তত্ত্বাবধায়ক দাবির যৌক্তিক ভিত্তি অর্জন

0
57
Print Friendly, PDF & Email

চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে ফল-বিপর্যয়কে সাফল্যের পূর্বাভাস ও সাংগঠনিক রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর উপলক্ষ হিসেবে দেখছে বিএনপি। নেতারা বলছেন, দৃশ্যত সরকারি দলের বিজয় হলেও রাজনীতিতে তাদের অপমৃত্যু ঘটেছে। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবিকে যৌক্তিক ভিত্তি দিয়েছে। এখন নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে শুরু হবে নতুন মাত্রার আন্দোলন। এদিকে পাঁচ দফায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রথম দুইধাপে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ফল-বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দলটি। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের আজ্ঞাবহ মনোভাব, সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের নৈরাজ্য এবং নানা অনিয়মের ঘটনায় ধরে রাখতে পারেনি সাফল্যের অগ্রযাত্রা। একের পর এক উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের নিতে হয়েছে পরাজয়ের বিস্বাদ। আপাতদৃষ্টিতে চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন বিএনপির নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি বড় বিপর্যয়। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতিতে এ বিপর্যয়কে ভবিষ্যৎ সাফল্যের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচনা করছেন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। তারা বলছেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাচনে গিয়েছিল বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। রেফারি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় সরকারি দল দৌড়ে প্রথম হলেও তাদের বস্ত্র খসে পড়েছে। সরকারি দলকে বাহ্যিকভাবে উৎফুল্ল দেখালেও বাস্তবে তারা পাচ্ছেন নিমের তেতো স্বাদ। নৈরাজ্য ও অনিয়মের জয় তারা উদযাপন করতে পারছেন না। ফলে সরকারি দলের নৈরাজ্য ও অনিয়মে রাজনৈতিকভাবে জিতেছে বিএনপি। প্রমাণ হয়েছে, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনে বিএনপির সিদ্ধান্ত ছিল ঐতিহাসিকভাবে সঠিক। পাশাপাশি বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর প্রধান নিয়ামক হবে দলীয় অন্তর্কোন্দল ও জোটের কৌশলী আচরণ প্রকাশের ঘটনা। উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আলাপে বিএনপি স্থায়ী কমিটিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এমন মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে ভোট ডাকাতির উপজেলা নির্বাচন দেশ-জাতি ও আন্তর্জাতিকভাবে ধিকৃত হয়েছে। এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন। পাশাপাশি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের নেতাকর্মীরা নতুন করে লড়াইয়ের মনোবল ফিরে পেয়েছে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই ঘটুক নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে আমরা সফল হয়েছি। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের জনগণ দেখল এবং উপলব্ধি করতে পারলো আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া নির্বাচন চলাকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিদেশে ছুটিতে গেছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজনৈতিক বাহাসে জড়িয়ে পড়েছেন। বিচারিক ক্ষমতাহীন নিষ্ক্রিয় করে নির্বাচনী মাঠে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনীকে। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের একটি অভিযোগের প্রতিকার করেনি কমিশন। কমিশনের এমন আজ্ঞাবহ ভূমিকা প্রমাণ করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যৌক্তিকতা।
আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়- এমন অবস্থান থেকেই নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯দল। তারই অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ৫ই জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনপূর্ব বিএনপির সভা-সমাবেশগুলোতে ছিল বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে একটি আলোচনা উঠেছিল যে, আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে গেলেও বিজয়ী হতো বিএনপি। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছিল নানা জিজ্ঞাসা। উপজেলা নির্বাচনে সে প্রশ্ন ও কৌতূহলের জবাব মিলেছে। প্রথম দুই ধাপের উপজেলা নির্বাচনে মোটামুটি প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এগিয়ে ছিল বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। কিন্তু তৃতীয় ধাপ থেকে বিপর্যয়ের দিকে গড়ায় পরিস্থিতি। প্রশাসনের হয়রানি ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের আক্রমণাত্মক ভূমিকার কারণে পাল্টে যায় পরিস্থিতি। বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্বাচনের মাঠে কার্যকর প্রচারণাসহ নির্বাচনী কর্মকা- সে্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণই করতে পারেনি। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা পোলিং এজেন্ট দিতে পারেননি বেশির ভাগ উপজেলায়। সরকারি দলের নেতাকর্মীরা বিরোধীদের ওপর হামলার পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, আগের রাতেই সিল মেরে বাক্স ভরে রাখা, জালভোট ও বুথে বুথে মহড়া দিয়েছে। কিন্তু চোখের সামনে এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন ছিল নীরব। উল্টো নির্বাচনের আগমুহূর্তে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করেছেন বিরোধী নেতাকর্মীদের। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ছিল একপেশে। অভিযোগের পাহাড় জমলেও প্রতিকার মেলেনি। ব্যাপক সহিংসতার পরও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করেছেন। এমন একচক্ষু নীতির কারণে একের পর এক উপজেলায় নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের। দিনভর এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে পরাজিত হয়েছেন অনেকেই। এমন পরিস্থিতি প্রমাণ করেছে বিএনপির জাতীয় নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। বিএনপি নেতারা বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির আহ্বানে সাড়া দেয় জনগণ। নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে কোন নির্বাচনই হয়নি। ১৪৭টি আসনে নির্বাচন হলেও ভোট পড়েছে ১৫ভাগ আর বিজয়ী হয়েছে সরকার দলীয় প্রার্থী। জাতীয় নির্বাচনে দেশী ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বিএনপির দাবির যৌক্তিকতা অনেকটাই পরিষ্কার হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবির যৌক্তিক ভিত্তি অর্জিত হয়েছে উপজেলা নির্বাচনে। এছাড়া পাঁচধাপে ৪৫৮টি উপজেলার নির্বাচন হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচন বয়কট করলেও দলীয় পরিচয়বিহীন স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি। জাতীয় নির্বাচন বয়কট করায় দশম জাতীয় সংসদে বিএনপির কোন অংশগ্রহণ নেই। কিন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এক-তৃতীয়াংশ উপজেলা পেয়েছে বিএনপি সমর্থিত জনপ্রতিনিধি। নির্বাচনমুখী একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে ১৬০টি উপজেলায় জনপ্রতিনিধি নিশ্চিত হয়েছে তাদের। বিএনপি নেতারা জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সবচেয়ে বড় উপলক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচন। তৃণমূল নেতাকর্মীরাও সবসময় নির্বাচনমুখী। উপজেলা নির্বাচনে তাদের অনেকেই অংশ নিয়েছে। ফলে বঞ্চিত-নির্যাতিত তৃণমূল নেতৃত্বে সংগঠিত হওয়ার মাধ্যমে লড়াই করার মনোবল ফিরে পেয়েছে। নানা প্রতিকূলতা, দুর্বলতার মধ্যেও উপজেলা নির্বাচনের এই ফল বিপর্যয় বিরোধী নেতাকর্মীদের মধ্যে যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে তা বিরোধী রাজনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। নেতারা মনে করে, উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নিলে তৃণমূলে ভাঙন ধরানোর ষড়যন্ত্রের মধ্যে ফেলা হতো বিএনপিকে। এখন জয়পরাজয় যাই ঘটুক উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণে তৃণমূলে বিএনপির প্রতি ঐক্য বেড়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির বড় সাফল্য হচ্ছে- প্রমাণ হয়েছে ৫ই জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত ছিল ঐতিহাসিকভাবে সঠিক। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘শান্তিপূর্ণ ভোট ডাকাতি’, ‘শান্তিপূর্ণ ভোট জালিয়াতি’, ‘রাতেই ব্যালট বাক্স ভরাট’, ‘দখল উৎসবে ভোট বর্জন’ ও ‘সিল মারার মহোৎসব’, ‘শেষটাও ভালো হলো না’ শীর্ষক সংবাদ শিরোনামেই প্রমাণ করে তত্ত্বাবধায়কের সে যৌক্তিকতা। ব্যর্থতা হচ্ছে- বিএনপি প্রার্থী সমর্থনে সমন্বয় ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারেনি। তবে কোন্দল প্রকাশের ঘটনা ভবিষ্যতে সাংগঠনিক পুনর্গঠনে উপকৃত হবে বিএনপি।
ওদিকে বিরোধীদল হিসেবে বিগত ৭ বছরে নানা ঘাতপ্রতিঘাত এসেছে বিএনপির সামনে। ওয়ান ইলেভেনের সময় শীর্ষ নেতাদের কারণে বিএনপির অস্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু তৃণমূল নেতাকর্মীদের সুদৃঢ় ঐক্যের কাছে পরাস্ত হয়েছিল সে পরিস্থিতি। পরবর্তীতে একদিকে সুবিধাবাদীরা যেমন জায়গা পুনর্দখল করেছেন অন্যদিকে ত্যাগী-বঞ্চিতরা পুড়েছেন বঞ্চনার আগুনে। এ সময় কারাবন্দি হয়েছেন দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী। নিখোঁজ ও গুম হয়েছেন অনেকেই। আহত হয়েছেন হাজার হাজার। মামলার ঘানি টানছেন লাখো নেতাকর্মী। কিন্তু এতকিছুর পরও সাংগঠনিকভাবে সুসংগঠিত হতে পারেনি দলটি। আত্মরক্ষার্থে, ব্যবসায়, সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় ব্যস্ত ছিলেন কেন্দ্রীয় অনেক নেতা। ফলে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি যাচাই হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে সে অনৈক্যের খেসারত দিতে হয়েছে দলটিকে। আওয়ামী লীগ যেখানে বেশির ভাগ উপজেলায় একক প্রার্থী দিয়েছে সেখানে বিএনপির ছিল ২-৪ জন। অনেক উপজেলায় নিজেদের মধ্যে ভোট ভাগাভাগি করতে গিয়ে পরাজিত হয়েছেন তারা। এছাড়া উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বহিষ্কার করা হয়েছে জাতীয় নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্য, সাবেক এমপি, জেলা-উপজেলার শীর্ষ নেতাসহ অন্তত ২৫০ নেতাকর্মীকে। অন্যদিকে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চূড়ান্ত রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে পড়েছে দলটি। জামায়াতের সঙ্গে জোট বাধার কারণে সে প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়েছে বিএনপিকেও। দলটির অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার দায়-দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এসে পড়েছে বিএনপির ঘাড়ে। আন্তর্জাতিক মহলেও চিত্রায়িত করা হয়েছে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোটের যৌক্তিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি বিএনপি। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনে নতুন কৌশলী ভূমিকায় দেখা গেছে জামায়াতকে। তফসিল ঘোষণার পর জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা বেশির ভাগ উপজেলায় প্রতিটি পদেই মনোনয়নপত্র জমা দেয়। পরে জোটের শরিক বিএনপির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বেশির ভাগ উপজেলায় তারা ভাইস চেয়ারম্যান পদের বিপরীতে চেয়ারম্যান পদে ছাড় দেয়ার ঘোষণা দেয়। বাস্তবে বিএনপি সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয় সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়ালেও চেয়ারম্যান পদে কথা রাখেনি জামায়াত। ফলে স্বল্পভোটের ব্যবধানে অন্তত কিছু উপজেলায় হেরেছে বিএনপি। আবার যেসব উপজেলায় তারা চেয়ারম্যান পদে লড়েনি সেখানে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য কোন ভূমিকা রাখেনি জামায়াত। নির্বাচনে দেখা গেছে, বেশির ভাগ উপজেলায় নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে পারেনি বিএনপি। কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে দা-কুমড়ো সম্পর্কের পরও সেখানে বহাল ছিলেন জামায়াত প্রার্থীরা এজেন্টরা। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এ ব্যাপারে পরিষ্কার কোন বক্তব্য না এলেও ইতিমধ্যে জেলা নেতারা জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে একটি দূরত্বও তৈরি হয়েছে। বিএনপির উপজেলা নির্বাচন সমন্বয় কমিটির সদস্য যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ভোটবিহীন জাতীয় নির্বাচন ও নৈরাজ্যময় উপজেলা নির্বাচনে দেশের সাধারণ মানুষ নির্বাচনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তারা বুঝতে পেরেছে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া না যাওয়ার বিশেষ কোন পার্থক্য নেই। এছাড়া ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনে বিএনপির সিদ্ধান্ত নিয়ে নানামহলে একটি প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছিল। উপজেলা নির্বাচনে তার উত্তর মিলেছে। যে নির্বাচনে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হয় না সে নির্বাচনেও পিছিয়ে থাকার বেদনা সহ্য করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। সত্যিকার অর্থে উপজেলা নির্বাচনে সরকার উলঙ্গ হয়ে পড়েছে। মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, নির্বাচনে আমাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা দেখা গেছে। শীর্ষ নেতৃত্ব উপলব্ধি করলে এ দুর্বলতা ভবিষ্যত সাফল্যের সিঁড়িতে পরিণত হতে পারে। যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, তরুণ প্রজন্ম ৭২-৭৫ সাল দেখেনি, এরশাদ জামানাও দেখেনি। তারা দেখেছে আওয়ামী লীগ কতটুকু উলঙ্গ হতে পারে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে দেশের ৯০ভাগ মানুষ বিএনপির ডাকে সাড়া দিয়ে ভোটদান থেকে বিরত ছিল। এবার নির্বাচন কমিশন মেরুদ- শক্ত রেখে নির্বাচন পরিচালনা করলে সে ৯০ভাগের ভোট বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরাই পেতেন। আলাল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় আবরণে না হওয়ায় তৃণমূল নেতারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য থাকেননি। জোটের শরিক দল জামায়াতও তাদের প্রার্থিতা ধরে রেখেছে। বিষয়গুলো উত্তরণে নিশ্চয় শিগগিরই শীর্ষ নেতৃত্ব উদ্যোগ নেবে।

শেয়ার করুন