সান্তাহার জংসনে আন্তঃনগর তিতুমির ট্রেনে হামলা

0
93
Print Friendly, PDF & Email

সান্তাহার-পার্বতীপুর রেলরুটে চোরাচালানী ইজারাকে কেন্দ্র করে বগুড়ার সান্তাহার জংশস স্টেশনে নিলফামারী থেকে রাজশাহীগামী আন্তঃনগর তিতুমির ট্রেনে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসী ও চোরাকারবারীরা।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টা থেকে শুরু হওয়া দফায় দফায় ওই হামলা ও লুটপাটে ওই ট্রেনের পরিচালক আব্দুল মালেক ও টিকেট কালেক্টর আরাফাত হোসেন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। তাদের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত ১০টার দিকে ট্রেনের পরিচালক আব্দুল মালেককে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাত সাড়ে ১০টায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় ।

ট্রেন পরিচালক আব্দুল মালেক জানান, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে আন্তঃনগর তিতুমির ট্রেনটি রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছাড়ার বাঁশি দেয়ামাত্র দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত শতাধিক সন্ত্রাসী ও চোরাকারবারির একটি দল ট্রেনে হামলা করে। এসময় তারা ট্রেনের ভিতরে প্রবেশ করে যাত্রীদের মালামাল লুট শুরু করে এবং ট্রেনের হুস পাইপ খুলে দেয়।

এ সময় সন্ত্রাসী হামলা ও লুটপাটে বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার হাতের দুটি আঙ্গুল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের সৃষ্টি হয়। এ সময় তাকে বাঁচাতে গেলে ট্রেনের টিকেট কালেক্টর আরাফাত হোসেনও সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন।

ঘটনার এক পর্যায়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী সান্তাহার জংশন স্টেশন এলাকায় লাঠিসোটা নিয়ে উপস্থিত হয়ে সন্ত্রাসী ও চোরাকারবারীদের ধাওয়া করে স্টেশন এলাকার দখল নেয়। এসময় ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং প্রাণভয়ে যাত্রীরা ট্রেনের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়। সন্ত্রাসীরা জাতীয় পার্টি সমর্থিত বলে জানা গেছে।

আন্তঃনগর ট্রেনে জাতীয় পার্টি সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে আদমদীঘি থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি নাজির হোসেন মিলন জানান, এ ঘটনার সাথে জাতীয় পার্টির কেউ জড়িত নন। তিনি বলেন, আমরা জিআরপি থানার মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার সময় কারা হামলা চালিয়েছে তা আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে সান্তাহার জিআরপি থানার ওসি শরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তিনি স্টেশন এলাকায় ছিলেন না। তবে, ঘটনা জানার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে রেলের চোরাচালানী রুটের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য পুলিশের সাথে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে রশি টানাটানি চলছিল। অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে জিআরপি পুলিশ চোরাচালানী রুটের ইজারার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দিয়েছেন, এধরনের সংবাদ প্রচার হওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

শেয়ার করুন