কাকের বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ পেলেন বিজ্ঞানীরা

0
60
Print Friendly, PDF & Email

নিউজিল্যান্ড ও ব্রিটেনের মনোবিজ্ঞানীরা বিশেষ একটি প্রজাতির কাকদের নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে হাতেনাতে তাদের বুদ্ধিমত্তার স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন। ঈশপের গল্পের কাকের মতো এই কাকেরাও পাথর ফেলে জলের নাগাল পেয়েছে।
ছোটবেলায় ঈশপের গল্প পড়েন বা শোনেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। ঈশপের নাম না জানলেও অন্তত সেই গল্প আবার শুনলে চিনতে পারার সম্ভাবনাই বেশি। যাই হোক, তাতে এক বুদ্ধিমান কাকের গল্প রয়েছে। তৃষ্ণার্ত সেই কাক একটি কলসি দেখতে পেয়েছিল। কিন্তু তাতে জলের স্তর এত নীচে, যে মাথা গলিয়ে তার নাগাল পাওয়া অসম্ভব। তখন সে চারিদিক থেকে পাথর কুড়িয়ে এনে কলসিতে ফেলতে থাকে। এক সময় কলসির তলার জলের স্তর ওপরে ওঠে এলো। ব্যস, আর তাকে পায় কে! সে তখন সহজেই তৃষ্ণা মেটাতে পারলো।
এই পদক্ষেপের পেছনে যে বৈজ্ঞানিক সূত্র লুকিয়ে রয়েছে, তা আবিষ্কারের কৃতিত্ব যায় আর্কিমিডিসের কাছে। বেচারা কাক! তাকে আর কে পাত্তা দেয়!
কিন্তু দেরিতে হলেও এবার বৈজ্ঞানিকরাই কাকের কৃতিত্ব প্রমাণ করে ছাড়লেন। কাকেদের কয়েকটি প্রজাতি যে খুবই বুদ্ধিমান, হাতেনাতে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিকরা ঈশপের গল্পের ভিত্তিতে একটি পরীক্ষা চালিয়ে তা জানতে পেরেছেন। তবে কিছু পূর্ব প্রস্তুতির পরেই তা সম্ভব হয়েছে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন ব্রিটেনের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদরা।
তারা ‘নিউ ক্যালিডোনিয়ান ক্রো’ প্রজাতির ছয়টি কাককে পরীক্ষার জন্য বেছে নিয়েছিলেন। তবে প্রথমেই সামান্য জলভরা কলসির সামনে তাদের হাজির করা হয়নি। তার আগে তাদের ঠোঁটে করে পাথর তুলে একটি টিউবে ফেলার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণের পর তাদের সামনে কয়েকটি টিউব রাখা হয়। তার কয়েকটির মধ্যে জল, বাকিগুলির মধ্যে বালু ছিল। দেখা গেল, কাকেরা বেছে বেছে জলভরা টিউবেই পাথর ফেলছে। শুধু তাই নয়, ফেলার আগে ভেবে-চিন্তে তারা সঠিক বস্তু বেছে নিচ্ছে। যেমন যে বস্তু ডুবে যায়, সেটাই তারা কাজে লাগাচ্ছে। যে বস্তু জলে ভাসে তা উপেক্ষা করছে। ফাঁপা নয়, শক্ত বস্তুই তারা তুলে নিচ্ছে। যে টিউবে জলের স্তর কম, তা এড়িয়ে গিয়ে উঁচু স্তরের জলের প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি।
কাকদের বিশ্লেষণের এই বিস্ময়কর ক্ষমতা সত্যি অবাক করার মতো। তবে তাদের বুদ্ধিমত্তার সীমাও রয়েছে। বিশেষ করে দুটি পরীক্ষায় তারা পাস করতে পারেনি। একই জলের স্তরের দুটি টিউবের মধ্যে একটি ছিল সরু, আরেকটি মোটা। অন্য একটি জটিল পরীক্ষায় তিনটি টিউবে একই পরিমাণ জল ছিল। শুধু মাঝেরটি এত সরু ছিল যে, তাতে পাথর ফেলা সম্ভব নয়।
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, শহরের ভিড় থেকে কাক-শালিক যেন হারিয়ে যাচ্ছে। তাতে কিছু মানুষ খুশি হলেও বাকিরা বেশ দুঃখিত। ধৈর্য ধরে কাকের কেরামতি যে দেখেছে, সে জানে ব্যাপারটা কতটা মজার।

শেয়ার করুন