নির্বাচনের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপির সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনার বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র ডেরেক ও’ ব্রায়েন বলেন, ‘এটা কংগ্রেস ও বামপন্থীদের প্রচারণা। আমরা বিজেপি, কংগ্রেস ও বামপন্থীদের সঙ্গে সমানভাবে লড়াই করছি। কোনো সমঝোতা করার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা বিশ্বাস করি, ফেডারেল ফ্রন্টই একমাত্র বিকল্প হতে পারে।’
এ ব্যাপারে টাইম অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে বিজেপির গণমাধ্যম সমন্বয়ক রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেন, ‘আমি তৃণমূলের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার বিষয়ে কিছু জানি না। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না।’
বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির ধারণা, সমঝোতার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠেয় বিধানসভা নির্বাচনই হবে মমতার মূল বিবেচনার বিষয়। আর সে কারণেই রাজ্যের জন্য আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের জন্য বিজেপিকে সমর্থন দেবে তৃণমূল। অন্যদিকে ২৫-৩০টি আসন পেলে কেন্দ্রে সরকার গঠনে তৃণমূলের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটি বিষয় সমঝোতায় পৌঁছাতে বাধ্য করবে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে।

শেয়ার করুন