সোলার প্যানেলের মান নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রশ্ন

0
87
Print Friendly, PDF & Email

আমদানি করে দেশের বাজারে বিক্রি করা সৌর বিদ্যুতের সোলার প্যানেলের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘অত্যন্ত নিম্নমানের জিনিস বিক্রি করেন সোলার ব্যবসায়ীরা। যেসব প্যানেল দেন, তা সব দুই নম্বর।’

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআর কার্যালয়ের সভাকক্ষে আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের জন্য খাত ভিত্তিক প্রাক-বাজেট আলোচনায় গোলাম হোসেন এসব কথা বলেন।
এনবিআরের চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ভালো পণ্য দেওয়ার কথা বলে ক্রেতাদের খারাপ পণ্য দেন। সবাই নামীদামি দেশের নাম করে চায়নার পণ্য বিক্রি করেন। জার্মানি ও ইতালি থেকে সোলার প্যানেল আমদানি করা হয় বলে দাবি করা হয়। তবে আমরা জানি, এসব দেশ থেকে আমদানি হয় না। হলেও খুবই সামান্য।’
আজ বুধবার সকালে সভাটি দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুদ্রণ ও প্রকাশনা এবং তেল, গ্যাস, খাদ্য ও তামাকশিল্পের ব্যবসায়ীর সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। তাঁরা আগামী বাজেটে শুল্ক, কর, মূসক হ্রাসসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনবিআরের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, সৈয়দ আমিনুল করিম প্রমুখ।
দ্বিতীয় পর্বের আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়বল অ্যানার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি দিপাল সি বড়ুয়া। তিনি বলেন, বর্তমানে ৩০ লাখ বাড়িতে সোলার প্যানেল আছে। ছোট ছোট ইতিবাচক উদ্যোগ নিলে এই সোলার প্যানেলের মাধ্যমে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন সম্ভব বলে দাবি তাঁর।
বিএসআরইএ সভাপতি এলইডি বাতির ওপর ২৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং সোলারের যন্ত্রপাতি সংযোজনের জন্য কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক শূন্য করার দাবি জানান।
এ সময়ই এনবিআর চেয়ারম্যান সোলার প্যানেলের মান নিয়ে কথা বলেন। জবাবে দিপাল সি বড়ুয়া বলেন, ‘নিম্নমানের পণ্য সরবরাহকারীরা তাদের সমিতির সদস্য নন। তা ছাড়া আমরা পাঁচ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা দিই।’ জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারা তো বিজিএমইএর মতো কথা বলেন। যেখানেই আগুন লাগে, তারা বলেন এটি তাদের সদস্য নয়।’
গোলাম হোসেন আরও বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই সোলার খুব ভালোভাবে চলছে। আপনারা নিজেদের সদস্যদের নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করা বন্ধ করুন। একটু মান বজায় রাখুন।’ এ ছাড়া তিনি সোলার প্যানেলের নষ্ট ব্যাটারি ধ্বংস করতে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন।
বাংলাদেশ মিষ্টি প্রস্তুতকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান মিষ্টির দোকানের মোট বিক্রির ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) কমিয়ে ছয় শতাংশ এবং উত্পাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ মূসক শূন্য করার দাবি করেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ঢাকার বাইরের সিএনজি স্টেশনের ওপর বর্তমানে ধার্যকৃত ন্যূনতম কর শূন্য করার দাবি জানায়।

শেয়ার করুন