তদন্ত করে অনিয়মের নির্বাচন বাতিল করা উচিত

0
101
Print Friendly, PDF & Email

একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য সবাই আইন-গত, প্রশাসনিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। ১৯৯০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া দেশে মোটামুটি একটি গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকারের রূপ, আকার এবং সরকার পরিবর্তনের ধরন পাল্টে গেল।
পঞ্চদশ সংশোধনীর ধারাবাহিকতায় আন্দোলন ও সহিসংতা হয়েছে। অনুষ্ঠিত হয়েছে একতরফা নির্বাচন। এর মাধ্যমে আইনগত ও সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে এ সরকার অবৈধ।
আর এই দুর্নাম ঘোচাতেই সরকার কৌশল হিসেবে তড়িঘড়ি করে উপজেলা নির্বাচন দেয়। পরীক্ষামূলকভাবে এবং দলের তৃণমূল চাঙা করতেই হয়তো নির্বাচনটি দেওয়া হয়েছে। নইলে এত দ্রুত এই নির্বাচন দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। কারণ নির্বাচনের আগে উপজেলা পরিষদের আইনগত ও প্রশাসনিক যেসব সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর সমাধান করা উচিত ছিল।
উপজেলা নির্বাচনে দেখা গেল, সহিংসতা ও অনিয়ম যখন বাড়ল তখনই ফল উল্টে গেল। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও সম্মানজনক অবস্থানে ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের জাতীয় ও স্থানীয় নেতাদের কেউ কেউ অসহিষ্ণু হয়ে উঠলেন।
নির্বাচন কমিশন পুরো ঘটনা চেয়ে চেয়ে দেখল। প্রথমদিকে নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও কমিশন ছিল নীরব। এরপর দেখা গেল যে উপজেলায় নির্বাচন সেখানে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। সাংসদের নির্দেশ মানার সংস্কৃতি এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কিছু এলাকায় এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব পড়ল। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলো বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার শুরু করল। তখন দলগুলোকে কমিশন সতর্ক করতে পারত। তা ছাড়া মন্ত্রী-সাংসদদের কেউ কেউ এলাকায় গিয়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিলেও কমিশন কিছু বলেনি।
দফায় দফায় নির্বাচন হওয়ার অভিজ্ঞতাও ভালো হয়নি। এতে একটি নির্বাচনের ফল দেখে পরের নির্বাচনে অনিয়ম করে হলেও জয়লাভের চেষ্টার প্রবণতা তৈরি হয়। ভারতে দফায় দফায় নির্বাচন হলেও ফল প্রকাশ হয় একই দিন। তবে বাংলাদেশে এক দিনে ফল প্রকাশ করার বিষয়টি সন্দেহের জালে জড়িয়ে যেত।
এই নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়মের বিষয়গুলো লুকানোর সুযোগ নেই। নির্বাচনকে ‘সুষ্ঠু’ বলে নির্বাচন কমিশন অন্যায় করছে। তবে ঢালাওভাবে সব উপজেলার নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করাও ঠিক হবে না। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উচিত সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজ দেখে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম হওয়া উপজেলার নির্বাচন বাতিল করা। এটা করলে তাদের ভাবমূর্তি উদ্ধার হতে পারে। ভবিষ্যতের জন্যও বিষয়টি শিক্ষণীয় হবে। তা ছাড়া দলীয় পরিচয় না দেখে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সবাইকে কাজ করার সমান সুযোগ দিতে হবে

শেয়ার করুন