৩ পুলিশ সদস্য ও ১ সোর্স গ্রেফতার

0
121
Print Friendly, PDF & Email

চোরাচালান স্বর্ণের ১৬৫টি বার আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর রামপুরা থানার এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের এক সোর্সকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে আত্মসাত হওয়া ১৮ কেজি ওজনের ১৪৯টি বার উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেনঃ রামপুরা থানার সিভিল টিমের এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম, কনস্টেবল ওয়াহেদুল, আকাশ চৌধুরী ও পুলিশের সোর্স রনি। সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ১৩ মার্চ রামপুরায় একটি প্রাইভেটকার থেকে চোরাচালানের স্বর্ণ জব্দ করার পর নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে তিন পুলিশ সদস্য তাদের শ্বশুরবাড়ি ও নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিলেন। এর আগে ৭০ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধারের ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় রামপুরা থানার ওসি (অপারেশন) কৃপাসিন্ধু বালা ও ওসি (তদন্ত) নাসিম আহমেদকে ডিএমপি কমিশনার গতকাল প্রত্যাহার করে নেন। মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম, ডিবির উপ-কমিশনার (পূর্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর ও উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গত ১৩ মার্চ সোর্স রনির তথ্যের ভিত্তিতে এসআই মঞ্জুরুল, কনস্টেবল আকাশ ও ওয়াহেদুল বনশ্রী এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকার জব্দ করে। এসময় প্রাইভেটকারের আরোহীরা পালিয়ে যায়। তারা গাড়ি করে ২৩৫টি স্বর্ণের বার পান। কিন্তু স্বর্ণগুলো তারা জমা না দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন। গ্রেফতারকৃত জাহিদ হোসেন ও সমীর বিশ্বাস মুখ্য মহানগর হামিম আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জানান, ‘তারা ২৩৫টি স্বর্ণের বার নিয়ে বনশ্রী এলাকা থেকে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার যাচ্ছিলেন। এসময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যান। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী রামপুরা পুলিশের এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম, কনস্টেবল ওহেদুল ইসলাম, আকাশ চৌধুরী ও কথিত সোর্স রনি আহমেদকে মহানগর ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা স্বর্ণ আত্মসাত করার বিষয়টি স্বীকার করেন। গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব) জাহাঙ্গীর আলম মাতুব্বর জানান, সোমবার সকালে কথিত সোর্স রনি স্বীকার করে যে, তার কাছে ১৪টি স্বর্ণের বার রয়েছে। রনির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের সাতাইশে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে ১৪ স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তিন সদস্যকে ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা স্বর্ণ ভাগ-বাটোয়ারার কথা স্বীকার করেন। সোমবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের তিনটি টিম একযোগে অভিযানে নামে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে এসআই মঞ্জুরুলের হবু শ্বশুরবাড়ির ডিপ ফ্রিজ থেকে ৫৮ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করেন। একটি গরুর মাংসের প্যাকেটের মধ্যে স্বর্ণের বারগুলো ভরে ফ্রিজে রাখা হয়েছিলো। কনস্টেবল আকাশের গাজীপুরের শ্বশুরবাড়ি থেকে ১৪ ও বগুড়ার সোনাতলার ওয়াহেদের গ্রামের বাড়ি থেকে ৬৩ স্বর্ণবার উদ্ধার করে ডিবি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, খোয়া যাওয়া স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগে রামপুরা থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা ও পরিদর্শক (তদন্ত) নাসিম আহমেদকে প্রত্যাহার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণসহ চোরাকারবারীদের ছেড়ে দেয়ার পুলিশের রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) শিবলী নোমান রামপুরা থানার ওসিকে চাপ সৃষ্টি করেন। চোরাকারবারীদের সাথে ১৬ মার্চ রাতে তিনি বৈঠক করেন বলে অভিযোগ উঠে। স্বর্ণ চোরাকারবারীদের সাথে এসি শিবলী নোমানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি জানতে চাইলে ডিসি জাহাঙ্গীর আলম মাতুব্বর সাংবাদিকদের জানান, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারকৃত মোট ২৩৫টি স্বর্ণের বারের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তা ও সোর্স রনি ৭০টি উদ্ধার দেখিয়ে ১৬৫টি আত্মসা?ত করেছিলেন। তার মধ্যে ১৪৯টি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ১৬টি নিখোঁজ রয়েছে। এই ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করার জন্য পুলিশ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালাচ্ছে। খুব শ্রীঘ্রই এই ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হবে। মনিরুল ইসলাম বলেন, আটককৃত সমীর ভারতীয় নাগরিক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই স্বর্ণের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল। স্বর্ণগুলো দুবাই থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমনত বিমানবন্দরে আসে। পরে সেখানকার চোরাচালনকারী চক্র স্বর্ণগুলো সমীরের কাছে হস্তান্তর করে। এইসব স্বর্ণগুলো যশোরের বেনাপোল হয়ে ভারত যাওয়ার কথা ছিল। উদ্ধারকৃত ১৪৯টি স্বর্ণের বারের ওজন প্রায় ১৮ কেজি। এর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। এ ঘটনায় উদ্ধারকৃত গাড়িচালক সজিব ও রনির স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

স্বর্ণ উদ্ধারের পর রামপুরা থানা থেকে প্রত্যাহারকৃত ওসি কৃপাসিন্ধু বালা জড়িত আছেন কিনা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি। এ ঘটনার সঙ্গে রমনা জোনের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান জড়িত কিনা অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অপরাধী- অপরাধীই, তার কোন পরিচয় নেই

শেয়ার করুন