এখন তারা শতভাগ সংসারী

0
68
Print Friendly, PDF & Email

ভাবা যায় না। এক কথায় বিস্ময়কর। তবুও এটাই বাস্তবতা। এটাই এখন বড় সত্য। দুর্দান্ত প্রতাপের সঙ্গে গ্ল্যামার ভুবন শাসন করা তারকারাও থেমে যান মাঝপথে। তরতর করে ঊর্ধ্বমুখী ক্যারিয়ারের লাগাম টেনে ধরেন আপন খেয়ালে অথবা বেখেয়ালে। তাও আবার বড্ড অসময়ে। শূন্য দশক মাতানো এমনই দুই জনপ্রিয় টিভি নায়িকা চাঁদনী ও শ্রাবন্তী। ব্যক্তিগত জীবনে দু’জনেই ভাল বন্ধু। প্রায়শই আড্ডায় মেতে ওঠেন একে অপরের সঙ্গে। দু’জনেই এখন শতভাগ ব্যস্ত সময় পার করছেন আপন আপন সংসারে। চাঁদনী-শ্রাবন্তীর মূল পরিচিতি কিংবা তারকা খ্যাতি টিভি নাটক দিয়ে এলেও দু’জনেই ছিলেন গ্ল্যামার অঙ্গনের ভার্সেটাইল মুখ। টিভি নাটকের পাশাপাশি দু’জনেই সফল ছিলেন নাচ, মডেলিং ও চলচ্চিত্রে। এর মধ্যে চাঁদনীর শুরুটাই হয় ‘দুখাই’ চলচ্চিত্র দিয়ে। আলোচিত এই চলচ্চিত্রে কিশোরী চাঁদনী তার অভিনয় জাত চিনিয়ে দিয়েছেন দর্শক-সমালোচকদের। এরপর তিনি আরও দু’টি অসাধারণ চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেন। একটি ‘লালসালু’ অন্যটি ‘জয়যাত্রা’। এর মধ্যে তানভীর মোকাম্মেলের ‘লালসালু’তে অভিনয়ের জন্য ঘরে তোলেন সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এই তিন চলচ্চিত্রের বাইরে চাঁদনী অভিনীত অসংখ্য নাটক রয়েছে, যা ঐতিহাসিক নাটকের খাতায় জমা থাকবে অনেক যুগ। এমনটাই বিশ্লেষণ নাটক বিশ্লেষকদের। অন্যদিকে চাঁদনীর সমসাময়িক আরেক আকাশ ছুঁই জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী-নায়িকা শ্রাবন্তী। যিনি নাটক-মডেলিংয়ের শীর্ষ জনপ্রিয়তায় গিয়েছেন খুবই অল্প সময়ে। একই সঙ্গে তার অভিনীত একমাত্র চলচ্চিত্র ‘রং নম্বর’ দিয়ে দারুণ আলো ছড়িয়েছেন চলচ্চিত্রাঙ্গনে। তখন অনেকেই বলেছেন, চলচ্চিত্রের নতুন দরজা খুলেছেন শ্রাবন্তী। শাবনূর-মৌসুমী-পূর্ণিমা দুর্গে ভালই হানা দিয়েছেন তিনি। এদিকে তর তর করে নানামাত্রায় এগিয়ে চলা দুই তারকার মধ্যে চাঁদনীর ক্যারিয়ার প্রায় গুঞ্জনমুক্ত থাকলেও  শ্রাবন্তীর পুরোটা জুড়ে ছিল নানামাত্রিক গুঞ্জনে টইটুম্বুর। সংগীত তারকা বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে বিয়ের আগে তারই সঙ্গে অল্প কিছু সময় প্রেমের গুঞ্জনে আক্রান্ত হন চাঁদনী। আর সেই প্রেম গুঞ্জনের সফল পরিণতি ঘটে ২০০৮ সালের ২১শে মার্চ। বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন চাঁদনী-বাপ্পা। অন্যদিকে পার্থ বড়ুয়ার সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছরের সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ২০১০ সালের ২৯শে অক্টোবর শ্রাবন্তী বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন এনটিভির অনুষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তা খোরশেদ আলমের সঙ্গে। দুটো বিয়েই ছিল তাক লাগানো, হঠাৎ বৃষ্টির মতো। এদিকে বিয়ের পরেও চাঁদনী ভালই ব্যস্ত ছিলেন টিভি নাটকে। নির্মাণ করেছেন বাপ্পার গানের ভিডিও। ২০১০ সাল পর্যন্ত দারুণ চলছিল চাঁদনীর সংসার এবং অভিনয় জীবন। এরপর থেকে গেল প্রায় সাড়ে তিন বছর তাকে মিডিয়ার কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি সেই অর্থে। মাঝে কিছু দিন আমেরিকায় ছিলেন স্বজনদের সঙ্গে। দেশে ফিরে হাল ধরেছেন সংসারের। জানা যায়, মাঝের সময়ে মিডিয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। তাই তো শতভাগ সংসারী হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন গেল প্রায় চার বছর ধরে। তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি অরণ্য আনোয়ারের ‘দহন’ নামের একটি নাটকে অভিনয় করেছেন। তার মানে এই নয় তিনি আবারও ফিরেছেন অভিনয়ে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কালেভাদ্রে অভিনয় করলেও চাঁদনী এখন শতভাগ সংসারমুখী। এদিকে চাঁদনীর চেয়ে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে আছেন তারই প্রিয় মিডিয়া বান্ধবী শ্রাবন্তী। বিয়ের পর তাকে আর পাওয়া যায়নি মিডিয়ায়। শতভাগ এড়িয়ে চলছেন টেলিভিশন ও পত্রিকা। বিয়ের এক বছরের মাথায় কন্যা সন্তানের মা হন তিনি। রাবিয়াহ আলম নামের এই ফুটফুটে কন্যা সন্তান আর স্বামী খোরশেদ আলমকে নিয়েই শ্রাবন্তীর এখন সারাবেলা। তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চাঁদনীর মতো তারও কোন আগ্রহ নেই অভিনয়ের প্রতি। বরং তিনি এখন সংসার-সন্তান নিয়ে ঘরে বসে উপভোগ করছেন এই সময়ের নাটক-বিজ্ঞাপন এবং সিনেমাগুলো। এদিকে চাঁদনী-শ্রাবন্তীর মতো মডেল মিলা, অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ, রাত্রী, শারমীন শিলারাও এখন নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন সংসার সীমানায়, যা দর্শকদের প্রতি তারকাদের অনাকাঙিক্ষত অবিচার বলেই মনে করছেন সমালোচকরা।

শেয়ার করুন