সচিবসহ ২০জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিচ্ছে না দুদক!

0
138
Print Friendly, PDF & Email

প্লট বরাদ্দে অনিয়ম পেলেও প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন, তার পরিবার ও রাজউক কর্মকর্তাসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিচ্ছে না দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব থাকাকালে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ড. খন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে।
 
অভিযোগ রয়েছে, ওপর মহলের হস্তক্ষেপ থাকায় তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিলের ১৫ দিনেও কমিশন মামলার অনুমোদন দিতে পারছে না। এ বিষয়ে দুদকের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কেউ মুখ খুলতেও রাজি হননি।
 
সূত্র জানায়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব থাকা অবস্থায় ড. খন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়মের সংশ্লিষ্টতা পায় রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি।
এদিকে, দুদকের প্রতিবেদনে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এই সচিবসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে কমিশনের কাছে মামলার অনুমোদন চেয়েছেন।
 
অভিযুক্তরা হচ্ছেন- প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন, তার স্ত্রী ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ড. আয়েশা খানম, মা জাকিয়া আহমেদ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নুরুল হুদা, সাবেক দুই চেয়ারম্যান মো. শহীদ আলম ও মো. আজিজুল হক, সাবেক বোর্ড সদস্য কে এ এম হারুন, মো. নাসির উদ্দিন, রেজাউল করিম তরফদার, নাজমুল হাই, বর্তমানে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আখতার হোসেন ভূঁইয়া, বর্তমানে ঢাকা (উত্তর) সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, খাদ্য অধিদফতরের প্রকল্প পরিচালক এম মাহবুব উল আলম, রাজউক পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও মো শামসুল আলম, কর্মকর্তা মো. শওকত আলী,  শাহ মো. ছদরুল আলম, মো আবু মুসা, এ কে এম আহসান ইকবাল ভূঁইয়া।
 
সূত্র জানায়, প্লট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় সচিব, তার স্ত্রী-মা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নুরুল হুদা, সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল হকসহ বিভিন্ন সময়ে কাজ করা রাজউক বোর্ডের ১৫ সদস্যকে দায়ী করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

এ সব বোর্ড সদস্যরা ২০০৫, ২০১০ ও ২০১১ সালে রাজউকের বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল হক ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাজউকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
 
জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে অনুসন্ধান শেষে এই প্রতিবেদন কমিশনে জমা হয়, গত ১৬ই মার্চ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরস্পরের যোগসাজশে এবং ব্যক্তিগত সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে সচিবসহ অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তারা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ দুর্নীতি করেছেন।
 
অভিযোগ রয়েছে, ড. খন্দকার শওকত হোসেন ২০০১ সালে সম্প্রসারিত উত্তরা প্রকল্পে নিজের নামে তিন কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন। সেটাকে অনিয়মের মাধ্যমে তিন কাঠা থেকে পাঁচ কাঠায় রূপান্তর করেন। সেখান থেকে আবার দুই কাঠা জমি বিক্রি করে দেন। কিন্তু পরে ওই জমি ডেভেলপমেন্টের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার সময় পুরো পাঁচ কাঠার আমমোক্তার (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) প্রদান করেন এ সচিব।
 
একইভাবে পূর্বাচল প্রকল্পে ২০০৪ সালে শওকত হোসেনের স্ত্রী ড. আয়েশা খানমের নামে সাড়ে সাত কাঠার প্লট বরাদ্দ নিয়ে প্রথমে ১০ কাঠা এবং পরে ওই জমি সাড়ে ১২ কাঠায় উন্নীত করেন।
 
রাজউকের উত্তরা আবাসিক প্রকল্পে অভিনব কায়দায় জালিয়াতি করে সচিব তার মায়ের নামে নিয়েছেন তিন কাঠার প্লট। একই পন্থায় ওই তিন কাঠার প্লট আয়তনে বাড়িয়ে পাঁচ কাঠায় উন্নীত করেন তিনি।

উল্লেখ্য, রাজউকের এ সব প্রকল্পে একটি পরিবারের জন্য কেবল একটি প্লটই বরাদ্দের নিয়ম রয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক যতন কুমার রায় এ ঘটনার অনুসন্ধান করেন। এ অনুসন্ধান তদারকি করেন যথাক্রমে দুদকের পরিচালক আবু তোরাব এবং মহাপরিচালক মো. জিয়াউদ্দিন।

শেয়ার করুন