ভারতের নির্বাচনে বাংলাদেশের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি

0
71
Print Friendly, PDF & Email

ভারতের লোকসভা নির্বাচন প্রক্রিয়ার দিকে তীক্ষ্ন দৃষ্টি রাখছে বাংলাদেশ। ভারতের লোকসভা নির্বাচন চলতি বছরের এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

এই নির্বাচনকে বাংলাদেশ সরকার গুরুত্বসহকারে দেখছে। বাংলাদেশ সরকার ভারতে একটি স্থিতিশীল সরকার চাইছে।

ভারতের এই নির্বাচন হবে পাঁচটি ধাপে। এ নির্বাচন অনুষ্ঠানে এক মাসের মতো সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে অন্ধ্র প্রদেশ, ওডিশা ও সিকিমে নতুন বিধানসভা নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, সার্বিক আঞ্চলিক উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনা সরকার ভারতে একটি স্থিতিশীল সরকার চায়। নির্বাচনপূর্ব সহিংসতা কমিয়ে কীভাবে ভারতের মতো একটি দেশ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটাও দেখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার প্রকাশিত টাইমস অব ইন্ডিয়া র এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। ভারতের এ সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ সরকারের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ভারতে একটি স্থিতিশীল সরকার এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিয়ে আসবে। এতে লাভবান হবে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো।

তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টনসহ বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি ইস্যু ঝুলে রয়েছে। একটা স্থিতিশীল সরকার ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে এগুলোর সমাধান সম্ভব। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দলের বর্জনে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরাইশি বাংলাদেশ সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভীর সঙ্গে নির্বাচন প্রসঙ্গে আলোচনা করেন।

এ সময় রিজভী বলেন, ভারতের মতো একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এর জবাবে কুরাইশি জানান, ভারতের নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন দলটির প্রতি একটু বেশিই কঠোর।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে কুরাইশি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা ভারতে কখনোই ঘটেনি। কয়েকজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন, কিন্তু এত সংখ্যক নির্বাচিত হলে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হতো।

প্রসঙ্গত, ৭ এপ্রিল থেকে ভারতের লোকসভা নির্বাচন শুরু হবে।

বিশেষত, বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির জন্য এবারের নির্বাচন বিশাল চ্যালেঞ্জের। যদিও এখন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা ও জনপ্রিয়তায় তিনিই এগিয়ে রয়েছেন, তবু নির্বাচনের আগ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদে না লড়ার ঘোষণা নির্বাচনে এক নতুন আমেজ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি রাহুল গান্ধীর প্রচারণা ও প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লড়ার সম্ভাবনা নির্বাচনকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। তবে দিল্লিতে একেবারে নতুন রাজনৈতিক দল আম আদমি পার্টির বিজয় রাজনৈতিক দলগুলোকে এরই মধ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

শেয়ার করুন