কেন্দ্র দখল ভোট বর্জন প্রকাশ্যে সিল সংঘর্ষ সহিংসতা পুলিশের গুলি –

0
70
Print Friendly, PDF & Email

ব্যাপক সংঘর্ষ-সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ভোট বর্জন, ব্যালট পেপারে প্রকাশ্যে সিল মারা, হামলা, অনিয়ম, কারচুপির মধ্য দিয়ে পঞ্চম পর্বের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ছোড়াগুলিতে আহত হয় অনেকে। লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক অফিস জানায়, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় নির্বাচন চলাকালীন সময়ে জালভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যদিয়ে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। দুপুরে ২টায় হায়দারগঞ্জ তাহেরিয়া মাদ্রাসার কেন্দ্রে সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা সাধারণ ভোটারদের মারধর ও জোরপূর্বক ব্যালট পেপার নিয়ে জাল ভোট দেয়। পরে প্রিজাইডিং অফিসার তাদের বাধা  দিলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। এদিকে উক্ত কেন্দ্রে সরকারি দলের সমর্থকদের জালভোট দেওয়ার প্রতিবাদে জামায়াত-বিএনপির সমর্থরা কেন্দ্রে হামলা চালালে আওয়ামী প্রার্থীর সমর্থকরা পাল্টা হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। অন্যদিকে আ’লীগ- জামায়াত সংঘর্ষের ঘটনায় রায়পুরের উদমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জাওডুগি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছেন প্রিজাইডিং অফিসার।
অপরদিকে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ জামিরতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি কর্মীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে তারা ভোটকেন্দ্রে ভাঙচুর করে কেন্দ্রের কয়েকটি ব্যালট বাক্সে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে।
এদিকে, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ভিপি আব্দুর রহিম ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার আ’লীগ বিদ্রেহী প্রার্থী মহিউদ্দিন বকুল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়ম
নোয়াখালী ব্যুরো জানায়, ব্যাপক কারচুপি অনিয়মের মধ্যে নোয়াখালীর হাতিয়া ও সূবর্ণচর উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাতিয়া উপজেলার হরণী ও চানন্দী ইউনিয়নের ১৬টি ভোট কেন্দ্র সকাল থেকে দখল করে নিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী (দোয়াত কলম) মার্কার সমর্থকরা। এসব কেন্দ্র আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর কোন পোলিং এজেন্টকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এসব ভোট কেন্দ্রের কয়েকজন এজেন্ট সাংবাদিকদের জানান, রোববার রাত থেকে জলদস্যুও বনদস্যু বাহিনীর লোকজন এজেন্ট ও উল্লেখিত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তাই হালার ভয়ে কেউ ভোট কেন্দ্রে যেতে সাহস করেনি। এছাড়া হাতিয়া উপজেলার মূল ভূখ-ের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্ট ছিল না। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ (আনারস প্রতীক) ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোঃ আলাউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, হাতিয়া উপজেলা প্রশাসন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ইচ্ছানুযায়ী কাজ করেছে। ভোটকেন্দ্রে পোলিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগেও ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। তাই উক্ত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান। এদিকে হরণী ও চানন্দী ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্রেগুলোতে গোপন কক্ষে ব্যালটে সিল মারার এমন ব্যবস্থা করেছে যাতে করে, কে কোন মার্কায় সিল মেরেছে- সেটা দূর থেকে দেখা যায়। এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা ইউএনও সাথে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তিনি ইতস্তত বোধ করেন। পরে বিষয়টি নোয়াখালী জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়।
সূবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সোয়া নয়টার দিকে ভোট কেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইকালে পুলিশ ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা ব্যালট পেপারে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীকে সিল মারতে দেখা গেছে। বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্ট দেখা যায়নি। এমনকি ভোটকেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী কিংবা সমর্থকদের দেখা যায়নি।

৩ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত
কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, গুলিবর্ষণ ও প্রকাশ্যে
নরসিংদী জেলা সংবাদদাতা জানান, ভোটকেন্দ্র দখল, প্রকাশ্যে সিল মারা, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, গুলিবর্ষণ, জালভোট প্রদান, হৈ হট্টগোল এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবার নরসিংদী জেলার নরসিংদী সদর, মনোহরদী ও রায়পুরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩৬৩টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ভোটগ্রহণ চলাকালে ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ভাঙচুরের অভিযোগে সদর উপজেলার ৫৯নং গদাইরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩১নং ভাগদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১২৭নং নিসুন্দরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ১২ নং নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্র দখল করে সিল মারার সময় প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশ-আনসার বাধা দিলে আওয়ামী লীগের উচ্ছৃংখল ভোট কর্মীরা একজন আনসারকে ঘুষি মেরে আহত করে। এতে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ১২ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এরপরও শেষ রক্ষা হয়নি। তারা কেন্দ্রটি দখলে নিয়ে যায়। সকাল ৯টায় হাসেম বাহিনীর নির্দেশে আওয়ামী লীগ নেতা হেলালের নেতৃত্বে ১০৪নং সাগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দখলে নিয়ে তাদের প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপরোয়া সিল মারে। প্রায় একই সময় বালাপুরের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আনারস মার্কার এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ কর্মীরা ভোটকেন্দ্র দখলে নিয়ে সিল মারে। তারা পর্যায়ক্রমে ১০৭ পাইকারচর হাফেজিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র, ১০৮ নং পুরানচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০৯ দক্ষিণচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দখলে নিয়ে সিল মারে। বেলা সাড়ে ১২টায় ৪ নং ভেলানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১নং বুথ দখল করে সিলমারার সময় সাংবাদিকরা ঘটনাটি জেলা প্রশাসককে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক ৩ জন পুলিং অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অবাহতি দেন। যার ফলে এই বুথে ১ ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। মনোহরদী উপজেলার ৩৯ নং ঘোষগাঁও সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অবাধে সিলমারার সময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বীরুর ভাই হীরু, বাবু, ফটোসাংবাদিক বেলালকে মারধর করে তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বাগীবাড়ী, পীরপুর ও ধরাবান্দা কেন্দ্র জোরপূর্বক দখলে নিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীরা প্রকাশ্যে সিল মারে। এসময় তারা বিএনপি কর্মী আব্দুল্লাহ ও জামায়াত কর্মী ফারুককে মারধোর করে এবং কেন্দ্র থেকে এজেন্টদেরকে বের করে দেয়।

তিন উপজেলায়ই বিএনপির ভোট বর্জন আজ হরতাল
সাতক্ষীরা থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা ও তালা উপজেলায় আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে জেলা জামায়াত। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ নুরুল হুদা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে, সাতক্ষীরার অনুষ্ঠিতব্য তিনটি উপজেলাতেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। আগে থেকেই ব্যালট কেটে বাক্স ভর্তি করা, বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ভোটারদের ব্যালট না দেয়া, সাধারন ভোটারদের ভোট কেন্দ্র যেতে বাধা, মারপিঠ, প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন অভিযোগে তিনিটি উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের সকল পদ থেকে বিএনপি এই ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও উপজেলা নির্বাচনের সমন্বয়ক কামরুল ইসলাম ফারুক সোমবার দুপুর ১২টায় নির্বাচন বর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তালা উপজেলায় বিএনপি দলীয় প্রার্থী বদরুজ্জামান মোড়ল, সদরের বিএনপি দলীয় প্রার্থী (কারাবন্দি) আব্দুর রউফ, দেবহাটার বিএনপি দলীয় প্রার্থী মহিউদ্দীন সিদ্দিকীসহ তাদের দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছেন। অভিযোগ দিলেও প্রশাসনের কেউ আমলে নিচ্ছেনা। এসব কারচুপিতে প্রশাসনের সহযোগিতা রয়েছে। এছাড়া অনেক কেন্দ্র ১২টার আগেই ৭০  থেকে ৭৫ ভাগ পড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি।
এদিকে, তালার হারুন-অর-রশিদ কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী কবীর হোসেন জখম হয়েছে।
সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা শহরের পল্লীমঙ্গল হাইস্কুল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন প্রতিপক্ষ কোন প্রার্থীর সমর্থকদেরকে ভোট কেন্দ্রের ভিতর প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। সদর উপজেলার বল্লী হাইস্কুল ভোট কেন্দ্রে একই অবস্থা বিরাজ করছে। ভোমরা প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে ব্যালট কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে বেশ কিছু ব্যালট পেপার জব্দ করা হয়েছে। তবে তার সংখ্যা তিনি জানাতে পারেননি।
কেন্দ্র দখল
ভোট বর্জন ও পুনঃ নির্বাচনের দাবি আধাবেলা হরতাল
চুয়াডাঙ্গা জেলা সংবাদদাতা জানান, জাল ভোট প্রদান, কেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা সদর-আলমডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত প্রাথীরা ভোট বর্জন ও পুনঃ নির্বাচনের দাবি করেছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রাথী মজিবুল হক মালিক মজু ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রাথীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। অপরদিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদুল কাউনাইন টিলু ও জামায়াত সমর্থিত প্রাথী নুর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু একই অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এছাড়াও দুই উপজেলায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রাথীরা ভোট বর্জন করেন। একই সাথে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আধাবেলা হরতাল আহবান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভোট বর্জনকারী প্রাথীগন জানান, চুয়াডাঙ্গা সদরের ৮৫টি এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা ১০৩টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। সকাল ৮টার পূর্বে গভীর রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সরকারদলীয় প্রাথীকে নীলনকশার মাধ্যমে জয়যুক্ত করার জন্য ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে রাখে। এছাড়াও আমাদের এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেয়া হয় ও বের করে দেয়া হয়। পুলিশের সহযোগিতায় সরকারদলীয় লোকজন ভোট কেন্দ্র দখল করে নিয়ে জাল ভোট প্রদান করে।
মুন্সীগঞ্জে কেন্দ্র দখলের মহোৎসব
মুন্সীগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জে তিনটি উপজেলা টঙ্গীবাড়ি, লৌহজং ও সিরাজদিখানে কেন্দ্র দখল, জালভোট প্রদান ও ব্যাপক সংঘর্ষের মধ্যে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অর্ধ-শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। লৌহজং এ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আলহাজ্ব মো. শাহজাহান খান কেন্দ্র দখল জাল ভোট প্রদান পুলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার প্রতিবাদে বেলা ১১টায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান এবং পুনঃভোট দাবি করেন।
জেলার তিন উপজেলা নির্বাচনে সকাল থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রগুলো নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ইচ্ছেমত জাল ভোট দেয় এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে প্রহরা বসিয়ে একক কতৃত্ব স্থাপন করে। এ সময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা অভিযোগ করেন কোন কোন কেন্দ্রে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগীতায় আ’লীগ কেন্দ্র দখল করে।
টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বলই, উত্তর পাইকপাড়া, বালিগাও, পাঁচগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দু পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পাঁচগাওয়ে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় এ অভিযোগে ইয়ার হোসেন ও সুমনকে ৬ মাসের করাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সিরাজদিখানে মালপদিয়া কেন্দ্র থেকে অস্ত্র উদ্বার করা হয়।

শাহজাদপুরে অর্ধদিবস হরতাল
সিরাজগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলাকালে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ এক কর্মীকে গুলি বিদ্ধসহ অন্তত ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে শাহজাদপুরে কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছে স্থানীয় বিএনপি। ভোট কারচুপি, এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অভিযোগে মঙ্গলবার অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি। এদিকে বেলকুচিতে নির্বাচন চলার সময় ২ ব্যক্তিকে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ।
বিকেলে বেলকুচি উপজেলায় খামার উল্লাপাড়া জিএসকেএল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আধিপত্যকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ কনষ্টেবল বেলাল হোসেন, জামায়াত কর্মী মওলানা ইয়াকুব আলী, আওয়ামী কর্মী চান আলী মেম্বার, শাহ আলমসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট, ৫ রাউন্ড চাইনিজ রাইফেলের গুলি ও ৪ রাউন্ড টিয়ারসেল ছোড়ে। পুলিশের ছোড়া গুলিতে আওয়ামী লীগ কর্মী জাহাঙ্গীরকে গুলিবিদ্ধসহ ২০ জনকে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদিকে উপজেলার গোপালপুরে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় অন্তত ১০ জন আহত হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপরদিকে আজুগড়া ও দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের বাইরে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ সময় অন্তত ৫ জন আহত হয়। এছাড়া আলহাজ সিদ্দিক স্কুলের কাছে দুপক্ষের সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃংখলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপরদিকে জাল ভোট দেবার সময় পুলিশ মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ ও সৌরভ নামের ২ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দিন বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। নির্বাচন পরিবেশ নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন। এ সময় সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন ও বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম তার সাথে ছিলেন।
সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহন শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। সকালে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

শাহজাদপুরে আজ অর্ধদিবস হরতাল
সোমবার দুপুরে প্রার্থী ইকবাল হোসেন হিরুর বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেল বিএনপি অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকেই শাহাজাদপুর সরকারী কলেজ, গাড়াদগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ কয়েকটি কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোট কারচুপি করেছে। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার অর্ধদিবস হরতালে আহবান করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে শাহজাদপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিস, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি হোসেন শহীদ মাহমুদ গ্যাদন, পৌর বিএনপি’র সভাপতি আরিফ হোসেন সহ স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে
বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন, কেন্দ্র দখল, সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা জানান, নির্বাচন বর্জন, নজিরবিহীন কারচুপি, জেলা বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের মারধর, কেন্দ্র দখলের মহোৎসব, সাংবাদিকদের উপর হামলার মধ্য দিয়ে ৫ম দফা উপজেলা নির্বাচন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, কসবা এবং আশুগঞ্জে সম্পন্ন হয়েছে। সদর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের মাছিহাতা ও বাসুদেব ইউনিয়নের দতাইসার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জগতসার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাসাইট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চান্দুপুর তমিজউদ্দিন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, চাপৈর সিনিয়র মাদ্রাসার, খেওয়াই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাসুদেব উচ্চ বিদ্যালয়, বরিশ্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ জগতসার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল থেকে সরকারদলীয় সমর্থকরা কেন্দ্র দখল করে অন্য প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোট ছাপানোর মহোৎসব শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে চান্দুপুর তমিজউদ্দিন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে কোন ভোটার না থাকলেও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের সহায়তায় একের পর এক ব্যালট বইয়ে সিল মারছে সরকারদলীয় সমর্থকরা। দুপুর ১২টার দিকে চান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যুবলীগ নেতা জসীমের নেতৃত্বে ভোট ছাপানোর সময় জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল¬া কচি, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট আনিছুর রহমান মঞ্জু, দপ্তর সম্পাদক এবিএম মোমিনুল হক, যুবদল আহ্বায়ক মনির হোসেন, বিএনপি নেতা এডভোকেট সামছুজ্জামান কানন গিয়ে দেখে ফেলে। তাদের বাধা দিলে জসীমের নেতৃত্বে সরকারী দলীয় ক্যাডাররা তাদের বেধড়ক মারধোর করে। সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে তাদের উপরও চড়াও হয় সন্ত্রাসীরা। তাদের মারধোর ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়।

পুলিশের ফাঁকা গুলি, আ’লীগের আজ হরতাল
রাঙ্গামাটি জেলা সংবাদদাতা জানান,
রাঙ্গামাটি শহরে ৭টি ভোট কেন্দ্রে জাল ভোট ও কেন্দ্র দখল নিয়ে গোলযোগ, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও পুলিশের ফাঁকা গুলিবর্ষণের মধ্যে দিয়ে রাঙ্গামাটির সদর উপজেলাসহ ৪টি উপজেলার নির্বাচন শেষ হয়েছে। রাঙ্গামাটি শহরে গোলযোগের সময় ৮টি কেন্দ্রে কিছু সময় ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। এই নির্বাচনে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত আহত ৮ জনকে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছিনতাই, কেন্দ্র দখল ও ১৯টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার প্রতিবাদে এবং সদর উপজেলার ৩৬ টি কেন্দ্রে পুনঃ নির্বাচন দাবিতে আজ ১ এপ্রিল রাঙ্গামাটিতে সকাল সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগ।
গতকাল সোমবার রাঙ্গামাটি প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোঃ মুছা মাতব্বর এই হরতালের ডাক দেন।
এদিকে গতকাল ভোট গ্রহণ চরাকালে দুপুরে রাঙ্গামাটি শহরের গোধুলি আমানতবাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দখলের চেষ্টা করে ২শ ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়া হয়। পুলিশ এ সময় ৫ রাউন্ড ফাকা গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় আটক করা হয় ১ জনকে। এ সময় এ কেন্দ্রে বেশকিছু সময় ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। এর আগে রাঙ্গামাটি সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও জেএসএস সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট এর স্থানীয় প্রতিনিধিকে লাঞ্ছিত করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৮ জনকে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘাটাইলে ভোট বর্জনকারী প্রার্থীর সমর্থকদের উপর পুলিশের গুলি, আহত ৭
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় তিন প্রার্থী ব্যতীত অন্য দশ প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনকারী চেয়ারম্যান ও ভাইসচেয়ারম্যান এর ক্ষুব্ধ সমর্থকরা গতকাল সকাল আটটার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশ গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এসব কর্মী-সমর্থকদের হটিয়ে দেয়। গুলিতে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাড়া সকল প্রতিদ্বন্দ্বী আজ সকাল আটটার আগেই উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন। তারা আলাদা আলাদাভাবে লিখিত অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত তিন প্রার্থী একজোট হয়ে পাহাড়ি এলাকার সন্ধানপুর, ধলাপাড়া, রসুলপুর ও দেওপাড়া ইউনিয়নের পঁয়ত্রিশটি কেন্দ্র রাতেই দখল করে নিয়েছে। এসব কেন্দ্রে তারা সমস্ত ব্যালট পেপারে ইচ্ছেমতো সিল মেরেছে। প্রার্থীরা এসব কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করে অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। সহকারী রিটার্নিং কর্মকতা তাদের দাবি মেনে না নেয়ায় তারা একযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
প্রার্থীদের নির্বাচন বর্জনের খবর পেয়ে তাদের হাজার হাজার কর্মী সমর্থক উপজেলা পরিষদের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিক্ষুব্ধ জনতার সংখ্যা বাড়তে থাকে। বেলা সাড়ে এগারটার দিকে পুলিশ অতর্কিতে বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠি চার্জ করে। এতে কমপক্ষে সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

জাল ভোট, কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ গুলি ও নির্বাচন বর্জন
টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা জানান, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, নির্বাচন বর্জন, সংঘর্ষ গুলি ও ভোট কেন্দ্র স্থগিতের মধ্যে দিয়ে টাঙ্গাইলের চারটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) আরিফুর রহামন এবং ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) কানিজ ফাতেমার লোকজন রাতেই ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়িয়া এলাকার সন্ধানপুর, ধলাপাড়া, রসুলপুর, দেওপাড়া ইউনিয়নের পঁয়ত্রিশটি কেন্দ্র দখল করে নিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামাত ও বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ দশজন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করে। সোমবার সকালে সকল প্রার্থী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন এর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। বর্জনকারী প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, সরকারি দলের প্রার্থীর লোকজন সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে উপজেলার অবশিষ্ট চৌষট্টি কেন্দ্র দখল করে নিয়ে অন্যান্য প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়েছে।
পরে বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়, ঘাটাইল কলেজ মোড়ে বেলা ১২টার দিকে অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে অন্তত ৩০/৩৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ৭ জন আহত হয়।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মওলানা আব্বাস আলীকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কুপিয়ে আহত করে। গোপালপুর উপজেলার হেমনগড় ইউনিয়ন কেন্দ্রে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আজাদ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারে। এছাড়াও আলমনগড় ইউনিয়নের মাদারজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ইদ্রিসের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে সিল মেরে ব্যালট পেপার বাক্স্রে ভর্তি করা হয় বলে অভিযোগ করেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কাদের কবির উজ্জল। গোপালপুরের অন্তত ৪০টি কেন্দ্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দখল তরে নেয় বলে অভিযোগ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামছুল আলম তোফা। ভোট কেন্দ্রগুলো থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারের সামনেই সিল মারতে দেখা যায়।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী এম এ হামিদ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে  নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোটামুটি স্বাভাবিক ভোটগ্রহণ হয়। তবে এরপর থেকেই একে একে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখল করতে থাকে। প্রায় ৩০টি কেন্দ্র দখল করে নেয়ার অভিযোগ করেন এই প্রার্থী।  দুপুর দুইটার দিকে পৌর এলাকার কালিপুর সরকারি প্রাথমিক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্ট দের বের করে দেয়া হয়।
রূপগঞ্জ ও আড়াহাজারে নির্বাচন বর্জন
আড়াইহাজারে হরতাল, সোনারগাঁয় ৫ কেন্দ্র স্থগিত
নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার/রূপগঞ্জ/আড়াইহাজার/সোনারগাঁ উপজেলা সংবাদদাতা জানান, বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল করে প্রতিপক্ষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া, জাল ভোট এবং জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিল মারার মধ্য দিয়ে পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জের ৩ উপজেলা রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার এবং সোনারগাঁয় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে রূপগঞ্জ এবং আড়াহাজার উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেছেন। আড়াইহাজার উপজেলায় আজ মঙ্গলবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা।
এদিকে সংঘর্ষ এবং কেন্দ্র দখলের অভিযোগে সোনারগাঁ উপজেলার ৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। রূপগঞ্জে পুলিশের গুলিতে বিএনপির ১৫ জন নেতা কর্মী আহত হয়েছে। তবে এ ৩ উপজেলাতেই ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য।
রূপগঞ্জের বরপা এলাকায় হাজি নূর উদ্দিন আহম্মেদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল বেলাতেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন। এ চিত্র রূপগঞ্জ ছাড়াও আড়াইহাজার উপজেলাতেও দেখা গেছে। এছাড়া আড়াইহাজার উপজেলার ভোট কেন্দ্রগুলোতে নগণ্য ভোটারদের মধ্যে যারাই ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন তাদের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টরা প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করেছেন। এখবর ছড়িয়ে পড়লে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের যাওয়াই বন্ধ হয়ে যায়।
অভিযুক্ত সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার শওকত ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম বলেছেন, তারা আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টরা চাপ দিয়ে তাদের কাছে রক্ষিত ব্যালট পেপারে সিল মেরে দিয়েছে। কিন্তু সিল মারা ব্যালট পেপার ভাঁজ করে বাক্সে ফেলার আগেই সাংবাদিকরা চলে আসে।
এদিকে কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, জোর করে ব্যালট বাক্সে সিল মারাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুপুর ১২টায় প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী এমএ মাসুম মিলন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পারভীন নির্বাচন বর্জন করে সহকারি রিটানিং অফিসার গুলশান আরার কাছে লিখিত দেন। সেই সঙ্গে আজ মঙ্গলবার আড়াইহাজারে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেন।

সোনারগাঁওয়ে বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা ও সংষর্ষের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলায় মোট ১০৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। তা ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রতেই কখনো আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোশারফ হোসেনের সমর্থিত লোকজন আবার কখনো বিদ্রোহী প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের সমর্থিত লোকজন কেন্দ্র দখলে  নেওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।
কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, চেঙ্গাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খংসারদী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলতাপাড়া সিনিয়র আলীম মাদ্রাসা, ভবনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নানাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জোরপূর্বক ভোট প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এসব কেন্দ্রে বিভিন্ন সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ স্থগিত হলেও পরবর্তীতে চালু করা হয়।
সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণে গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক
সিরাজগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলাকালে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ এক কর্মীকে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে শাহজাদপুরে কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেছে স্থানীয় বিএনপি। ভোট কারচুপি, এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অভিযোগে মঙ্গলবার অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি। এদিকে বেলকুচিতে নির্বাচন চলার সময় ২ ব্যক্তিকে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ।
বিকেলে বেলকুচি উপজেলায় খামার উল্লাপাড়া জিএসকেএল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আধিপত্যকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ কনস্টেবল বেলাল হোসেন, জামায়াত কর্মী মওলানা ইয়াকুব আলী, আওয়ামী কর্মী চান আলী মেম্বার, শাহ আলমসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট, ৫ রাউন্ড চায়নিজ রাইফেলের গুলি ও ৪ রাউন্ড টিয়ার শেল ছোড়ে। পুলিশের ছোড়া গুলিতে আওয়ামী লীগ কর্মী জাহাঙ্গীরকে গুলিবিদ্ধসহ ২০ জনকে বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদিকে উপজেলার গোপালপুরে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় অন্তত ১০ জন আহত হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপরদিকে আজুগড়া ও দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের বাইরে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ সময় অন্তত ৫ জন আহত হয়। এছাড়া আলহাজ সিদ্দিক স্কুলের কাছে দুপক্ষের সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃংখলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপরদিকে জাল ভোট দেবার সময় পুলিশ মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ ও সৌরভ নামের ২ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
শাহজাদপুরে অর্ধদিবস হরতাল
সোমবার দুপুরে প্রার্থী ইকবাল হোসেন হিরুর বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেল বিএনপি অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকেই শাহাজাদপুর সরকারি কলেজ, গাড়াদগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোট কারচুপি করেছে। এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার অর্ধদিবস হরতালে আহবান করা হয়েছে।
ত্রিশালে ভোট কারচুপির অভিযোগ
ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অফিস জানায়, ময়মনসিংহের ত্রিশালে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুরে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের কাজীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালেটে সিল মেরে বাক্স বন্দি করে করে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মতিন সরকারের (ঘোড়া) লোকজন।
পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই কেন্দ্রে গেলে সিল �

শেয়ার করুন