সায়াদের হত্যাকারীদের বহিষ্কারের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস

0
60
Print Friendly, PDF & Email

সায়াদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার নাম প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁদের আজীবন বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন।
মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের শেষ বর্ষের ছাত্র সায়াদ ইবনে মোমতাজ হত্যার ঘটনায় গতকাল বুধবার ক্ষোভে উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকেরাও হত্যাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছাত্রলীগের দুই নেতা সুজয় কুমার কুণ্ডু ও রোকনুজ্জামানকে রাতে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে ছাত্রলীগের কর্মী আনিসুজ্জামান ও নাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা যায়, আজ সকাল নয়টার দিকে সব অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। সাড়ে নয়টার দিকে তাঁরা প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। এ সময় প্রশাসন ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফটকের সামনে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।ক্যাম্পাসে এক আড্ডায় একসঙ্গে দুই বন্ধু সুজয় ও সায়াদ (ডানে)। সায়াদ হত্যায় জড়িত সন্দেহে সুজয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সঠিক তদন্ত করে সায়াদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের পাশাপাশি আর যেন কোনো শিক্ষার্থীকে অন্য কোনো শিক্ষার্থী মারধর করতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত রোববার চতুর্থ বর্ষের ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিকস বিভাগের একটি কোর্সের ক্লাস পরীক্ষাটি শিক্ষককে বলে পেছানোর জন্য সায়াদকে চাপ দিয়েছিলেন সুজয় ও রোকন। তাঁদের চাপে একপর্যায়ে তিনি পরীক্ষা হবে না বললেও পরীক্ষা হয় এবং মাত্র দুজন অংশ নেন। শিক্ষক আবার পরীক্ষা নিতে রাজি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সুজয়ের সঙ্গে সায়াদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে সোমবার সন্ধ্যায় হলের ২০৫ নম্বর কক্ষে সায়াদকে ডেকে নিয়ে রড, লাঠি, হকিস্টিক দিয়ে নির্মমভাবে পেটানো হয়। পিটুনিতে সায়াদ বমি করেন ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। ওই কক্ষে তখন সুজয়, রোকনসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা ছিলেন।
ওই রাতে সায়াদকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তিনি ময়মনসিংহ শহরের ট্রমা সেন্টারে মারা যান। কে বা কারা তাঁকে ট্রমা সেন্টারে নিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

শেয়ার করুন