বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া : দুই সর্বহারার শেষ সাক্ষাৎ

0
48
Print Friendly, PDF & Email

দু’দলের মধ্যে এক জায়গায় দারুণ মিল। বাংলাদেশের মতো অস্ট্রেলিয়াও জয়শূন্য। হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়াও। যাদের সম্পর্কে ওয়াকার ইউনুস বলেছিলেন, ‘ট্রফিটা বোধহয় এবার অস্ট্রেলিয়াই নিয়ে যাবে।’ টি ২০-র পাণ্ডুলিপি রচয়িতা তখন হয়তো মুচকি হেসেছিলেন। এ এমন এক ফরম্যাট, যেখানে রাজা হয়ে যায় ফকির। অমিলও আছে। বাংলাদেশের লক্ষ্য সুপার টেনে খেলা। সেটা পূরণ হয়েছে। অসিদের লক্ষ্য ছিল শিরোপাখরা ঘোচানো। টি ২০ বিশ্বকাপ ট্রফি জর্জ বেইলির পূর্বসূরিরা জিততে পারেননি। ওয়ার্নার-ওয়াটসনদেরও ফিরে যেতে হচ্ছে খালি হাতে। মুশফিকুরদের জন্য এটা হতে পারে সান্ত্বনা। অস্ট্রেলিয়াই পারেনি। আমরা কোন ছার!
হংকং-লজ্জা সত্ত্বেও সুপার টেনে খেলার স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পর একের পর এক দুঃস্বপ্নের হানা। ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের সঙ্গে তিন হার। প্রতিবার আশার ভেলায় চড়ে হতাশার তীরে অবতরণ। গত পরশু পাকিস্তানের কাছে ৫০ রানে হারার পর মুশফিকুর বলেছেন, তারা এখন শেষ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে।
আজ সেই শেষবারের মতো তাকানো। এই ম্যাচটিকে দুই ‘সর্বহারা’র শেষ সাক্ষাৎ বললে অত্যুক্তি হবে না। জয়বঞ্চিত দুই সবল-দুর্বলের দ্বৈরথ। কিন্তু মুশফিকুররা যে ম্যাচের দিকে তাকিয়ে, ওয়ার্নাররা কোন দুঃখে সেই ম্যাচটিকে ‘অনুদানের’ উপলক্ষ বানাবেন? শিরোপা জেতার আশায় বাংলাদেশে আসা অস্ট্রেলিয়া কেন ফিরে যেতে চাইবে একটি জয়ও সঙ্গে না নিয়ে? সুতরাং, আশায় আশায় দিন যে গেল …।
স্বাগতিক হিসেবে বাংলাদেশের টি ২০ বিশ্বকাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে আজ। অঘটনের প্রত্যাশা করাও বিলাসিতা। এটা জানার পরও যে অস্ট্রেলিয়ার মতো বাংলাদেশেরও পয়েন্টের ঝুলি শূন্য। মুশফিকুররা যেমন অঘটনের জন্য প্রার্থনা করবেন, ওয়াটসনরাও তেমনি চাইবেন অন্তত একটা জয় নিয়ে ফিরতে। সোমবার ২০১০-এর চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডাচদের তাক লাগানো জয় প্রেরণা হতে পারে সাকিবদের জন্য। হাতের কাছে আরেকটা উদাহরণও আছে। ভারতের বিপক্ষে ১৬০ তাড়া করতে নেমে মাত্র ৮৬ রানে অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু আশায় বুক বাঁধলে তো শুধু হবে না। সামর্থ্যও যে থাকা চাই। মুশফিকুরদের কি সেই সামর্থ্য আছে! বাংলাদেশ জিতলে গোহারা থেকে বের হবার সাত্ত্বনার জয় হিসেবেই নয়, নিজেদের আত্মবিশ্বাসের তলানীতে কিছুটা চার্জও পাওয়া গেল। যা ভবিষ্যতের দিকে হাটার আলো হিসেবেও পথ দেখাবে।

শেয়ার করুন