শঙ্কা সত্ত্বেও হাল ছাড়েনি বিএনপি

0
45
Print Friendly, PDF & Email

রাত পোহালেই ৭৪ উপজেলায় ভোট। পঞ্চম দফা উপজেলা পরিষদের সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে চরম শঙ্কা সত্ত্বেও হাল ছাড়েনি দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি। তবে আসন্ন নির্বাচনে আরও বেশি সহিংসতার আশঙ্কাও দলটির। কেন্দ্র থেকে একক প্রার্থী করে বিজয়ী করে আনার শেষ চেষ্টা চালানো হলেও মাঠের নেতা-কর্মীরা হতাশায় ভুগছেন। হামলা-মামলায় জর্জরিত হয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলার নেতা-কর্মীদের অনেকেই ইতোমধ্যে ‘গাঢাকা’ দিয়েছেন। নানা অনিয়ম-অভিযোগ তুলে ধরে স্থানীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে হামলা-মামলাসহ আসন্ন উপজেলা নির্বাচনের নানা অনিয়ম তুলে ধরে গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপির দফতর সম্পাদক রুহুল কবীর রিজভী এক সংবাদ সম্মেলন করেন। বিএনপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের অভিযোগ- স্থানীয় প্রশাসনসহ ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেও নির্বাচন কমিশন থেকে তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। হামলা-মামলাসহ নানা বাধা সত্ত্বেও তারা আগামীকাল উপজেলা নির্বাচনে লড়ে যাবেন বলেও জানান। এদিকে হাল না ছেড়েও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সার্বিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা নির্বাচন পরিস্থিতি মনিটর করছেন। পঞ্চম দফায় দলের বিদ্রোহী প্রার্র্থীর পাশাপাশি পৃথকভাবে জামায়াত অন্তত ১১ উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী দিয়েছে। এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পঞ্চম দফায় প্রায় ২০ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না, তা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে। এটা কেবল গোটা বাংলাদেশের মানুষ নয়, বিদেশিরাও মনে করেন। পঞ্চম দফার নির্বাচনেও ভোট ডাকাতির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি ৩১ মার্চের পর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন। গফরগাঁও উপেজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মুশফিকুর রহমান ইতোমধ্যে ১৬টি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পরিবর্তন চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এসব অফিসারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, এসব অফিসার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ফাহমী গোলন্দাজ বাবেলের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ছাড়াও তার পক্ষে উন্নয়নের ভিত্তিফলক উদ্বোধনে অংশ নিচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নূর আহমেদ মজুমদার ভোট কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে স্থানীয় সব প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এদিকে চতুর্থ দফা পর্যন্ত প্রায় ১৩৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থী বহিষ্কার করা হলেও এবার বহিষ্কার করা হয়েছে হাতে গোনা কয়েকজন। গতকাল বরগুনার বামনা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মানজুরুর রব মর্তুজা হাসান মামুন এবং ময়মনসিংহ উত্তরের নান্দাইল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুল খায়ের বাবুল, কুমিল্লার মুরাদনগরে গোলাম কিবরিয়া সরকারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইভাবে বিএনপির কেন্দ্র থেকে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় আতাউর রহমান ও মুরাদনগর উপজেলায় মহিউদ্দিন অঞ্জনকে দলের একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ভোটের নামে সরকার তামাশা করছে। আমরা আশঙ্কা করছি, পঞ্চম ধাপে সহিংসতা আরও বাড়বে। আমাদের নামমাত্র কয়েকটি উপজেলা দেবে। প্রায় সব উপজেলায় তারা ভোট কেটে নিয়ে যাবে। তৃতীয় ও চতুর্থ দফা নির্বাচনের মতো ভোট ডাকাতি হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোয় সে আলামত দেখা গেছে।

স্থানীয় প্রশাসন, ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা করছে। বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করছে। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী উপজেলায়ও নির্বাচনের পর ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যশোরে এ ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, পঞ্চম দফায় নামকাওয়াস্তে নির্বাচন হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে না যায়, সে জন্য ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন