প্রশ্ন ফাঁসের দায়ে বাতিলকৃত ১৭ জেলায় প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৮ এপ্রিল

0
55
Print Friendly, PDF & Email
আগামী ১৮ এপ্রিল প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায়ে ১৭ জেলার বাতিলকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৩ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার তারিখ জানানো হয়েছে। ১৮ এপ্রিল শুক্রবার বেলা আড়াইটায় এ পরীক্ষা শুরু হবে। পুরাতন প্রবেশপত্রে পরীক্ষার্থীদের পূর্ব নির্ধারিত কেন্দ্রে এ পরীক্ষা  গ্রহণ করা হবে। 
প্রশ্ন ফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিলের পর দুই দফা পিছিয়ে তৃতীয়বারের মতো পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলো। প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পাওয়ায় গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ১৭ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা বাতিল করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য প্রার্থীদের নামে নতুন করে প্রবেশপত্র পাঠানো হবে না। আগের প্রবেশপত্র দিয়েই পরীক্ষায় অংশ নেয়া যাবে। গত বছরের (২০১৩) ৮ নভেম্বরে এ পরীক্ষা তিন পার্বত্য জেলা বাদে সারাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।  সর্বশেষ আগামী ২৮ মার্চ শুক্রবার বাতিল করা ১৭ জেলায় এ পরীক্ষা নেয়ার কথা ছিল।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি সাত সেট প্রশ্নের মধ্যে ‘হুয়াংহু’ ও ‘মিসিসিপি’ সেট ফাঁস হয় বলে প্রমাণ পায়। ফলে ওই দুই সেটে পরীক্ষা হওয়া ১৭ জেলা ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, কক্সবাজার, লালমনিরহাট ও নারায়ণগঞ্জ, সাতক্ষীরা, পাবনা, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী, মেহেরপুর, খুলনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের পরীক্ষা বাতিল করা হয়। 
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও দেশব্যাপী কয়েক দফায় উপজেলা নির্বাচনের কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে যায় এবং সর্বশেষ ২৮ মার্চ বাতিলকৃত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তার আগে ১৪ মার্চ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়। পরে পিছিয়ে ২৮ মার্চ সকাল ১০টায় করা হয়। এ তারিখ ঘোষণার পরে কর্তৃপক্ষের মনে হয়েছে ওই দিনটি শুক্রবার। তখন আরেক দফায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষা সকালের বদলে দুপুর আড়াইটায় নেয়ার কথা বলে উক্ত জেলাগুলোর পরীক্ষার্থীদের নতুন করে প্রবেশপত্র সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়। 

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ নভেম্বর নিয়োগ পরীক্ষার আগের দিন ওই জেলাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহে ফাঁস হওয়া প্রশ্নসহ কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছিল। এ খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হবার পরও প্রথমে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) বিষয়টি আমলেই নেয়নি। পরে এ-সংক্রান্ত আরো খবর সংবাদ মাধ্যমে একের পর এক প্রকাশিত হবার পর ডিপিই তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করে প্রাথমিক রিপোর্ট দিলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ডিপিই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়ার পর ১৭ জেলার পরীক্ষা বাতিলের কথা প্রকাশ করে

শেয়ার করুন