নির্বাচনের বাইরে রাখতে দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ বৃদ্ধি

0
78
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধীদলকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার কৌশল হিসেবেই দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
 
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর কুমিল্লা (উত্তর) শাখা।
 
উল্লেখ্য, বহুল আলোচিত-সমালোচিত দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ এই প্রথমবারের মতো একবারে পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধি করে বৃহস্পতিবার সংসদে আইনটির সংশোধনী পাস হয়, যা ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
 
নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই আইন ব্যবহার করে বিএনপি ও অন্যান্য দলকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হবে। যাতে কোনো যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে অংশ না নিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হবে। প্রার্থীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে রাখা হবে, যাতে পরের নির্বাচনে তারা অংশই না নিতে পারে।
 
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলামের সমালোচনাও করেন বিএনপির সিনিয়র এই নেতা।
 
তিনি বলেন, ভারতকে আমাদের দেশের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ নিতে দিচ্ছেন, অথচ লাভ-লোকসান কষা হয়নি বলছেন। দেশের লাভ-লোকসানের হিসাব না কষে আপনি কোন হিসাব কষছেন? অন্য দেশের লাভ দেখছেন, নিজের দেশেরটা দেখছেন না। দেশের লাভ-ক্ষতির নেগোসিয়েশন করতে না পারলে সে সরকারের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।
 
প্রসঙ্গত, ভারতকে করিডোর ব্যবহার করতে দিলে বাংলাদেশের কী লাভ হবে- বৃহস্পতিবার সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে মনোয়ার বলেন, লাভ-লোকসানের হিসাব এখনো কষা হয়নি।
 
সরকারের সমালোচনায় নজরুল ইসলাম বলেন, এই সরকার বিরোধী মত ও সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। তারা অপরাধী মনোভাবাপন্ন ও অপরাধী।
 
তিনি বলেন, যেখানে সূর্যোদয়ের আগেই ভোট বাক্স ভরে যায়, মিনিটে ৬টি করে ভোটগ্রহণ হয়, সেখানে নির্বাচনে আস্থা থাকতে পারে না। এ সরকার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে।
 
তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে না। এতে যা হবে তা কাঙ্ক্ষিত নয়। গণতন্ত্রকে সুযোগ দিন, নইলে যা হবার তাই হবে।
 
সংগঠনের সভাপতি আরিফ মাহমুদের সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা, ড. মোশাররফের দুই ছেলে খন্দকার মাহবুব হোসেন ও খন্দকার মারুফ হোসেন প্রমুখ।

শেয়ার করুন