ভারপ্রাপ্ত সিইসির মন্তব্য

0
68
Print Friendly, PDF & Email

নির্বাচন কমিশন (ইসি) বর্তমানে চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নেতৃত্বে। তিনি গত রোববার সংবাদ সম্মেলনে এমন এক মন্তব্য করলেন, যা কোনোভাবেই ‘প্রধান’সুলভ তো নয়ই, ইসির কারও কাছ থেকেই এটি প্রত্যাশিত নয়। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণকে তিনি উল্লেখ করেছেন বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়ার ‘নাকে খত’ দেওয়া হিসেবে।
এটা ঠিক যে ভারপ্রাপ্ত সিইসি এই মন্তব্য করেছেন ইসি সম্পর্কে খালেদা জিয়ার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে। খালেদা জিয়া ও তাঁর দল গত ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি এবং তাঁর ভাষায়, ইসি হচ্ছে একটি ‘অথর্ব ও মেরুদণ্ডহীন’ প্রতিষ্ঠান। খালেদা জিয়া ইসির সদস্যদের পদত্যাগও চেয়েছেন। কিন্তু রাজনীতিকদের মেঠো বক্তৃতার জবাব কেন ইসিকে দিতে হবে?
ইসি একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত বা বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আয়োজন করা প্রতিষ্ঠানটির কাজ। সব ধরনের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়া আছে। দেশের সব রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জনের কঠিন কাজটিও ইসিকে করতে হয়। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ এবং সে জন্য ইসির প্রতিটা পদক্ষেপ, কর্মকাণ্ড ও অবস্থান থেকে শুরু করে যেকোনো ধরনের মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, বিএনপির এ ধরনের অবস্থানের ক্ষেত্রে হয়তো ইসির করণীয় তেমন কিছু ছিল না। কিন্তু বিএনপি অংশ না নেওয়ায় সেই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি—এ কথাও মানতে হবে। উপজেলা নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে না হলেও বিএনপির নেতা-কর্মীরা দলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এই নির্বাচন ইসিকে তাদের নিরপেক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ার একটি সুযোগ ও পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। ইসি সম্পর্কে খালেদা জিয়ার যে সমালোচনা, তারও একটি জবাব ইসি দিতে পারত অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
কিন্তু আমরা দেখছি, দফায় দফায় যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ও হচ্ছে, তাতে ইসি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে তাদের সদিচ্ছা ও দক্ষতার প্রমাণ রাখতে পারেনি। নির্বাচন নিয়ে সহিংসতা, জাল ভোট দেওয়া, ভোটকেন্দ্র দখলের মতো যে বিষয়গুলো আমাদের নির্বাচনী সংস্কৃতি থেকে বিদায় নিয়েছিল, বলতে গেলে তার সবই ফিরে এসেছে এবারের উপজেলা নির্বাচনে।
একদিকে ইসি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে; অন্যদিকে যদি ভারপ্রাপ্ত সিইসি বিএনপিপ্রধানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতার মতো করে বক্তব্য দেন, তখন এটা পরিষ্কার হয় যে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা, বাড়ানো ও নিরপেক্ষ অবস্থানে দৃঢ় থাকার কোনো চেষ্টা বা আগ্রহ ইসির বর্তমান নেতৃত্বের নেই। ভারপ্রাপ্ত সিইসি খালেদা জিয়া সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তা এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর বলেই মনে করি।

শেয়ার করুন