সিল মারার মহোৎসব

0
138
Print Friendly, PDF & Email

জবর দখল, ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। বিগত ধাপের নির্বাচনগুলোর মতো পঞ্চম ধাপেও অব্যাহত ছিল ক্ষমতাসীনদের দাপট, নির্বাচন কমিশনের নিরবতা, নানা অনিয়মসহ দখলনীতি। চলেছে সিল মারার মহোৎসব। চতুর্থ ধাপের চেয়ে এই নির্বাচনে প্রাণহানীর ঘটনা কম হলেও অনিয়মের দিক থেকে আগের সব নির্বাচনকে ছাড়িয়ে গেছে এই ধাপ।
গতকাল সোমবার পঞ্চম ধাপে ৭৩ উপজেলায় ভোট গ্রহণ শুরুর পর থেকে সবকটিতেই ব্যাপক অনিয়মের খবর পাওয়া যায়। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মারমুখী অবস্থান, জবর দখল, কারচুপি, জালভোট, ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্বেই সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে রাখাসহ সবরকম অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে এনে ২৩ উপজেলায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থিত প্রার্থীরা। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে ১১ উপজেলা ও বরগুনা জেলায় আজ হরতাল ডেকেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। সহিংসতা ও অনিয়মের কারণে ১৯টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিতের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগ জোট সমর্থিত প্রার্থীরা ৫১টিতে, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ১৩টিতে, জামায়াত সমর্থিতরা ৩টিতে এবং অন্যরা ৬টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
পূর্বানুমিতভাবেই গতকাল শুরু হয় পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ। প্রথম ধাপ থেকে চতুর্থ ধাপ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে প্রতিটি নির্বাচনে সহিংসতা, অনিময় ও দখলের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় পঞ্চম ধাপ নিয়ে নির্বাচনের পূর্বেই শঙ্কা তৈরি হয় প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে। তাদের সেই শঙ্কা অনুযায়ী এই ধাপের নির্বাচনেও ঘটেছে ব্যাপক অনিয়ম, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা। যদিও নির্বাচনের আগে থেকেই এ ধরনের পরিস্থিতির কথা মৌখিক ও লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছিল প্রার্থীরা। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাও অবগত ছিলেন বিষয়টির। এমনকি গতকাল ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই সারাদিনই নির্বাচন কমিশনে ফ্যাক্স, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ আসতে থাকে। অনিয়মের কারণে একের পর এক উপজেলায় ভোট বর্জন করতে থাকে বিএনপি ছাড়াও স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল সমর্থিত প্রার্থীরা। তবে কোন কিছুতেই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি কমিশন। বরং সারাদিনই গণমাধ্যমকে এড়িয়ে গেছেন নির্বাচন কমিশনাররা। ফলে মুখে কেবল নির্বাচনে সহিংসতা রোধের বুলি আওড়ালেও বাস্তবে কমিশনকে দেখা গেছে ভিন্ন ভূমিকায়।
এতো কিছুর পরও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এড. জাহাঙ্গীর কবির নানক এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু উল্লেখ করে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতিরা এ নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে এ নির্বাচন কমিশন সকল নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছে। তাই নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। আর উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুর্ধর্ষ ডাকাতির মাধ্যমে বিএনপির বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ নির্বাচনে অংশ নেয়া আমাদের আন্দোলনের একটা অংশ। আমরা আন্দোলনেই আছি। তবে পঞ্চম ধাপের ভোটে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ পাওয়া গেলেও সংঘাতে কোনো মৃত্যু না ঘটায় সন্তোষ জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের রুটিন দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক। গতকাল ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, আল্লাহর কাছে শোকর, তেমন কোনো মৃত্যু-অপমৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রগুলো বন্ধ না হলে ভালো হত। সার্বিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে নির্বাচন কমিশনার মোবারক বলেন, ‘সামান্য গোলযোগ না হলে ভালো হত। যেসব নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ হচ্ছে, তা অফিসিয়ালি সুষ্ঠু হচ্ছে। ফলের গেজেটে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে ট্রাইব্যুনালে যেতে পারবে। ত্রুটি থাকলে প্রতিকার পাবেন, ইসি যা করছে, তা চূড়ান্ত নয়। ইসি জানিয়েছে, গোলযোগের কারণে ৫ উপজেলার ১৯টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করতে হয়েছে।
আর এ ধরনের নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘সেনাশাসিত সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, তারা বিরাজনীতিকীকরণ করে। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনে আমরা দেখলাম মানুষকে কীভাবে রাজনীতিবিমুখ করা হয়েছে। সহিংসতার আশঙ্কায় মানুষ ভোট কেন্দ্রে যায়নি। অতীতের নির্বাচনগুলোয় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ভোটারকে ভোট দিতে যেতে দেখা গেছে। এবারের নির্বাচনে নারীদের উপস্থিতি ছিল কম।’ তিনি বলেন, রাজনীতির যে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে তার অন্যতম উদাহরণ উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বাড়াবাড়ি। অথচ উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা খুবই সীমিত।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জালভোট, কেন্দ্রদখল, সরকারবিরোধী দলের প্রার্থীদের নির্বাচন বর্জন বিষয়গুলো ভোটারদের মনে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। যে অভিযোগগুলো উঠছে, নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে সেগুলো ভালো করে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি বলেন, এ ধরনের নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কলুষিত করে। নির্বাচন ব্যবস্থায় ভোটারদের আস্থার সংকট সৃষ্টি করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, আগের চার দফা নির্বাচনে উত্তরোত্তর সহিংসতা বেড়েছে। এ দফায় দৃশ্যমান সহিংসতা কম কিন্তু অদৃশ্য ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে ব্যাপকভাবে। নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে। ভোটাররা আসছেন, বাধা দেওয়া হচ্ছে না। আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে বলা হচ্ছে ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। দেখা গেছে, যারা নিজেদের প্রতিপত্তিশালী বলে মানুষের সামনে দাঁড় করাতে পারছেন, তারাই নির্বাচনে জয়ী হচ্ছেন। গতকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ।
অনিয়ম ও সহিংসতায় ভোটগ্রহণ : ভোটগ্রহণের দুই ঘণ্টা পরই কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতির অভিযোগে বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি ও অন্যান্য দল সমর্থিত প্রার্থীরা। সারাদিনে বিভিন্ন উপজেলা প্রার্থী ও বিএনপি অফিস থেকে ফ্যাক্সযোগে ও মোবাইলে অভিযোগ আসতে থাকে ইসিতে। ৭৩ উপজেলার বেশির ভাগ উপজেলাতেই এ ছিল নির্বাচনের চিত্র। এ যেন এক জবরদস্তির উৎসব। সকাল থেকেই বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেয়ার ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া যায়। কোথাও কোথাও রাতেই কেন্দ্র দখল করে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হয় বলেও জানা যায়। দখল আর জাল ভোটের অভিযোগে ২৩ উপজেলায় নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থিত প্রার্থীরা। এগার উপজেলা ও বরগুনা জেলায় হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট।
নির্বাচনী সহিংসতায় গতকাল ভোরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা একজন নিহত হয়েছে। টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য সবদলের সমর্থিত প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছে। সেখানে অনিয়মের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করা হয়। পরে পুলিশ অ্যাকশনে গেলে আন্দোলনকারীদের পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়। ফেনীর ছাগলনাইয়ায় অভিনব ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ভোট শুরুর আগেই বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে সরকার দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরা হয়। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার এই আসনেও কেন্দ্র দখল ঠেকাতে পারেনি বিএনপি। ভোট শুরুর আধা ঘণ্টা আগেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মেজবাহুল হয়দার চৌধুরী সোহেলের লোকেরা সালমা-নজীর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি বুথে ৫০০ ভোট দিয়েছেন। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করে মহাসড়কে অবরোধ করে বর্জনকারী প্রার্থীর সমর্থকেরা। এ সময় তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের সরিয়ে দিতে পুলিশ গুলি ছুড়লে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। সাতক্ষীরার তিনটি উপজেলায় প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যালটে সিল মারা ও এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরুর পরই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয় বলে জানা যায়।
লক্ষ্মীপুরের ৪ উপজেলা নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখল জালভোটের মহাসৎসব, বিভিন্ন স্থানে বিএনপি আওয়ামী লীগের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিএনপি জামায়াতের ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নে দূর্গাপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের পাশে সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি কবির হোসেন নিহত হয়েছে। নিহত যুবলীগ নেতা একই এলাকার শাখায়েত উল্ল্যার ছেলে।
প্রকাশ্যে সিল মারা : মুন্সীগঞ্জের  টঙ্গিবাড়ী, সিরাজদিখান ও লৌহজং-এ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে তাদের কর্মীরা প্রকাশ্যে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া যায়। সিরাজদিখানের মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মালপদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে সিল মারার চিত্রও দেখা যায়।
এদিকে, পঞ্চম দফায় কারচুপির অভিযোগে বরগুনা জেলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় হরতাল ডেকেছে বিএনপি।
নির্বাচন বর্জন করা উপজেলাগুলো হলো : সাতক্ষীরা সদর, তালা ও দেবহাটা, বরগুনার বামনা, পাথরঘাটা ও আমতলী, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, চুয়াডাঙ্গার সদর ও আলমডাঙ্গা, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, জামালপুরের মাদারগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আড়াইহাজার, কুমিল্লার চান্দিনাসহ ২৩টি উপজেলা। তিন উপজেলায় ৯ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
৭৩ উপজেলায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন: আওয়ামী লীগ: ৫১
১. ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আশরাফ উদ্দীন বাদল। ২. কিশোরগঞ্জের অষ্ট্রগ্রামে শহিদুল ইসলাম জেমস। ৩. ফেনীর ছাগলনাইয়ায় মেজবাহুল হায়দার। ৪. রাঙামাটির রাজস্থলীতে উথিন সিন মারমা। ৫. নোয়াখালীর সুবর্ণচরে খায়রুল আলম। ৬. পাবনার বেড়ায় আব্দুল কাদের। ৭. কক্সবাজারের টেকনাফে জাফর আহমেদ। ৮. সাতক্ষীরার দেবহাটায় আব্দুল গণি। ৯. বরগুনার বামনায় সাইফুল ইসলাম। ১০. চুয়াডাঙ্গা সদরে আসাদুল হক। ১১. বরগুনার পাথরঘাটায় রফিকুল ইসলাম। ১২. পাবনা সদরে মোশাররফ হোসেন। ১৩. মৌলভীবাজারের জুড়িতে এমএ মুহিত। ১৪.  রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল ইসলাম। ১৫. জামালপুরের মাদারগঞ্জে ওবায়দুর রহমান। ১৬. বরগুনা সদরে আব্বাস হোসেন। ১৭. নোয়াখালীর হাতিয়ায় মাহবুব মোরশেদ। ১৮. টাঙ্গাইলের গোপালপুর ইউনুস ইসলাম তালুকদার। ১৯. টাঙ্গাইলের মির্জাপুর মীর এনায়েত হোসেন মন্টু। ২০. চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে মো. শাহজাহান। ২১. লালমনিরহাট কালিগঞ্জে মাহবুবুজ্জামান। ২২. মৌলভীবাজারের রাজনগরে আকছির খান। ২৩. মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মহিউদ্দীন আহমেদ। ২৪. মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়িতে কাজী ওয়াহিদ। ২৫. কুমিল্লার চান্দিনায় তপন বকশী। ২৬. সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আজাদ রহমান। ২৭. মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ওসমান গণি তালুকদার। ২৮. সাতক্ষীরা সদরে আসাদুজ্জামান বাবু। ২৯. লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আলতাফ হোসেন। ৩০. টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নজরুল ইসলাম খান। ৩১. লক্ষ্মীপুর সদরে একেএম সালেহ উদ্দীন টিপু। ৩২. সাতক্ষীরার তালায় সনৎ কুমার। ৩৩. চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মো. হেলাল উদ্দীন। ৩৪. সিলেটের বিয়ানীবাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খান। ৩৫. লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে আব্দুল ওয়াহেদ। ৩৬. কুমিল্লার মুরাদনগরে সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম খসরু। ৩৭. নরসিংদীর মনোহরদীতে সাইফুল ইসলাম। ৩৯. পটুয়াখালির কলাপাড়ায় আব্দুল মোতালেব। ৪০. বরগুনার আমতলীতে দেলোয়ার হোসেন। ৪১. নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে শাহজালাল মিয়া। ৪২. সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মোহাম্মদ আলী। ৪৩. টাঙ্গাইল সদরে খোরশেদ আলম। ৪৪. ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া সদরে জাহাঙ্গীর আলম। ৪৫. নীলফামারী ডোমারে আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া। ৪৬. গাজীপুরের কালিগঞ্জে মোয়াজ্জেম হোসেন। ৪৭. লক্ষীপুরের রামগঞ্জে রুহুল আমীন। ৪৮. ময়মনসিংহের নান্দাইলে আব্দুল মালেক চৌধুরী। ৪৯. নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শাজাহান ভূঁইয়া। ৫০. ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার কসবায় আনিসুল হক ভুইয়া এবং ৫১. নরসিংদীর রায়পুরায় মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী।
বিএনপি: ১৩
১. কক্সবাজারের উখিয়ায় সরোয়ার জাহান চৌধুরী। ২. রাঙামাটির লংগদুতে তোফাজ্জল হোসেন। ৩. ময়মনসিংহের ত্রিশালে জয়নুল আবেদিন। ৪. সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে হারুন উর রশিদ। ৫. দিনাজপুরের হাকিমপুরে আকরাম হোসেন। ৬. দিনাজপুরের বিরলে বজলুর রশিদ। ৭. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে আবু আসিফ আহমেদ। ৮. দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আমিনুল ইসলাম। ৯. বগুড়া সদরে আলী আজগর হেনা। ১০. নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় আজহারুল ইসলাম মান্নান। ১১. নরসিংদী সদরে মঞ্জুর এলাহী ১২. গাজীপুরের শ্রীপুরে আব্দুল মোতালেব এবং ১৩. হবিগঞ্জের বানিয়াচং এ শেখ বশির আহমেদ।
জামায়াত: ৩
১. গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মাজেদুর রহমান। ২. রাজশাহীর পবায় মকবুল হোসেন এবং ৩. কক্সবাজার সদরে বিএম রুহুল্লাহ রহিম।
অন্যান্য: ৬
১. গাইবান্ধার ফুলছড়িতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হাবিবুর রহমান। ২. পটুয়াখালীর দশমিনায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন। ৩. কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী রফিকুল ইসলাম রিনু। ৪. খাগড়াছড়ির দিঘিনালায় ইউপিডিএফ প্রার্থী নব কমল চাকমা। ৫. রাঙামাটির বিলাইছড়িতে জনসংহতি প্রার্থী শুভ মঙ্গল চাকমা। ৬. সুনামগঞ্জের তাহেরপুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল।
এদিকে কেন্দ্র দখল এবং এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে ১৯ উপজেলায় নির্বাচন বর্জন করেছে ১৯ দল সমর্থিত, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
এগুলো হচ্ছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, ফেনীর ছাগলনাইয়া, জামালপুরের মাদারগঞ্জ, বরগুনার বামনা ও আমতলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, চুয়াডাঙ্গার সদর ও আলমডাঙ্গা, পাবনার তারাবুনিয়া, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, কুমিল্লার চান্দিনা, সাতক্ষীরার সদর, তালা, ও দেবহাটা, লক্ষ্মীপুর সদর ও রামগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার।

শেয়ার করুন